Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Aparup Sarbanash Ed. 1st"

See other formats


আগরূগ ঘর্বন[শ 


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 


অসীম 
১০/এ, বাঁঙ্কম চ্যাটবজ্জর্শ স্ট্রিট 
কলিকাতা ৭০০০৩ 


প্রথম সংস্করণ £ ৬লা ফেব্রুয়ার?, ১৯৬২ 


প্রকাশক ৪ 
ভোলানাথ দাস 

সুপ্রীম পাবালশার্সপ 

১০/এ, বাঁঙকম চ্যাটাজ্জশ স্ট্রীট 
কাঁলকাতা ৭০০০৭৩ 


প্রচ্ছদ 25 গণেশ বসন 


মুদ্ুক £ 
গোপালচন্দ্র পাল 

স্টার ধপ্রানণ্টং প্রেস 

২১/এ, রাধানাথ বোস লেন 
কলকাতা ৭০০০০৬ 


উৎসর্গ 


নিরঞ্জন হালদারকে 


অপন্পপ জর্ধনাশ 


তান ধূতির ওপর খদ্দরের লং কোট পরে বছলেন। তাঁর 
এখন আটান্ন বছর বয়েস, গত চাল্লশ বছর ধরে [তান এই একই 
পোষাক পরে আসছেন । মাঝে বার সাতেক ?বদেশ ঘুরে এসেছেন, 
তখন শীত নবারণের জন্য উলের পোষাক পাঁরধান করতে 
হয়েছিল । 

তিনি প্রায় ছঃ কুটের কাছাকাছ লম্বা, শরীর এখনো খজু, 
মাথা ভাঁতি চুল, সামান্যই পাক ধরেছে । প্রশস্ত কপাল, পুরু লেন্সের 
চশমা, ঠোঁটের ভাঙ্গতে একটু বক্ততা আছে, যাতে অহংকারঠর ভাব 
আসে, 1কন্তু তাঁর হা।স1ট এখনো নির্মল । তাঁর নাম সত্যপুক্দর 
আচায“। এটা তাঁর আসল নাম নয়, সন্বঘাসীরা যেমন নাম বদলায় 
1তাঁনও তেমাঁন অনেকাঁদন আগেই নতুন নাম গ্রহণ করে পৃর্বনাম 
বিস্মৃত হয়েছেন। তাঁর এক সীমা এখনো বেচে আছেন, 
একমান্র ?তাঁনই তাঁকে রাজ, বলে ডাকেন । 

1তাঁন গাড় থেকে নেমে লিফটের কাছে এসে দাঁড়ালেন । লিফট 
তখন ওপরে, আর অপেক্ষা না করে সশড় ?দয়ে উঠতে লাগলেন, 
ততক্ষণে একজন আদাঁলি পাগলের মতন লিফটের বেল িপছে। 
[তি সটান উঠে এলেন তিন তলায় । তন চারজন বেয়ারা-আদ্াল 
ব্যস্ত সমস্ত হয়ে তাঁর কামরার দরজা খুলে দল সসম্দ্রমে। কেউ 
অবশ্য নমস্কার অথবা সেলাম করলো না । তান প্রথম [দিন এসেই 
সকলকে ডেকে বারণ করে 1দয়েছেন । 

1ত'ন তাঁর চেয়ারে বসে টোবিলে ঢেকে-রাখা জলের গেলাসে 
চুমুক '?দলেন। পকেট থেকে একটা ছোট চামড়ার বাক্স বার 
করলেন । তাতে চার পাঁচটা চুরুট, একটা বেছে নিয়ে ধরালেন যর 
করে, প্রথম বার ধোঁয়া ছেড়ে ঠতাঁন আপন মনেই বললেন বাঃ। 


৩ 


সত্যসুন্দর আচার্য কেন বাঃ বললেন 2 এক একটা চুরঃট থাকে, 
যেটা থেকে ঠকছুতেই সহজে ধোঁয়া বেরুতে চায় না। যত দামী 
চুরুটই হোক, তার মধ্যে একটা এ রকম থেকেই যায়। হয়তো 
চুরুটের সামান্য একটু ঠাণ্ডা লেগেছে, অথবা কোথাও রয়েছে একটা 
সুক্ষ ছদ্রু। যাদের চুরুট খাওয়ার অভ্যেস আছে, তারাই শুধু 
বুঝতে পারবে, এই ধরনের চুরুট ধরাবার পর ক রকম মেজাজ 
খারাপ হয়ে যায় । অপর পক্ষে চুরুটের প্রথম টানেই সাবলীল ধোঁয়া 
এলে মেজাজ পাঁরতৃপ্ত হয় । তান ?ক সেই কারণেই বাঃ বললেন ! 

1কংবা এমনও হতে পারে, তানি তাঁর সম্পূর্ণ জীবন সম্পকেই 
পারতৃপ্ত। কোথাও কোনো গ্লানি নেই । জীবনে কোথাও পরা?জত 
হননি, তাই 1নজেকে শোনালেন এ কথাটা । অথবা এমনও হতে 
পারে, ইদানীং মধাাহ ভোজনের পর একটু একটা বায়ুর চাপ দেখা 
দেয়, আঙ জপ খেয়েও সেই বায়ুর আন্তত্ব বোধ করলেন না বলে 
উচ্চারণ করলেন এ আনন্দের টীন্তু। 

মোট কথা, এই বয়েসেও, সত্যসন্দর প্রায়ই ?নজের সঙ্গে কথ! 
বলেন। 

চুরুট হাতে ানয়ে তান উঠে এলেন জানালার কাছে । তাঁর 
আঁফপের এই ঘর।টর অবস্থান খুব ভালো । জানলা 'দয়ে দেখা যায় 
কলকাতার সবচেয়ে সুন্দর জাগার এক টুকরো দশ্য। ইডেন 
গাড়েনস, কেল্লার ধারের প্রান্তর, গঙ্গা, কয়েকাঁট বিদেশী জাহাজ ও 
অনেকখান আকাশ । 

1দন1ট সুন্দর, শীতকালের ঝকঝকে রৌদ্রের দুপুর, অল্প 
অল্প নরম হাওয়া । 

জানলায় কোনো শুক নেই, তান বাইরের দিকে একটু ঝুকে 
দেখতে লাগলেন সেই দ:শ্য, পুনরায় বললেন, ওরা বেশ আছে। 

কারা? 

গঙ্গার পা*্ববিতাঁ স্টাশ্ডে এই দুপরবেলাতেও কয়েকজন 
তরুণ তর.ণঈকে হাঁটতে দেখা যায় । কয়েকজন বেণ্টের অনেকখানি 


5 


জায়গা রেখে বসেছে খুব পাশাপাশি । তাঁর আঁফস থর থেকে এই 
দৃশ্য বেশ দূর তবু মোটামুটি বোঝা যায়। তিন ঠিক তরুণ 
তরুণীদের দিকেই তাঁকয়ে নেই । আউটগ্রাম ঘাটের 1ঠক পাশেই 
বেদে বেদেনীদের কয়েকটা তাঁবু পড়েছে । বছরের এই সমঞ্টা প্রাত 
বারহ ওরা আসে, নানা জাতের কুকুর [বাক্ত করে ওরা । গন্ডারের 
খড়া এবং বাদ্বের অণ্ডকোষ 1নয়েও নাকি গোপনে কারবার করে 
এমন শোনা যায়। এখন দুপুরবেলা ঘাঘরা পরা বেদেনীরা 
ফুটপাথের ওপরেই উনুন জবালিয়ে রানা চাপিয়েছে-াখদ্ঁড়িতে 
এত বেশী হলুদ ঢেলেছে যে গাঢ় হলুদ রং দূর থেকেও বোঝা 
যায়। নদীর বুকে অনেক ছোট ছোট নৌকো । একটা নৌকোর 
দুদক থেকে দ1ট কিশোর ছেলে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, স্রোতের 
সঙ্গে লড়াই করে সাঁতার কেটে আবার ফিরে আসছে । এই. রকম 
খেলায় ওরা অনেকক্ষণ মেতে আছে । 

এই সব দংশ্য কছুক্ষণ চোখে রেখে তানি আবার ফিরে এলেন 
চেয়ারে । এখন কাজে বসবেন। 

ভারত সরকার সদ্য যে তৃতীয় ভাষা কাঁমশন বাসয়েছেন, তাতে 
সত্যস,ন্দর চেয়ারম্যান নিযুস্ত হয়েছেন । এক বছর-দেড় বহরের 
কাজ। সারা জীবনে 1তানি কক্ষনো বাঁধা চাকার করেন নি, তবে 
এই ধরনের কাজ 1নতে হয়েছে মাঝে মাঝে । 

1ত1ন কয়েকাঁট ফাইল খুলে িপোট পড়তে লাগলেন। চশমাটা 
বদলে কাছে দেখার চশমাটা পরে 1নয়েছেন। এখন তাঁর ঠোঁটটি 
আরও বাঁকা দেখায়, সেই জন্য বেশঈ অহংকারী মনে হয় । অপরের 
লেখা যে-কোনো [জানিস পড়তে গেলেই তাঁর ভেতরে এই রকম 
একটা অবহেলার ভাব আসে । 

কয়েক মাস পরেই পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ঘ্বুরতে হবে 
তাঁকে, সাক্ষী নিতে হবে অনেক লোকের ।॥ তিনি সেই জন্য প্রস্তুত 
হচ্ছেন। আফসে এবং বাঁড়তেও । তাঁর স্তী লীলা মফ:স্বলে 
বেড়াতে ভালোবাসে না। সত্যসহন্দরের সঙ্গে তাকে ভারতের 


৫ 


হু জায়গায় এবং বাইরের নানা দেশে ঘুরতে হয়েছে, তবু তার 
মধো ভ্রমণের নেশা ধরোন । াবশেষত মফঃস্বলে সন্ধের পর যে 
জন জীবন, তা তার সহ্য হয় না। যাঁদও, সত্যাসংন্দর যেখানেই 
যাবেন, প্রত্যেক জায়গাতেই সাকিট হাউসে তাঁর জন্য আগে থেকে 
রিঞ্জাভেশন থাকবে, খাওয়া থাকার কোনো অসাবধে নেই, এবং 
ইচ্ছে হলেই [তান সরকার গাড়তে যে-কোনো বিখ্যাত দশ্য, 
সংরাক্ষত অরণ্য বা দুর্গম জলপ্রপাত দেখে আস্তে পারেন। 
ললার ওসবও ভালো লাগেনা। লীলা সবচেয়ে অপছন্দ করে 
অচেনা মানুষ । সত্যসুন্দর যে-কোনো জায়গায় গেলেও বহু 
লোক আসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, তাদের সঙ্গে আলাপ পাঁরচয়ের 
একঘেয়োমতে লীলা আতন্ঠ হয়ে ওঠে । লঈলার বয়েস সত্য- 
সন্দরের অ্ধেক--এই ব্যাপারে বাইরের লোকের কৌতূহলের শেষ 
নেই। 

সত্যসুন্দর হকম দয়ে রেখেছেন, লশীলাকে যেতেই হবে তার 
সঙ্গে । লালা প্রবল আপাত্ত জানয়েছে। কিন্তু আরও দু মাস 
সময় আছে--এতাদন ধরে লালা সত্যসুন্দরের অনড় আদেশের 
সঙ্গে যুঝতে পারবে না। 

সত্যসংন্দর বেল বাজালেন। আদিল এসে দাঁড়াতেই তানি 
বললেন, প্রবীর চক্রবতরীকে ডাকো । 

(তান কখনো তাঁর সংকমর্শদের প্রবীরবাবু বা বিমলবাবু বলেন 
না; আদালদের কাছে বলেন না চক্রবতন সাহেব বা সেন সাহেব । 
তাঁস অনেক রকম বাতিক আছে । এরকম গঞ্প আছে যে,তিন এক- 
বার কেন্দ্রের এক মন্ত্কে হঠাৎ ধমক দিয়ে বলেছিলেন, যে বিষয়ে 
মানুষ কম জানে, সে বিষয়ে বেশী কথা বলা তার উচিত নয় । 

সত্যসুন্দর ইংরোজ এবং জামনি ভাষায় গবেষণা গ্রন্য লিখে- 
হেন । যৌবনে তান আফগানগ্তান সীমান্ত ধরে পায়ে হেটে 
রুশ দেশে ?গয়োছলেন । এক সময় সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে তাঁর 
কিছু যোগাযোগ ছিল। পরবতর্শকালে রাজনীতির সঙ্গে সমস্ত 


৬ 


দম্পক' 1ছন্ন করে তান জ্ঞানচচয়ি মন দেন। ভাষাতত্তের সাহায্যে 
সামাজিক ইতিহাস ?নমাণের বঝাপারে তিনি পাথবীর প্রধান 
পাণ্ডতদের মধ্যে একজন । তান দুঃসাহসী পুরুষ? তিব্বত 
ও বেল7াচস্থানে তান কয়েকবার বেশ বিপদে পড়ো ছিলেন, একা- 
[ধিকবার প্রাণ সংশয় হয়েছিল, রীতমতন রোমাঞ্চকর জীবন । এক 
শতাব্দী আগে জন্মালে তিনি অবশ্যই একজন দেশবরেণ্য হতে 
পারতেন । এ যুগেও, যাঁদ [তান ধর্মপ্রচার 1কংবা রাজনীতিতে 
নামতেন, তা হলে সাড়া ফেলে দতে পারতেন অনায়াসে । কিন্তু 
1তঃন ঘোর নাঁন্তক এবং মানবতা টানবতা ইত্যাঁদ বড় বড় কথাকে 
উপহাস করেন। 

আদালি এসে জানালো, প্রবীর চক্রবতর্শ তখনও লাণ্ থেকে 
ফেরেন ন। 

সত্যসংন্দর বললেন, আচ্ছা । 

[তান টোবিলে পাতা ব্রটারের ওপর ছেলেমানুষের মতন লাল 
পোঁন্সিল [দয়ে 1হ1জাবাঁজ কাটতে লাগলেন, তারপর বাংলা ও 
ইংরোজতে দহ” বার লিখলেন, লাগ । ?তানি ভাবছেন, লা কথাটার 
কোনো যুৎসই প্রাতশব্দ পাওয়া গেল না। আর খুজে লাভ নেই 
বোধ হয় । মধ্যাহ্ন ভোজন চলবে না, অন্য কোনো খউমটো শব্দের 
তান বরোধন । তবে, 1টাঁফন কথাটার একটা চমৎকার প্রাতশব্দ 
1ছল, জল খাবার, 1কন্তু সেটাও তো চললো না তেমন । বাড়তে 
অনেকে এখনও জল খাবার খায় বটে, ?1কন্তু আফস থেকে 
বোরয়ে কেরানীরা সবাই 1টাঁফন খেয়ে আপে ! আদা লরাও 
[ট1ফন করতে যায়। 

সাড়ে 1তনটে বাজে, প্রবীর এখনো লাণ্ থেকে ফেরে নি, তার 
মানে সে আর আফসে নাও আসতে পারে ॥ সত্যসুন্দর তার সমস্ত 
নহকম্খদের বলে দিয়েছেন, যে যখন খুশী আফসে আসতে 
পারে, যখন খুশী চলে যেতে পারে । তার কাছে কারুর ছহাট 
চাইবার দরকার নেই। তান জোর করে কাজ করানোতে বিবাস 


৭ 


করেন না। প্রত্যেক তন মাস অন্তর যার ষেটুকূ কাজের দায়ত্ব 
দেওয়া আছে তান পরাক্ষা করে দেখেন । আশানুরপ অগ্রগতি 
না দেখলে তিনি এক কথায় ছাঁটাই করে দেন। এটা পুরোপার 
সরকারশ আঁফস নয়, সব কমই নযযন্ত হয়েছে অস্থায়ী ভীত্ততে । 
সত্যসৃন্দর আগে থেকেই শর্ত করে নিয়েছেন, তাঁর নিদে'শের 
ওপর আর কোনো আমলাতন্ত্রী খবদারি চলবে না । 

প্রবীরকে ?তানই চাকার 'দিয়েছেন। ছেলোট 'লঙ্গুইসটিকসে 
সদ্য ড ফল করে বেকার বসেছিল । মাঝে মাঝে আসতো তার 
বাড়তে পড়াশুনোর 1বষয়ে আলোচনা করবার জন্য । এ করুকম 
অনেকেই আসে । তবে, প্রবীর আবার ললার বাপের বাঁড়র দিকে 
ক রকম যেন আত্মীয় হয়, তাই একট বেশ সুযোগ পেয়োছল । 

সত্যস:ন্দর প্রবীরকে বলোছলেন পায়ে হে*টে সারা ভারতবষ* 
একবার ঘুরে আসতে ॥ বই পড়া ?বদ্যে যা হবার তা তো হয়েছে। 
এখন মানুষের সঙ্গে না মিশলে, মানুষের 1বাভন্ন রকম ভাষার হের 
ফের লক্ষ্য না করলে এই 'বদ্যা শিক্ষার স্বার্থকতা 1ক ? সত্যস,ন্দর 
নিজেও এই রকম ভাবে শিখেছেন- এগারো টি ভাষায় 1তাঁন 
অনগণল কথা বলতে ও িখতে পারেন । এই প্রত্যেকাট ভাষাই, 
মাতৃভাষার মতন, তান আগে কথা বলতে শিখে তারপর ব্যাকরণ 
জেনেছেন । 

প্রবীর এই প্রস্তাবে রাজ হতে পারে নি । তার পারবারক 
ভরণ পোষণের প্রশ্ন আছে । তাকে চাকার করতেই হবে। 

সত্যসূল্দল 1ব্রন্ত হয়োছলেন । তবু, লশলার অনুরোধে 1তাঁন 
প্রবীরকে দিয়েছেন এই চাকার । 

অভাব আঁভযোগ এবং দাঁরদ্ের কথা শুনলে তিনি ঘৃণা বোধ 
করেন । তিনি জানেন, পহাথবীতে অনেক গরীব লোক আছে, 
গকন্তু তাদের সঙ্গে তান কোনো সম্পক্ণ রাখতে চান না। ইাতহাস 
নিরীক্ষা করে 'তনি দেখেছেন, মানৃষের মধ্যে িবরাট এক শ্রেণী 
গরখব থাকবেই । কোনো দেশে খেতে না-পাওয়ার স্তরের পধন্তি 


৮ 


গরীব । আর কোনো কোনো দেশে খেতে-পাওয়া গরশীব | এ ছাড়া 
আছে এক সর্বব্যাপী মানাসক দাঁরদ্যু। যে মানুষ যে-কোনো 
উপায়েই হোক এর থেকে 1নজের চেষ্টায় বোরয়ে আসতে না পারে 
মানুষ হসেবে সে, সত্যসুন্দরের চোখে নগণ্য ॥ 

সত্যসুন্দর এই রকম ভাবেন, তার কারণ 1তাঁন বাল্যকালে 
ছিলেন বাস্তর ছেলে । অন্তত কয়েকটা বছর বাঁন্ততে কাটিয়েছেন। 
চুরির দায়ে যে-সময় সত্যসূন্দরের বাবা জেল খাটাছিলেন। মিথ্যে 
আভযোগ নয়, সাঁত্যই ট্রর করেছিলেন তাঁর বাবা, আফসের টাকা 
ভেঙে রেস খেলতেন । সত্যসুন্দরের তখন তের বছর বয়েস, 
1বপদে পড়ে তাঁর মা তাঁর কাকাদের কাছে ?গয়োছলেন সাহায্য 
চাইতেন কাকারা কিছু টাকা 'দয়ে সাহাধ্য করোছিলেন বটে 1কন্তু 
সেই সঙ্গে এমন অপমান করোছলেন যে সেই তের বছরের ছেলেই 
রাগে জলে উঠোছল । বাইরে বোরয়ে এসে তিনি কাকাদের 
বাড়ির দেওয়ালে থুতু ফেলে হথাঁক্ুফের মতন বলেছিলেন, একাদন 
এই বাঁড় আম ভেঙে ফেলবো । 

তখন কলকাতা 1ব*্বাবদ্যালয়ের এলাকা 1াবশাল, তার মধ্যে 
তান ম্যাত্রক পরাঁক্ষায় সেকেন্ড হয়োছলেন। বাঁন্তবাসী ছেলের 
এরকম চমকপ্রদ রেজাজ্ট করার ঘটনায় খবরের কাগজের লোকেরা 
এসোছিল তাঁর ছাঁব নতে। কন্তু এমনই গোঁয়ার ছিলেন সত্য- 
পুন্দর যে রেজান্ও বেরুবার পর তান আত্মহত্যা করতে গিয়ে- 
1ছলেন পর্যন্ত । ফার্ হতে পারেন 1ন বলে তাঁর আত্মাঁভমানে 
দারুণ আঘাত লেগোছল । এর পর তান ?নজের জীবনযাপনের 
উন্মাদনায় মা ভাইবোন সকলকে পারত্যাগ করে চলে গেছেন। 
সকলেই মনে করে, তাঁর শরণরে দয়া মায়া কম। 

সত্যসঃন্দর আবার আপন মনে বললেন এরা আমাকে চেনে না। 

1তাঁন আবার বেল বাজালেন। আদালি আসতেই বললেন, 
1বমল সেনকে ডাকো । 

1বমল সেন মোটা-সোটা চেহারার মাঝ বয়সী লোক। অনেক- 


৯ 


কাল অধ্যাপনা করেছেন । খুব বেশণ উচ্চাকাত্ক্ষা নেই, জীবনে 
যা পেয়েছেন, তাতেই পাঁরতৃপ্ত । টালগঞ্জে দু” কাঠা জামির ওপর 
একটা বাড়ি বানাচ্ছেন, আঁফসের কাজের চেয়ে সেই বাঁড়র 
চন্তাতেই 1তাঁন আধকাংশ সময় মগন থাকেন । তাঁর চারাঁট ছেলে- 
মেয়ে লেখাপড়ায় তরতর করে এাঁগয়ে যাচ্ছে । একটি তো চাকাঁরর 
বাজারে এলো বলে! 

[বমল সেন চেয়ারে বসবার পর সত্যসুন্দর তাঁকে বললেন, 
কারুর সঙ্গে আমার কথা বলার ইচ্ছে হচ্ছে বলেই আপনাকে 
ডেকোছি। আঁফসের কোনো কাজে নয়। আপনার হাতে কি 
জরহীর কোনো কাজ ছিল? 

বিমল সেন বললেন, না, সে রকম [কিছু না। ট্রাইব্যালদের 
রিপোটটা তৈরী করছিলাম, কাল করলেও চলবে ! 

সত্যসন্দর হেসে বললেন, কাল কেন, পরশু হলেই বা দোষ 
1ক। সবাই জানে, এসব সরকারণ কাঁমশনের আঠারো মাসে বছর । 
কোনো কাঁমশনই তো আড়াই বছর তন বছরের আগে শারপোর্ট 
দেয় না। 

-আমরা দেড় বছরের মধ্যেই সব শেষ করে ফেলতে পারবো ! 

-সেই রকমই তো কথা দিয়েছি । ইচ্ছে করলে সময় বাড়ানো 
যায়। সেটাই তো উাঁচত, ক বলেন ! 

_না, তেমন কোনো দরকার তো দেখাছ না। 

-আপনার অস্যাবধে নেই । নকন্তু ছেলে ছোকরারা তো 
আবার বেকার হয়ে পড়বে । প্রবীর, যশপাল, মৃধা-এরা তো 
ডেপুটেশানে আসেনি আপনার মতন। 

হাঁ, প্রবাঁর বলাছিল ওর একটা পাকা চাকার বশেষ দরকার । 
বাড়তে অনেক লোকজন। 

--তাও তো বয়ে করে ন। 

--ওর বাবা মারা গেলেন গত বছরে, বয়স বেশ হয়নি, 
আপনার চেয়েও কম বয়েস ছিল। 


১০ 


_-ঠিক আছে, আবার তো একটা কাঁমশন বসবে । তখন আম 
ভাতে না থাকলেও প্রবীরের নাম সুপারশ করে দেবো । যাঁদও 
আমার মনের ইচ্ছে ছেলেটার ঘাড় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মরুভামতে 
ছেড়ে 1দয়ে আস । সেমেটকদের ভাষা [নয়ে ওর কোনো প্রত্যক্ষ 
জ্ঞানই হলো না। 

1বমল সেন একট. চুপ করে গেলেন। সত্যসংন্দর আচার্ধর 
এইসব পাগলা মর কোনো জবাব দেওয়া যায়না । যার মাথার 
ওপরে একটা সংসারের দায়ত্ব সে ল্যাঙ্গোয়েজ স্টাডি করার জন্য 
1মডল ইস্টে ধাবে, এটা কি একটা সংস্থ লোকের মতন কথা ? 

সত্যসুন্দর বললেন, ছোকরার চেহারাটা তো সন্দর। 
1সনেমায় নামার চেষ্টা করলেই পারে । মুখ চোখ ভালো 1কল্তু 
চেহারায় কোনো ব্যাস্তত্ব নেই-এই রকম নায়কই তো ীসনেমায়**, 

স্যার, আপান 1সনেমা দেখেন 2 

_ প্রায়ই তো দোখ । বাংলা, 1হন্দী। তা ছড়া, জানেন, 
আম 1নজেও একবার 'ফিলমে কাজ করোছিলাম। 

- সাঁত্য £ 

_হ্যাঁ। তখন আমার ছাব্বিশ সাতাশ বছর । দনের বেলা 
1ব্রাটশ মউাজয়ামে পড়াশুনো করি, আর সন্ধের পর সোজা 
সোহো পল্লীর একটা হোটেলে বাসন মেজে 1দয়ে দুটে। খেতে 
পাই। আমার খিদেটা বরাবরই বেশী । পেটের জবালা নিয়ে কি 
আর পড়াশুনো করা যায়? থাকি একটা বাড়র আযাটকে--সে 
বাড়টাতে আবার গস 1গস করে বেশ্যারা, অনেক রাত পযন্ত হে 
হল্লা - 

1বমল সেন মুখ নঢু করলেন। প্রখ্যাত পণ্ডিত এবং আফমের 
সবেচ্চি পদাধকারনীর মুখ থেকে বেশ্যা শব্দটা অনায়াসে বোরয়ে 
এলেও তাঁর কানে লাগে । যে-কোনো মধ্/াবন্ত বাঙালীর মতনই 
তাঁর নৌতকতা আত প্রখর । 

সত্যসহন্দর বললেন, এই সময় কিছু উটকো রোজগার হয়ে 


১১ 


গেল। জে আথাঁর র্যাক-এর কম্পান একটা এীতহা'সক 1[ফিলম 
তুল[ছল--এীতহাসক মানে গাঁজাখুঁর আর ক-যাই হোক, 
তাতে ভিড়ের দৃশ্যে শত শত লোক দরকার ছল--পাড়া থেকে 
আমাদের অনেকেরই সুযোগ [মলে গেল, 1দনে পাঁচ পাউণ্ড । ধরা 
চূড়ো পরে দৌড়োদৌড় করতে হতো । তলোয়ারের ঘা খেয়ে 
মরে যাওয়ার অভিনয় ছিল আমার । কতবার যে মরলাম । একবার 
করে মৃত্যু যন্ত্রণায় চিৎকার করে শুয়ে পাড় আর ওরা বলেষে, 
ছবি তোলা 1ঠক হয়াঁন, আবার মরতে হবে । আম গ্রীক ভাষা 
জান, একবার গ্রীক ভাষায় একটা কাতোরোন্ত করেছি বলে 
পাঁরচালকের 1ক রাগ ! হা-হা-হা হা 

_ ছবিটার নাম 1ক স্যার ? 

_সে সব মনে নেই । তবে, সব শুদ্ধ পণ্সান্ন পাউশ্ড রোজগার 
হয়োছল, ভালো খাবার দাবারও দিত- সেই টাকাটা সম্বল করেই 
কায়রো চলে এসোছলাম,হয়েরো গ্লীফকস সম্পকে প্রত্যক্ষ আঁভ- 
জ্ঞতা নিতে । সেই সময় ডঃ কুনও কায়রোতে, পাঁরচয় হয়ে গেল- 

হঠাৎ থেমে গেলেন সত্যসুন্দর । তারপর একট,ক্ষণ চুপ করে 
থেকে বললেন, দুহাখত । আমাকে মাপ করবেন । 

[াবমল সেন সচাঁকত ভাবে মুখ তুলে তাকালেন । দু, চোখে 
প্রশ্ব। 

সত্যসূন্দর বললেন, আম খুব দুঃখিত । ানজের জাবন 
কাহনন জোর করে অপরকে শোনানো একটা খারাপ ব্যাধ। 
বার্ধক্যে এই রকম ব্যাঁধ বেশী দেখা দেয়। আমার আগে এ রকম 
ছল না-_ | 

1বমল সেন প্রাতবাদ করে বললেন, না, স্যার, দারুণ ইন্টা- 
রেস্টং লাগাছল । আপনার জীবনে এত সব আভজ্ঞঘতা আছে। 
আপান এবার একটা আত্মজীবনী [লখুন না। 

_-আমার জীবনী অন্য লোকে জেনে !ক করবে ! 

--এতকাল ধরে আপান-যা সণয় করেছেন, তার ভাগ যাতে 


১ 


অন্যরা পেতে পারেন । বৃটিশ পাণ্ডতরা অনেকেই আত্মজীবনন 
লেখেন-_ আমাদের দেশে এ রকম ট্র্যাঁডশন নেই - 

- আমার আগ্রহ হয় না। 

_-আপাঁন তো বহু দেশ ঘ্‌রেছেন, ছোট ছোট ভ্রমণ কাঁহনীর 
আকারেও যাঁদ লেখেন-টয়েনবী সাহেব যেমন লিখেছেন ফ্রম 
অক্সাস ট যমুনা-_ 

সত্যসুন্দর আর ও বষয়ে কোনো কথা বললেন না। প্রসঙ্গ 
1ফারয়ে বললেন, এই ঘটনাটার এই জন্য উল্লেখ করলাম যে, পড়া- 
শুনো করতে গেলে যেকোনো উপায়ে টাকা রোজগার করা 
দরকার। অর্থ চিন্তা থাকলে জ্ঞান চচ করা যায় না। আর টাকা 
রোজগারের জন্য চুঁর-ডাকাতি ছাড়া যে-কোনো উপায়ই গ্রহণ 
করা উাঁচত। আম তো কিছদন ব্যবসাও করোছিলুম । 

ীবমল সেন জানেন, সত্যসংন্দর রশীতিমতন ধনাঢ্য লোক । শুধু 
বই লিখে এত টাকা হতে পারে না। মানুষটির মধ্যে অসাধারণত্ব 
আছে সন্দেহ নেই, কিন্তু ঠিক যেন শ্রদ্ধা করা যায় না। 
পাশ্ডিত্যের সঙ্গে এমন ভোগবাদ দর্শন মানায় না যেন ঠিক। 

সত্যসুন্দরের একাঁট মন্তব্যে ববমল সেনের মনের মধ্যে 
অনেকক্ষণ কুরকুর করছিল । এবার সুযোগ পেয়ে তানি জজ্ঞেস 
করলেন, স্যার, আপান যে বললেন, আর একটা ভাষা কামশন 
বসবে, সে রকম কছু খবর পেয়েছেন ? 

সত্যসুন্দর এবার হাসলেন । তারপর বললেন, বসবে না? 
আপনার 1 মনে হয় 2 

_মানে এটা এখনো শেষ হলো না। এর মধ্যেই আর 
একটা । 

-এই তো এ দেশের নিয়ম । আমাদের এই কাঁমশনের 
1রপোর্ট তৈরি হলে, আপনার 1ক ধারণা, সেটা জনসাধারণের মধ্যে 
প্রকাশ করা হবে 2 ?িংবা সরকার সেটা মানবে ? আমাদের রপো্ 
অনুযায়ী কাজ করতে গেলে উত্তর-পূর্ব ভারতের 'বাঁভন্ন অণুলে 


১৩ 


আবার ভাষা দাঙ্গা লেগে যাবে । সেটাকে ধামা চাপা দেবার জন্য 
আবার একটা কাঁগশন । তাতে আবার অন্তত দহ, তিন বছর 
কাটবে । এই রকমই তো চলে আসছে । 

1বমল সেন একটু [বষপ্ন ভাবে বললেন, কোনো ফল হবে না 
জেনেও আমরা তা হলে এ কাজ করছি কেন 2 

_আপাঁন মন খারাপ করছেন নাকি ? উ* হু,» এটা ঠিক 
নয়। গীতায় তো একটা মোক্ষম বাণী ঝেড়ে দিয়ে গেছে, কমেই 
আপনার আ'ধকার, ফলাফল 1নয়ে মাথা ঘামাবেন না। 

__-এটা খুব সগ্কীর্ণ অর্থ করা হলো না? 

-আপনার মনমতন বৃহৎ অর্থ করে নান । মোট কথা, আত্ম- 
গ্লান ভালো নয় । আগে থেকে ববেক পরিচ্কার রাখাই স£াবধা- 
জনক । আম এই বুঝ যেজ্ঞান চচা শুধু াীজের [বিশুদ্ধ 
আনন্দের জন্য। এর সঙ্গে জীবকা বা অন্ন সংস্থানের ব্যাপার 
জাঁড়য়ে ফেললে 1কছ [কছ? নাঁচতার আশ্রয় ?নতে হবেই । দেখেন 
না, কত লোক সরস্বতীঁকে নিয়ে বানরীর মতন নাচিয়ে বেড়ায় । 

এই রকম একটা বদ্যাসাগর মশাইও বলেছিলেন বটে, তবু 
বমল সেনের ঈষৎ সংস্কারগ্রস্ত মনে এই প্রকার উৎপ্রেক্ষা একটা 
ধাক্কা দেয়। [তিনি উঠে পড়বার জন্য উসখুস করেন । 

সত্যসল্দর তখনও তাঁর মুখের 1দকে তাকয়ে আছেন বলে 
একটা ?কছ: বলতেই হয়। প্রায় কিছ? না ভেবেই 1তাঁন তা বলে 
ফেললেন, স্যার, আপনার মতে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য ক? 

সত্যপুল্দরের চোঁটটা আবার বে'কে গেল । অথাৎ এটা একটা 
খুব বাজে প্রশ্ন । সামান্য লোকেরাই এই ধরনের কথা বলে । 

তানি সংক্ষেপে উত্তর 1দলেন, আনন্দ । যে-রকম ভাবে আনন্দ 
পায়। 

--আপনি তা পেয়েছেন ? 

_হ্যাঁ পেয়োছ। একটা কৃলি আনন্দ পায় সন্ধের পর গঙ্গার 
ধারে বসে গাঁজা টেনে, আর আমি আনন্দ পাই অন্য গ্রন্যকারের 


১৪ 


যুক্তি খণ্ডন করে। তবে, আনন্দের তো শেষ নেই। বাঁক 
জাঁবনটাও সেই আনন্দেরই অনুসন্ধান করে যাবো । 

--তা হলে যারা ডাকাতি করে িকংবা মানুষ খুন করে। 

_হ্যাঁ। তাদের যতক্ষণ না কেউ অন্য আনন্দের সন্ধান "দিচ্ছে, 
তারা এ ?নয়ে থাকবেই । চিরকালই এ রকম দেখা গেছে । তবে, 
ডাকাতও সন্নযানী হয় এক সময়-_-এ রকম উদাহরণও ক নেই 2 

ঝনঝন করে টোলিফোন বেজে ওঠায় আলোচনা আর এগুলো 
না। 'বমল সেন এই সঘোগে উঠে পড়লেন । 

সত্যসন্দরের বনদেশি দেওয়া আছে যে,বশেষ জরা ব্যাপার 
না হলে অপারেটার যেন তাঁর ঘরে টেলিফোন না বাজায় । 

টোলফোন করেছে স্ত্যসৃল্দরের স্ত্রী লীলা । 

সত্যসূন্দর কণ্ঠস্বর মধুর করে প্র«্ন করলেন, কি, এতক্ষণে 
দবা নিদ্রা ভাঙলো ? 

লশলা£ আজ দুপুরে ঘুমোই ?ন। সারা দুপুর জেগে 
আজ শরংচন্দ্রের শেষ প্র্ন” বইখানা পড়লাম। আগে পাঁড়নি 
তো। 

সত্যসুন্দর £ শরৎবাবুর সৌভাগ্য । কেমন লাগলো । 

লীলা £ একদম বাজে । শুধু বকবকান । 

সত্যসুন্দর £ তোমার বচারবুদ্ধর ওপর আমার শ্রদ্ধা হচ্ছে। 

লীলা £ এই, তুম আজ কখন '?ফরবে বাড়তে £ 

সত্যসুন্দর ঃ যথারশাত সাড়ে ছ'্টায়। 

লীলা £ সাড়ে পাঁচটা কি পৌনে ছ' টায় আসতে পারো না? 

সত্যসন্দর ৫ কেন ? 

লশলা £ 1থয়েটার দেখতে যাবো ভাবছি । “রাজা অয়াদিপাউস, 
নাক খুব ভালো হয়েছে । তোমারও ভালো লাগবে । 

সত)সুন্দর $ আজ অন্য কোনো সঙ্গী জুটলো না? 

লীলা £ কাকে আর পাবো । তুমি চলো, লক্ষনাটি। তোমার 
ভালো লাগবে, গিয়েই দেখো না। 


১৬ 


সত্যসুল্দর £ ভালো লাগার জন্য কষ্ট করে 1থয়েটার হল: 
পযন্ত যেতে হবে কেন 2 নাটকখানা বাড়তে বসে পড়লেই তো 
একই আনন্দ পাওয়া যায় । আম পাই। | 

লীলা ঃ ধ্যাং! যাবে কনা বলো! 

সত্যসুন্দর £ আচ্ছা, আম বাড়তে যাচ্ছ । তারপর মনাশ্থর 
করবো । সত্যসুন্দর টোলিফোন রেখে দিয়ে আবার চুরুট 
ধরালেন। 

আটশ উনাত্রশ বছরের কোনো নারশ বা পুরুষ আটান্ন বছরের 
কোনো রাসভার৭ ব্যান্তকে তুমি সম্বোধন করে এমন চটহলভাবে 
কথা বলে না। নজের স্ত্রী হলে আলাদা কথা । ললা আবার 
সত্যসন্দরের তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী । 

সত্যস-ন্দর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন । আপন মনে বিড় বিড় 
করে বললেন, সকলের আনন্দ এক রকম নয়। 


॥২। 


সত্যস:ন্দর প্রথম বয়ে করেন আটাব্িশ বছর বয়েসে । সে 
ছল একট জামণন ষুবতাঁ। দৈত্য পত্রীর মতন চেহারা--সত্য- 
ন্দরের সঙ্গে বেশ মানিয়েছিল । তব 1বয়েটা তিন বছরের বেশণ 
1ট”কলো না। চার বছরের মধ্যেই বিবাহ ববচ্ছেদ হয়ে গেল। 
ওলগা তার পরেও আরও দ7" বার 1বয়ে করেছে । সব 'মালয়ে 
এখন তার 1তনটি সন্তান, তার মধ্যে একটিও সত্যসন্দরের নয় । 
ওলগা এখনো সত্যসন্দরকে ডাদিং সম্বোধন করে চিঠি লেখে। 
তাঁর "দ্বতীয় স্ত্রীর নাম ছিল লালা পরাঞ্জপে। মারাঠা 
মেয়ে, ছোট্রখাটো চেহারা, দারুণ ব্াদ্ধমতী এবং স্নেহ পরায়ণা । 
লীলা পরাঞ্জপে হয়ে উঠোছিল সত্যসংন্দরের যোগ্য সহধমিনী। 
স্বামীর কাজে সব রকম সাহায্য করতে পারতো সে, আবার তাঁর 
সব রকম পাগলা মিও মেনে নিত । সত্যসন্দরের শারীরিক কামনা- 
বাসনা অত্যন্ত প্রবল । 


১৬ 


আপাতপক্ষে সত্যপংন্দরকে বেশ স্বাঞ্থপর মনে হয়। নিজের 
ভালো লাগার ওপর 1তাঁন বড় বেশী জোর দেন, পাঁরপাশ্রিক 
সম্বন্ধে প্রায় অন্ধ, ীনজেকে বাদ 1দয়ে বাঁক জগংসংসার সম্পর্কে 
তাঁর একটা পারহাসাঁমাশ্রত 1নিষ্ট ধারণা আছে। 1তনি নিজে 
কারুর কাছে যেমন কখনো কৃপা চাইতে যান 1ন, তেমান তাঁর 
কাছে কেউ দয়া দাক্ষিণ্য চাইতে এলে 1তাঁন অত্যন্ত কঠোর ব্যবহার 
করেন। তবে, তান সজ্ঞানে অন্তত অন্য কারুর কোনো কাজে 
বাধার সৃন্টি করেন না। 

সত্যসন্দর দাঁরদ্ুযু ও প্রাতক্‌ল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করেও 
শেষ পযন্ত ?জতৈছেন, এখন তাঁর ইচ্ছে মতন জীবনযাপন করার 
সুযোগ আছে-নীকন্তু এটা যে প্রকাতির সাধারণ 'নয়ম নয়, একটা 
ব্যাতন্রম মাত্র, এটা (কিছুতেই মানতে চাইবেন না। যারা নিজস্ব 
পারবেশ থেকে বোরয়ে আসতে পারোন, তাদের 1তাঁন করুণা 
করেন। 

লালা পরাঞ্জপেও 1ছল সাধারণ ঘরের মেয়ে । তবু বহ 
রকম সংস্কার কাটয়ে উঠে সে সত্যসুন্দরের মন জয় করতে 
পেরোছল। 

সত্যসুন্দর বাচ্চা ছেলে মেয়ে পছন্দ করতেন না আগে । বাচ্চা 
কাচ্চার ঝামেলা ?নয়ে সংসার করা তাঁর মতন লোককে মানায় না। 
1কম্তু লঈলা একট সন্তান চেয়োছল । সেই সন্তানের জন্ন দিতে 
1গয়েই লীলা মারা যায়। তখন লীলার বয়েস সাঁইত্রিশ বছর--এ 
বয়েসে প্রথম সন্তান হলে একটু ?বপদের ঝুশুক থাকেই । লীলার 
মৃত্যুতে সাঁত্যকারের আঘাত পেয়োছলেন সত্যসন্দর ৷ বাচ্চাটা 
বেচে ছিল আরও পাঁচাদন। তারপর থেকে অন্যের বাচ্চাদের 
দেখলে সত্যসুন্দরের হাত আদর করার জন্য এাগয়ে যায়। 

বাহানন বছর বয়েসে ?তাঁন তৃতীয়বার বয়ে করলেন। এই 
মেয়েটির নাম আগে ছল সাঁবতা। তান নাম বদলে লীলা 
রেখেছেন । প্রথমত, মেয়েদের নাম হসেবে সাঁবতা--তাঁর কাছে 


অস-২ ১৭ 


একটা অসহ্য ব্যাপার । তাছাড়া, তাঁর আগের স্ব লণলার স্মাতকে 
[তান টাকিয়ে রেখেছেন এই ভাবে । এর নাম অন্য কিছু রাখলে 
[তান নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে একে ভুল করে লগলা বলে ডেকে 
ফেলতেন। 

লীলা বাঙাল হলেও উত্তরপ্রদেশে মানুষ । বাঙালগ সংস্কৃতির 
সঙ্গে খুব বেশী যোগ নেই। সত্যসল্দর লক্ষেমীতে উত্তর প্রদেশ 
সরকারের হয়ে আর একটা কাজ করাঁছলেন যখন, সেই সময় 
লশলা তাঁর কাছে চাকার করতে আসে । সরল সাদাসিধে মেয়ে, 
খানিকটা অসহায় । চেহারা বেশ সভত্রী। হঠাৎ পাঁরবারক 
অবস্থা খুব খারাপ হয়ে 1গয়োছল । ওদের অনেকগুলো ছোট 
ছোট ভাই বোন। 

লীলা অথধ্ি সাঁবতা কাজকর্ম কিছুই জানতো না, সামান্য দং, 
ছন্র ইংরোঁজ 1লখতে গেলেও তিনটে বানান ভুল । সত্যসন্দরের 
[ববেচনায় তাকে আবলম্বে চাকার থেকে বরখাস্ত করা উচিত । 

সত্যসুন্দর একদিন তাকে নিজের কামরায় ডেকে সোজাসুজি 
বলোছিলেন, তোমাকে আর চাকার করতে হবে না। তোমাকে 
কয়েকটা কথা বলছি, মন দয়ে শুনে দু” দন পরে উত্তর 1দও । 
তুম ইচ্ছে করলে আমার বাড়তে থাকতে পারো । আমার বাড়তে 
কোনো আত্মীয়স্বজন নেই । সংসারের ভার তোমাকেই £নতে 
হবে । দু তনজন দাস-দাস আছে, তারা তোমার হুকুম শুনবে । 
তোমার 'বলাসতার জন্য ভালো হাত খরচ পাবে। তোমার 
কোনো কিছুই অভাব থাকবে না। আম তোমার জন্য শক্ষক 
রেখে দেবো -_তার কাছে পড়াশুনো করবে ॥ এতে তুমি রাজ কিনা 
ভেবে দেখো ঢনজে । আগেই বাবা-মাকে জিজ্বেন করার কোনো 
দস্কার নেই । 

অপমানে লঙ্জায় লীলা ঘাড় হেট করে ছিল । মুখখানা 
টকটকে লাল । সত্যসুন্দর ঘা বললেন, তার একটাই অথ হয়। 
1ত1ন মেয়োঁটকে রক্ষিতা রাখতে চাইছেন । সাধারণ খের মেয়েরা 
বরং অসহায় অবস্থায় পড়লে আজ্মহত্যা করে 1কন্হু প্রকাশ্যে অসতী 


১৮ 


হতে চায় না। তা ছাড়া, পারিবারক বন্ধন এমন তীব্র ষে বাবা- 
পরের মনে কম্ট দেবার কথা ভেবেই তারা অনেক সাধ আহমাদ 
বসর্জন দতে পারে অনায়াসে । 

সত্যসংন্দর এটা একটু বাদে বুঝতে পেরে দুঃত সংশোধন করে 
ানলেন বানজেকে । বললেন, অথাৎ আম তোমাকে 1বয়ে করতে 
চাই । ৰ 

ব্যাপারটা 1নয়ে বেশ সোরগোল পড়ে গিয়োছল। সম্মানিত 
ব্যান্ত সত্যসঃন্দর আচাষ" তাঁর চেয়ে তিরিশ বছরের ছোট একটি 
নেয়েকে বিয়ে করছেন, এর চেয়ে সরস আলোচনার 1বষয় আর 
[কি হতে পারে । 'ীকন্তু আলোচনা ও খটকা টিগ্পাঁনর স্তরেই 
সেটা [নিবদ্ধ থাকে- কারণ, যেহেতু বয়ে, তাতে বাধা দেবার উপায় 
নেই কোনো । 

সত্যসূন্দর ?কছুই গ্রাহ্য করেন ন। বয়েসের প্র্নটা খুবই 
অবান্তর তাঁর কাছে । যৌবনকে খুব বেশী সম্মান দেবার কোনো 
অথ থাকে না। যৌবনে বুদ্ধি অপাঁরণত থাকে । তান তো 
হাজার হাজার ঘুবককে দেখছেন । সাধারণ একটা 'বচারবৃদ্ধ 
পর্ধন্ত নেই। আর শারশীরক [দক থেকেও তিনি যুবকদের 
থেকে কম কিসে 2 

সেই বাহান্ন বছর বয়েসেও তরি স্বাস্থ্য অটুট । কোনো রোগ 
ব্যাঁধ নেই । 1সশাঁড় ভেঙে অনায়াসে পাঁচ ছ” তলা উঠতে পারেন, 
পাঁরশ্রম করতে পারেন অসুরের মতন । তাঁর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লে 
বহু যুবক হেরে যাবে । তাঁর যৌন ক্ষমতাও আগেরই মতন আছে । 
একমান্র একট কথা উঠতে পারে, কোনো যুবক স্বামীর তুলনায় 
সত্যসুন্দরের আগে মৃত্যু হতে পারে । তা হোক না। তান 
তাঁর স্ত্রীর জন্য ষথেম্ট অর্থের সংস্থান রেখে যাবেন। তাছাড়া, 
দেশে বিধবা [ীববাহ আইন চালু আছে । লীলা স্বহন্দে আবার 
1বয়ে করতে পারে, তেমন 1কছ? হলে । 

নারশহীন গৃহ সত্যসূন্দর সহ্য করতে পারেন না। শুধু 

১৯ 


চাকর-বাকর-ঠাকুর নিয়ে পুরুষশা'সত সংসারে থাকলে স্বভাব 
রুক্ষ হয়ে যায়। সত্যসুন্দর মাঝে মাঝে নারীসঙ্গ কামনা করেন। 
পড়াশুনো করতে করতে এক এক সময়ে মাথার মধ্যে একটা 
আঁস্থর তা দেখা দেয়, তখন নারাঁর স্পর্শে অপরপ শান্তি পাওয়া 
যায়। 

এই বয়েসে বিয়ে করার বদলে সাঙ্গনী 1হসেবে কোনো নারী 
পেলেও তাঁর চলতো । কিন্তু এদেশে বিবাহ বন্ধনহীীন অবস্থায় 
কোনো নারীর সঙ্গে একত্রে বাস করার রেওয়াজ আজকাল আর 
নেই । গত শতাব্দীতে ছিল, ইওরোপে এখন এটা খুবই স্বাভাবিক । 
যাই হোক, সতাসুন্দর তো আর সমাজ সংস্কার করতে চান না, 
তাই খৃতাঁন বিয়েই করতে রাজ 1ছলেন। 

দুশদন বাদে লীলা এসোঁছল তার বাবাকে সঙ্গে নয়ে। 
লালার বাবা তো কৃতার্থ একেবারে ! বয়ে হয়োৌছল খুব 
অনাড়ম্বরভাবে । সত্যসুন্দর চেয়োছিলেন ললার বাপের বাঁড়র 
সঙ্গে সব সম্পর্ক একেবারে চুকিয়ে দয়ে তাকে দূরে সারয়ে নিয়ে 
যেতে । পুরোপনাঁর সক্ষম হন নি। এখনে। সেখান থেকে হণ্তাৎ 
হঠাৎ কেউ এসে উদয় হয়। 

লীলা প্রথম প্রথম সত্যসুন্দরের কাছে আড়্১ হয়ে থাকতো । 
অচেনা স্বামীকে চনে বানতেই সময় লাগে । আর 1কছবাদন 
আগেই যান ছলেন তার আকফসের বড় কতা হঠাৎ তাকে স্বামী 
1হসেবে পাওয়ায় মানিয়ে নিতে তো সময় লাগবেই । 

সত্যসুন্দর লীলার ভয় ভাঙাবার জন্য কতরকম যে ছেলে- 
মানুষী করেছেন, তার ঠিক নেই। তান তো শুধু নারীমাংস 
চানান, চেয়োছলেন একজন কোমল সরিনী । স্তর সামনে [তান 
একেবারে শিশুর মতন হয়ে যেতেও রাজ । যুবক স্বামীদের 
মতন ঠতান লীলাকে নিয়ে সন্ধেবেলা বেড়াতে বোরয়েছেন। হান- 
মুন করতে গেছেন সমহদ্রের ধারে । মেয়েদের শাড়ী সম্পকে দুঝলি- 
তার কথা জেনে ?তাঁন লীলার শাড়ী গয়না বষয়ে কোনোরকম 


২ 


ক্ষোভ রাখার সুযোগ রাখেন নি। 

স্ত্রীকে চোখে চোখে রাখার বাতিকও তাঁর নেই। লঈলাকে 
1তাঁন যথেচ্ছ স্বাধীনতা 1দয়েছেন । সে তার বন্ধুদের সঙ্গে যখন 
খুশী দেখা করতে যেতে পারে । আত্ীয়-অনাত্মীয় যুবকদের 
সঙ্গে সনেমায় যায়। তাঁর ছান্র বা তরুণ সহকমপদের সঙ্গে তান 
সব সময়েই লীলার আলাপ কাঁরয়ে দেন। 1তাঁন জানেন, জল. 
যেমন জলকে টানে, তেমান যৌবনও যৌবনের দিকে আকার্ধত 
হবেই । লীলার যাতে কোনো অভাব বোধ না থাকে, সোঁদকে 
তাঁর সজাগ দ-্ট । লীলার প্রাত এতাঁদনে তাঁর একটা স্নেহামীশ্রত 
ম।য়া জন্মে গেছে। 

লীলাও অনেক বদলে গেছে এখন | স্বামীর প্রাত তার টান 
অসম্ভব তীব্র। অনেক সময় সে আভমান করে, ঝগড়া করে, 
রাগের চোটে ?জীনসপন্র ভাঙে-আবার এক সময় সত্যসুন্দরের 
বুকে ঝাঁপয়ে পড়ে কাঁদতে বাঁদতে বলে, তুম আমাকে বকো না 
কেন? তুম এত ভালো কেন? আম মোটেই তোমার যোগ্য 
নই ! 

সত্যসূন্দর হাসেন তখন । এই সুন্দর খেলনাটি তাঁকে বড় 
আনন্দ দেয় । 

লালা খুব একটা রুপসী নয়। গায়ের রং বেশ চাপা, নাক 
চোখেও খুব বশেষত্ব নেই, কিন্তু তার স্বাস্থ্যাট চমৎকার এবং 
প্রাণচাণ্চল্য আছে । 

সত্যসুন্দর বছরের বেশীর ভাগ সময়ই কাটান দাল্লতে । 
কলকাতা বা পাশ্চম বাংলা সম্পর্কে তার বিশেষ কোনো আলাদা 
টান নেই । তান এত বেশী সময় বাইরে বাইরে কা?টয়েছেন যে, 
যেকোনো জায়গাতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তবে কলকাতায় তার 
একটা বাঁড় আছে। 

[নিউ আলপুরে অন্প জাঁমর ওপরে তিনতলা বাঁড়। এক 
তলাতে বসবার ঘর, রান্না ঘর এবং [পসামার ঘর। সত্যসন্দরের 


২১ 


অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন সব মরে ঝরে গেছে, তান কারুর সম্পকে" 
মাথাও ঘামান না-াকিন্তু এই 1পসামাটিকে ফেলতে পারেনাঁন। 
ইন খুজে খুজে দিজ্লীতে গিয়েই সতানুন্দরকে খুজে বার 
করে ছিলেন। দোতলায় চারখাঁন ঘর, তার মধ্যে একাট লীলার, 
বাকিগুলো বইপন্রে ঠাসা । 1তিনতলায় একটি মাত্র ঘর, সেটা 
সত্যসংন্দরের নিজস্ব । আঁধকাংশ সময় তাঁন এই ঘরেই কাটান । 
তাঁর শোওয়ার খাটও এখানেই । প্রথমবার জামনি রমণনকে বিয়ে 
করার পর থেকেই [তান স্বামী স্ত্রীর দৈহিক সম্পক তো কোনো 
নয়মের মধ্যে পড়ে না। এটা আনন্দের ব্যাপার । আনন্দেরও 
বিশেষ বিশেষ মুহূত্ত আছে । কখনো তিনি লীলাকে এ ঘরে 
ডেকে আনেন । কখনো লীলা নিজে থেকেই মাঝরাতে ওপরে উঠে 
এসে বলে, আজ আমার ভয় করছে । 

বাইরের লোক খুব কমই একতলা ছেড়ে দোতলা 1তনতলায় 
ওঠে । গণ্যমান্য লোকেরা এলেও সত্যসূন্দর তাঁদের সঙ্গে কথা- 
বাতার জন্য বেশী সময় খরচ করেন না। তবে লীলার বন্ধু- 
বান্ধবরা তার সঙ্গে ওপরে এসেই কথা বলে । সত্যসমন্দরের প্রয় 
1শব্য বা ছাত্র বা ঘাঁনষ্ঠ সহকমর্স কেউ কেউ আসে [িতিনতলার ঘরে 
তাঁর সঙ্গে দেখা করতে । যেমন আসে প্রবীর । 

লীলা লক্ষে্মীয়ের মেয়ে । খুব অল্প বয়েসে একবার মান্র 
কলকাতা এসোছিল । তখন কলকাতা [ছল তারচোখে একটা স্বপ্নের 
স্বর্গপুর)।। ীবয়ের পর স্বামীর সঙ্গে দাতনবার কলকাতায় 
এসেও তার সেই ধারণা বদলায় ন। এই নোংরা, ?ভড়ে ভাত 
শহরটাকে সে ভালোবেসে ফেললো । তা ছাড়া এখানে আছে তাদের 
1নজের বাঁড়। নজের বাঁড়র প্রাতি মেয়েদের সাঞ্ঘাঁতক টান 
থাকেই । নজেদের এমন সুন্দর বাঁড় ফেলে হিল্লিদিজিল থাক- 
বার কোনো মানে হয়? সেইজন্যই একবার কলকাতায় এলে সে 
আর সহজে বাইরে যেতে চায় না। 

বাঙালণ সংস্কাঁতর সঙ্গে লীলার তেমন কোনো যোগাযোগ 


২২ 


ছিল না। কলকাতায় আসবার পর সে পড়তে শুর করেছে 
বাংলা বইপত্র, বাংলা 1সনেমা ও নাটক--সবই তার দেখা চাই। 
সত্যসুন্দরের বাংলা ভাষা-প্রীতি থাকলেও তাঁর রুঁচ বোধ তাঁকে 
এইসব [সনেমা ও [থিয়েটার সম্পকে বিমুখ করে । তবু লীলার 
কোনো সঙ্গী না থাকলে 1তাঁন অগত্যা যান তার সঙ্গে । 

লীলা অবশ্য প্রায়ই সঙ্গী পেয়ে যায়। এখানে এসে সে তার: 
যত রাজ্যের দ্‌র সম্পকেরি আত্মীয়-স্বজনদের খুজে বার করেছে। 
একজন দুজনকে পাওয়া গেলেই সেই সূত্রে বা?করাও আসে। 
লীলা তাদের বাড়তে প্রায়ই ডেকে আনে, নেমন্তন্ন খাওয়া, হৈ চৈ 
করে 1সনেমায় যায়। 

সত্যসুন্দর যে এরকম ভাঁড় পছন্দ করেন না, তা লালা জানে। 
তবু সে গ্রাহ্য করে 'ান। সতাসুভ্দরও শুধু মৃদু আপাতত 
জানয়েছেন, বাধা দেনান তেমনভাবে । 

সত্যস,ন্দর ঠিকই করে রেখেছেন, এই কাঁমশনের কাজ শেষ 
হয়ে গেলে ভান আবার কলকাতার পাট তুলে দেবেন ॥ লালাকে 
নয়ে তানি বোঁরয়ে পড়বেন আবার । হ্মালয়ের 'বাভন্ন অণ্ুলে 
বছর দ..য়েক কাটাবেন ! ভারতের বাভন্ন অণ্লের সাধুরা যে 
1হমালয়ে এসে আশ্রয় নেয়, তাদের মধ্যে প্রাদোশকতা আছে 1কনা 
_স্টে অনুসন্ধান করে দেখার ব্যাপারে তাঁর ?বশেষ আগ্রহ 
আছে। এদের যোগাযোগের মাধ্যম 1কভাবে গড়ে ওঠে, এদের 
খাদ্যাভাস 1কভাবে গড়ে ওঠে, এদের খাদ্যাভাস 1কভাবে বদলায়, 
তা জানা দরকার । এই 1বষয়ে ?বশেষ কোনো কাজই হয়ান। 

প্রত্যেকীদন আফস থেকে সোঞ্জা বাঁড় 1ফরে আসেন 
সত্যসুন্দর । সরকার থেকে তাঁকে একটা গাঁড় দেওয়া হয়েছে। 
গাঁড়খানা চাব্বশ ঘণ্টা ব্যবহারের জন্য। 

বাঁড় ?ফরে তান একতলায় তাঁর পসীমার খবর নেন 
একবার । বদ্ধার চোখের দৃম্টি ক্ষীণ হয়ে এসেছে, তাই 1তাঁন 
সতাসন্দরের গায়ে হাত বলয়ে কথা বলেন। সেই লোলচর্ম 


৮৬৩. 


বদ্ধার হাতের স্পর্শে বহ্যাদনের পুরোনো স্নেহ লেগে 
আছে । তান হাত বুলোতে বুলোতে বলেন হ্যাঁ রে রাজু, 
শরশরের যত্ব ?নস তো ঠক মতন ? বাবাঃ, যা মাথার কাজ করতে 
হয় তোকে । বৌমাকে বালিস, যেন রোজ থানকুনি পাতার রস 
করে দেয় তোকে । 

লখলা এই [পসশীকে দেখতে পারে না। কোনো খোঁজ খবরও 
নেয় না। +পসাঁ কন্তু কোনাদনই লীলা সম্পকে একটি 
অভিযোগও করেনান। 

সত্যসংন্দর দোতলায় উঠে এসে উণক মারেন লীলার ঘরে । 
সত্যসূন্দর আফস থেকে ফেরার আগেই লশলা গা ধুয়ে সেজেগুজে 
থাকে । ভূরুতে কাজল, শাড়ীর সঙ্গে রং মেলানো টিপ আঁকা 
কপালে । 

স্বামীকে দেখে লীলা জানলার ধারের চেয়ার ছেড়ে উঠে 
আসে । তাদের জানলা দিয়ে অদূরে একটা ফটেবল মাঠ দেখা 
যায়, সেখানে গায়ে ধুলো কাদা মাথা যুবকেরা ফুটবল নিয়ে 
লড়াই করে প্রত্যেক বিকেলে । রোজ দেই খেলা দেখতে দেখতে 
লীলা ফুটবল খেলার ভক্ত হয়ে গেছে রীশতিমতন । 

সত্যসূন্দর স্ত্রীর গালে একটা টোকা 1দয়ে জিজ্ঞেস করেন, ক 
লীলাময়ী, আজ ক প্রোগ্রাম ? 

লশলা প্রত্যেকাঁদন নতুন নতুন প্রোগ্রাম বানায় । সন্ধ্যেবেলা 
সে বাইরে বেরুবেই ॥ বকেলবেলা সে ঘরের মধ্যে খাচায় ভরা! 
একটা সুন্দর পাখির মতন ছটফট করে । চলাত 1সনেমা-ীথয়েটার 
নিঃশেষ হয়ে গেলেও সে খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন দেখে দেখে 
গানের জলসা, ম্যাঁজক শো ইত্যাঁদ যাহোক একছু খুজে বার 
করে। এসবের জন্য সে অন্য সঙ্গী খুজে নেয় । এসব 1কছু না 
থাকলে সে স্তাসুন্দরকে 1নয়েই বেড়াতে বেরোয় । 

গঙ্গার ধারে ?কংবা বালীগঞ্জের লেকে যেতে সত্যসুন্দরের মন্দ 
লাগেনা । টাটকা হাওয়ার একটা আলাদা স্বাদ জাছেই। এ 


২৪ 


সব জায়গায় বহু অল্প বয়েসী যুবক যুবতাঁদের দেখতে পাওয়া 
যায়, মনে হয় কত লঘু তাদের জাঁবন। এরকম বয়েসে 
সত্যসন্দর একদিনের জন্যও বিরাম পানাঁন। 

লীলা যোঁদন অন্যদের সঙ্গে বিনেমা-ীথয়েটারে যায়, সোঁদন 
1তাঁন উঠে আসেন তিনতলায় তশর 1নজের ঘরে । তণর ঘরের 
সঙ্গেই বাথরুম আছে। স্নান করার আগে তান [কিছুক্ষণ ব্যায়াম 
করে নেন। সকালে ও সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা তণর বহাঁদনের 
অভ্যেস । একমাত্র চোখ ছাড়া শরীরের আর কোনো অঙ্গ প্রতাঙ্গে 
তশর কোনো খত নেই । 

স্নান সেরে জামা কাপড় বদলে [তিনি আরাম কেদারায় বসেন। 
এখানে জানলা 1দয়ে বহুদূর দেখা যায়। খুব একটা সুন্দর দশ্য 
1কছ; নয় । বড় বড় ঝকঝকে নতুন বাঁড়র ধার ঘ্বেষেই পুরোনো 
বান্ত। রাস্তায় ষখন তখন দ্্যাফক জ্যাম । বই খুলে বসলেই 
সত্যসংন্দরের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বচ্ছন্দে কেটে যায় ॥। মাঝে মাঝে 
তান ঠানজের মনে 'িড়াবড় করেন। রাত দশটার সময় লীলা 
1নজে তখকে ডাকতে আসনে খাবার থেতে যাওয়ার জন্য । 

একাঁদন রাত ন'টা আন্দাজ সত্যসুন্দরের মাথার মধ্যে হঠাৎ 
নাচন করে উঠলো । ?নজের ঘরেই তান বই [নিয়ে বসোছলেন। 
এই প্রকার অনুভূতিতে একটু 1বরন্ত হলেন । কণাঁদন ধরেই মাথার 
মধ্যে এরকম [চনাচন করে উঠছে মাঝে মাঝে । এ ছাড়া সবর্ষণ 
একট] মাথা ধরার ভাব । সারা জীবনে সত্যসুন্দর অসুখ টসুখে 
এত কম ভূগেছেন যে, সামান্য কিছু হলেই 1তাঁন ?নজের ওপর 
রেগে যান। যেন এটা তাঁর অক্ষমতা । 

চোখের জন্য মাথা ধরার ব্যাপারটা অবশ্য নতুন কু নয়। 
সত্যসূন্দর ভাবলেন চশমার পাওয়ার আবার বাড়াতে হবে। এই 
এক ঝামেলা ! যাই হোক, আপাতত মাথা-ধরার একটা 1কছু ওষুধ 
এখন খাওয়া দরকার । 

সত্যসন্দর নিজের ঘরে ওষুধ পত্তর 1কছুই রাখেন না। 


৫ 


লীলার ঘরে পাওয়া যেতে পারে । ন'টা বেজে গেছে, লীলা 
এতক্ষণে সিনেমা দেখে ফিরেছে ক ! 

সত্যসুন্দর নেমে এলেন নীচে, লশীলর ঘরের দরজা ভেজানো 
ছিল । স্বামী কখনও স্ত্রীর ঘরে ঢোকার আগে শব্দ করে জানান 
দেবার প্রয়োজন মনে করে না। 

সত্যসূন্দর দরজা ঠেলে এক পা বাঁড়য়ে থেমে গেলেন। 

লীলার বুক থেকে শাড়ীর আঁচল খসে গেছে । তার নগ্ন 
কোমরে প্রবীরের হাত । লীলার ওত্ঠাধর স্ফীরত, চোখ জলজ,লে, 
সে প্রবীরের বুকে মাথা হেলান 'দয়ে আছে । তারপর বোঝা যায় 
সে কাঁদছে একটু একটু । প্রবীরের বুকে ছোট ছোট কল মেরে 
সে বলছে, কেন? কেন? কেন? 

সত্যসন্দর স্থানু হয়ে গেলেন । তাঁর গলা 1দয়ে একট স্বরও 
বেরুলো না । ওরা দঃ'জনে তাঁর দকে 1ফরে তাকাবার পরও 1তাঁন 
সরে যেতে পারলেন না। তাঁর যেরকম শারীরক শান্ত তাতে 
ক্রোধের বশে তান এই ছেলেমেয়ে দহাটিকে 1ছ*ড়ে টুকরো টুকরো 
করে ফেলতে পারতেন। 1তাঁন কিছ করলেন না। 

বরং তাঁর মনে হলো, গলার কাছে তাঁর কোটের বোতামটা 
এক্ষীন না খুলে ফেললে তাঁর দম বন্ধ হয়ে যাবে এক্ষ্যান। 
বোতাম খোলার জন্য তিনি হাত তুলতে চাইলেন । পারলেন না। 
তান অসহায়ভাবে ঝুপ করে পড়ে গেলেন মাটিতে । 


|| ৩ |! 


একজন ডান্তার এসে আরও দুজন ডান্তারকে ডেকে পাঠালেন । 
1তনজন ডান্তার শলাপরামর্শ করলেন অনেকক্ষণ ধরে । সত্যসন্দরকে 
হাসপাতালে পাগাবার ব্যাপারে ডাক্তারদের মধ্যে মতভেদ দেখা 
দিল । একজন ডাক্তারের মতে সত্যপুন্দরকে তাঁর নিজের বছানায় 
শাঁন্ততে মরতে দেওয়াই ভালো । আর একজন ডান্তারের মতে 
হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই সত্যসুন্দরের মৃত্যু হলে দায়ী 


৮১৬. 


কে হবেঃ তৃতীয়জন জেদ করতে লাগলেন । 

জ্যান্ত অবস্থাতেই পি 1জ হাসপাতালে পেশছোলেন সত্যসুন্দর। 
সবাইকে অবাক করে তারপরেও দনের পর 1দন বেচে রইলেন । 
এক সপ্তাহ পরে তাঁর সামায়ক ভাবে জীবন সংশয়ও কেটে গেল। 

সত্যসন্দরের সবাঙ্গে পক্ষাঘাত হয়ে গেছে । বাকশান্তও নেই । 
কিন্তু মীস্তক ঠিক আছে । তান তাঁকয়ে তাঁকয়ে সব কু 
দেখেন, সব বুঝতে পারেন 1কন্তু কোনো মতামত প্রকাশ করতে 
পারেন না। সামান্য অঙ্গীল হেলনের ক্ষমতাও তাঁর নেই । 

দশাঁদন পর দেখা গেল, সত্যসূন্দর সামান্য ঠোঁট নাড়তে 
পারছেন। তার অর্থ কিছুই বোঝা যায় না। তবু নড়ছে যে 
তাতে কোন সন্দে নেই । তখন সকলেরই আশা হলো, সতাসংন্দর 
হয়তো আস্তে আস্তে আবার সব ক্ষমতা ফিরে পাবেন । এরকম হয়। 
মানাসক জোর থাকলে এটা অসম্ভব 1কছু নয়। হঠাৎ দেখা যাবে 
রোগী একেবারে সুস্থ হয়ে গেছে। আর সত্যসুন্দরের মনের 
জোরের কথা তো স্াবাদূত | 

হাসপাতালের পাঁরবেশ রোগীর মানাঁসক স্বাক্থ্ের পক্ষে 
উপকার নয় বলে একমাস বাদে সত্যসুন্দরকে বাড়তে ?নয়ে আসা 
হলো । স্ট্রেচার বাহকরা তাঁকে নয়ে এলো দোতলায় লীলার ঘরে । 
শোওয়ানো হলো লীলার খাটে । 

লীলা আর একখানা ঘরের বইপত্র সারিয়ে সেখানাকেও বাস- 
যোগ্য করে তুললো । একজন নার্স ঠিক করা হয়েছে । তবে 
আকাস্মক বিপদের আশংকা নেই বলে নার্স রাত্তরে থাকবে না, 
শুধু 1দনের বেলা । 

সত্যসুল্দর আঁধকাংশ সময়েই চোখ বুজে থাকেন। কখন 
ঘুময়ে আছেন, আর কখন জেগে, তা বোঝা যায় না। নার্স তাকে 
ফাডিং কাপে করে খাইয়ে যায়, ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে 
সত্যস্‌ন্দরের গা মুছিয়ে দেয়। সত্যসুন্দর তখনও চোখ বুজে 
থাকেন। 


২৭ 


স্যার, স্যার । 

কুণ্ঠিত ডাক শুনে সত্যসূন্দর চোখ মেলে তাকালেন। প্রবীর 
তাঁর মাথার কাছে এসে দাঁড়য়েছে। 

__স্যার, আপনাকে [ছু বলার মুখ নেই আমার ॥ তব যাঁদ 
আমাকে একটু সুযোগ দেন, যাঁদ আম বুঝিয়ে বাল। 

সত্যসংন্দর নিবাঁক, ীনস্পন্দ, স্থির দৃঙ্টি। 

সত্যসুন্দর ভাবলেন, এখন রাত ক'টা হবে 2 দশটা 2 সাড়ে 
দশটা ? নার্স বাঁড় বাবার আগে তাঁকে রাত্রির খাবার খাইয়ে গেছে। 
সেতো যায় ন'টার সময় ॥। অনেকক্ষণ আগেই চলে গেছে। প্রবীর 
এখনো ধায়ান । ও কি রাত্তরে এখানেই থাকে 2 

প্রবীরের মুখখানা ভশীতাঁবহ্বল। অসন্ত, অপহায় সত্য- 
সন্দরকেও সে ভয় পাচ্ছে। 

প্রবাঁর বললে, স্যার, আপনি আমাকে ক ভাবছেন, জান না। 
আম ঈশবরের নামে শপথ নিয়ে বলাছ। 

সত্যসূন্দরের যাঁদ হাসার ক্ষমতা থাকতো তো তানি হাসতেন 
এই সময়। ভয় পেয়ে ছেলেটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই 
ভুলে গেছে সে, সত্যসূন্দর সারাজীবনে কখনো ঈশ্বরে বিশ্বাস 
করেন নি। তাই ঈশবরের 'দাব্যির কোনো মূল্যই নেই তাঁর কাছে। 

__-লীলা'দ আমার মাসামার মেয়ে । আপন মাসী না হলেও 
গুকে আম ঠিক নিজের দাদর মতন্ই দোঁখ। 

সত্যপুন্দর ভাবলেন, মানুষ এতো (নবেধি হয় ঠক করে ? তাঁর 
অসুখের আগেও প্রবীর লীলাকে বৌদ বলে ডাকতো! আজ 
হঠাৎ দাদ বলতে শুরু করেছে । ভেবেছে বোধহয়, সত/সশন্দরের 
এখন মাঁ্তজ্ক 1বকার--তাই যা খুশী বলে বোঝানো যাবে। 

__ও*র হঠাৎ খুব মন খারাপ হয়ে ীগয়োছিল । সোঁদনই চা 
পেয়োছিলেন যে ওর বাবার শরীর খারাপ, খুব কান্নাকাট কর- 
1ছলেন। 

আঃ, এইসৰ আজে বাজে কথা বলে কেন যে সময় নম্ট করছে। 


২৮ 


এর চেয়ে অনেক দরকারী কথা জানার দরকার ছল প্রবীরের 
কাছে । কাঁমশনের কাজ 1ক বন্ধ হয়ে গেছে? কিংবা নতুন 
চেয়ারম্যান [ঠিক করেছে ওরা । ভাষা কাঁমশনের চেয়ারম্যান হিসেবে 
সত্যসুন্দরের নাম পালামেন্টে ঘোষণা করা হয়োছল । তাঁর মৃত্যুর 
আগেই তাঁকে সরাতে গেলে আইন ঘাঁটিত কহ গোলমাল দেখা 
দেবে বোধহয় । সত্যসুন্দরের ক্ষমতা থাকলে তান পদত্যাগ পন্ন. 
অবশ'ই 'লখে দিতেন । 

এইসব কথা 1কছুই বলে না কেন এরা? সন্ধ্যেবেলা অনেক 
গণ্যমান্য লোক এসোছলেন তাঁকে দেখতে । তাঁর মধ্যে একজন 
আবার মন্ত্রী । নানারকম মন্তব্য করলেন সকলে, কিন্তু কামিশনের 
কাজের কথা কেউ উচ্চারণ করেন ীন। ভেবোছলেন বোধহয়, এই 
সনয় আফসের কাজকর্মের কথা শুনলে সত্যসুন্দরের মাথার ওপরে 
আরও চাপ পড়বে । বা9 অফ ফলস । +বরান্ততে সত্াসন্দর 
চোখ বন্ধ করে?ছলেন তখন । 

এখন বুঝতে পারছেন, প্রবীর কেন এত রা॥ত্তর পযন্ত এখানে 
আছে । অন্য সময় বহু লোকজনের ভিড়, প্রবীর এক? িনরালা 
খু'জাছল । সে তার মনের ভাব লাঘব করতে চায়। 

প্রবীর বললো, আমাব মনে কোনো পাপ ছল না, আপাঁন 
বাস করুন । লীলা দও আপনাকে এত বেশী ভান্ত করেন । 

এর। ক সত্যসুন্দরকে ঈষকাতর সাধারণ মানুষ মনে করে? 
তাঁর স্ত্রা অন্য কার বুকে মাথা রেখেছে 1কম্বা চুম্বন করেছে, 
তাতেই তান এ রকম হয়ে পড়বেন 2 এমন কি ওরা এক বিছানায় 
শুলেই বা ক যেত আসতো 2 তান জানেন, অমৃত কখনো উচ্ছিষ্ট 
হয় না। আনন্দ মানুষকে খুজে নিতে হয়। সাধারণ মানুষরা 
নার? সম্পকে ঈষাঁ করে আনন্দ পায়। সত্যসন্দর অসাধারণ ! 

তা ছাড়া 'তনি ক আগেই লক্ষ্য করেনান লৰলা আর প্রবীরের 
ঘানজ্ঞতা 2 এ যে এক সঙ্গে সনেমা দেখতে যাওয়া, পরস্পরের 
[দকে গাঢ় চোখে তাকানো, নানা ছুতোয় হাত ছোওয়া--এর মানে 


২৪ 


ক তান বোঝেন না? তানি সঙ্ঞানে এর প্রশ্রয় ?দয়েছেন। 

লীলাকে আনন্দ দেবার জন্য তান কোনো ত্রুটি রাখেনানি। 
নানারকম অলংকার সংগ্রহের মতন সে যাঁদ দু" একটি প্রোমকও 
জুাটয়ে নেয়, তাতে আপাতত করার তো ক নেই। তিনি তাঁর 
[নজের প্রাপ্য ঠিকই পেয়েছেন । লীলার কাছ থেকে তানি আনন্দ 
পেয়েছেন । 1ব*বাস-আঁবশ*বাসের প্রশ্বই আসে না এখানে । 

ডাক্তারদের বা অন্যদের তো কেউ কিছ বলোন। প্রবীর আর 
লীলাই শুধু ভাবছে তাদের এ ঘাঁনষ্ঠ দৃশ্যটা দেখে ফেলার জন্যই 
তিন এরকম অস:চ্থ হয়ে পড়েছেন । তাঁর ক্ষমতা থাকলে 1তাঁন 
চৎকার করে এর প্রাতবাদ করতেন। এ হতেই পারে না! তাঁর 
অসুখের সঙ্গে এর কোনো সম্পকই নেই । তাঁর মাথার মধ্যে যে 
চিনাচনে ব্যথাটা ছিল, সেটা আসলে করোনার আযাটাকের পর্ব 
লক্ষণ ব্যাপারটা কাকতালীয়বং এক সঙ্গে ঘটেছে । এই বেচারা 
দুজনকে মানাসক 'লান থেকে তান মযান্ত দিতে চান। 

আসলে [তিনি তাঁর শরীরের কাছে হেরে গেছেন । মনের জোর 
দিয়ে তান সব কছু জয় করতে পারতেন, শুধু ।এই অসখটাকে 
থামাতে পারলেন না। 

কার পায়ের শব্দ পেলেন। আর একজন কে দাঁড়ালো তাঁর 
মাথার কাছে । ঘাড় ঘোরাতে পারছেন না বলে দেখতে পাবেন না। 
কন্তু তাঁর শ্রবণ শান্ত এখন অসম্ভব বেড়ে গেছে! অন:ভূতিও 
তীক্ষন হয়েছে । 1তাঁন বুঝতে পারলেন, লশলা এসেছে এবং 
প্রবীরের সঙ্গে চোখে চোখে াকছ্‌ কথা বলে নিচ্ছে । 

লীলা এগয়ে এসে সতাস;ন্দরের পাশে বসে পড়লো । ছলছলে 
চোখ 1নয়ে জিজ্ঞেস করলো, আমায় চিনতে পারছো । 

সত্যসন্দর সামান্য ঠোঁট নাড়লেন। 

লীলা ব্যগ্রভাবে মুখ ঝুখকয়ে জিজ্ঞেস করলো, কি? ক 
বলছে ? 

প্রবীরও কাছে এগিয়ে এসেছে । 


৩9 


ওরা কেউ বুঝতে পারলো না সত্যসন্দর কি বলতে চাইছেন। 
লীলা বারবার জিজ্ঞেস করছে, আমাকে চিনতে পারছো নাঃ 

সত্যসুন্দর ঠোঁট নাঁড়য়ে বলতে চাইছেন, না। 

এই অবস্থাতেও তাঁর রসবোধ একেবারে মরে যায়ান। দেশ 
1বদেশে যখনই যেখানে কোনো নার? তাঁকে প্রশ্ন করেছে আমাকে 
চিনতে পারছেন না ?--সত্যসুন্দর সব সময়েই সহাস্যে উত্তর. 
1দয়েছেন, না। মেয়েদের ঠক কখনো চেনা যায়? 

1নজের স্ত্রী সম্পকেও তিনি সেই কথাটাই বলতে চান। তাঁর 
ঠোঁট যে কিভাবে নড়ছে, তিনি তো দেখতে পাচ্ছেন না। 

লীলা তাঁর বুকে হাত রাখলো । দেখে মনে হয় এক্ষান কেদে 
ফেলবে । 

একমাসের বেশী হয়ে গেছে স্বামীর অসুখ । এখনো ক এই 
জন্য চোখে জল আসে ? প্রথম আঘাতটা কেটে যাবার পর তো মন 
অনেক শন্ত হয়ে যায়। অবশ্য অনেক মেয়ের খুব সহজেই চোখে 
জল আসে । তবু লীলা, সাবধান, অভিনয় করো না, আম ঠিক 
ধরে ফেলবো । 

লীলা তাঁর স্বামীর চশমাটা খুলে নেয়ান কেন 2 চশমাটা 
খুলে নিলে সত্যসংন্দর খুব কম দেখতে পেতেন, ছোটখাটো ভ্রাট 
তাঁর চোখে পড়তো না । 

লীলা [ীজজ্ঞেস করলো, তোমার 1কছু খেতে ইচ্ছে করছে । 

সভ্যস.ন্দর কিছ; বলার চেষ্টাও করলেন না। তান এখনো 
চোখের পলক ফেলতে পারেন ঠিকমত । 1কছযাদনের মধ্যেই 1তান 
যাঁদ একটা চোখের পলকের ভাষা তোর করে ীনতে পারেন, কেমন 
হয়? কতবার এবং কত তাড়াতাঁড় চোখের পলক ফেলা হলো, তাই 
শদয়ে অনেক ?কছু বোঝানো যেতে পারে । এতকাল তান ভাষাতত্ত 
এবং ফোনোটকস 1নয়েমাথা ঘামিয়েছেন-াকন্তু এসব ছাড়াও সারা 
পৃথিবীতে যে একটা নীরব ভাষা আছে, সে বিষয়ে কখনো খেয়ালই 
করেনান। প্রোমক-প্রোমকারা নীরব ভাষায় কত কি বলে। 


৩১ 


লীলা [জিজ্ঞেস করলো, চুরুট খাবে ? 

প্রবীর বললো, চুরুট খাওয়ার কথা 1ক ডান্তাররা বলেছেন ! 

__ডান্তারদের সব কথা মেনে চলা যায় না। 

_-তবু ডান্তার সেনকে একবার টেলিফোন করবো ? 

_কোনো দরকার নেই । উন চুরট না খেয়ে এক দণ্ডও 
থাকতে পারতেন না। ও*র মনে একটু আনন্দ দতে হলে, এইসব 
দিতেই হবে। 

সতাসুন্দরের কোনো মতামত দেবার উপায় নেই । এই কশদনে 
1তাঁন চুরুটের অভাব একবারও বোধ করেন নি । এখন চুরুটের 
নাম শুনে মনে হচ্ছে, একবার পরাক্ষা করে দেখলে মন্দ হয় না, 
চুরুট খাওয়ার ক্ষমতাটুক তাঁর আছে কিনা । 

লল। ওপরের ঘর থেকে চুরুট আনতে গেল । প্রবীর দাঁড়য়ে 
রইলো কাচুমাচু হয়ে । লীলা আসার পর প্রবীর একটু সহজ হতে 
পেরোছল, একা সত্যস্মন্দরের সামনে সে স্বাস্ত পাচ্ছে না। 

[কন্তু ডান্তারকে একটা ফোন করার কথা লীলা উড়য়ে 1দল 
কেন? শারশর বিদ্যা সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও নেই লটঈলার। 
পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর ?ক সাত্যই চুরুট খাওয়া উচিত? যাঁদ 
কাশতে গিয়ে ন*বাস আটকে যায়! এই চুরুট থেতে 1গয়েই 'যাঁদ 
মৃত্যু হয় তাঁর? 

লীলা অনায়াসে এই ঝুশীক |নচ্ছে। প্রবীর আর লণলা যাঁদ 
পরস্পরকে ভালোবাসে তাহলে ওরা নচ্কণ্টক হবার জন্য তো 
সত্যসুন্দরকে মেরে ফেলতেও পারে ? গল্প-উপন্যাসে এরকম ঘটনা 
পড়া যায়। আর কিছু না, তাঁর মুখের ওপর একটা বালিশ চাপা 
দয়ে কছহক্ষণ ঠেসে ধরলেই তো হয় । এরকম রুগীর হঠাৎ মৃত্যু 
নিয়ে কেউ মাথাঘামাতে যাবে না । সকলেই স্বাভাবিক মনে করবে । 

একেবারে বাচ্চা শিশুর মুখে যেরকম চুঁধকাঠি পুরে দেওয়া 
হয়, সেইরকম ভাবে চুরঃটটা সত্যসুন্দরের মুখে ঢুকয়ে দিল 
লীলা । তারপর দেশলাই জবাললো । 


৩ 


সত্যসুন্দর দম বন্ধ করে রইলেন। ন*বাস না ?নলে চুরুট 
ধরবে না। 


লীলা বললো, ধরছে নাকেন? 

প্রবীর বললো, থাক না-হয় ! 

_ তুম জানো না, উান চুরুট খেতে ভালোবাসেন, ধারয়ে 
দতে হবে। তুম ধারয়ে দেবে ? 

-আঁম! 

_তাতে ক হয়েছে 2 দাও । 

সত্যসুন্দরের মুখ থেকে চুরুটটা বার করে 1নয়ে লীলা সেটা 
'এবার গর্জে দল প্রবীরের ম,খে । তারপর দেশলাই জে;লে 
প্রবারের মুখের কাছে আনলো । পরদ্পরের দবান্ট নবদ্ধ। 
সত্যসুন্দর ভাঁষতের মহন চেশে রইলেন সেইদকে । এর নাম 
নীরব ভাষা । এখন ওদের দজনকেহ দেখলে বোঝা যায়, ওরা 
পরস্পরকে কত গভারুভাবে চার । 

চুর,টটা ধরে ওখার পর ল।লা সেটা নিয়ে স্ত্যসুন্দরের মুখে 
আবার ভরে দিযে জজ্জঞেস করলো, এবার ভালো লাগছে ? 

সত্যসন্দর এখনো আবার দম বধ করে আছেন। চুর2টা 
বাইরে ফেলে দেখার ক্ষমৃতা তাঁর নেই । কন্তু ধোঁয়া ভেতর 
ঢোকাবেন না 1কছুতেই ॥ চুরুটটা মুখের অনেকখানি ভেতরে 
ঢুাকয়ে দেবার ফলে দারুণ অস্বস্ত লাগছে । 

একটা ব্যাপারে সত্যসংন্দর 1নঃসন্দেহ হয়ে গেলেন । লীলা 
ধরেই 1নয়েছে যে স্ত্যসুন্দর আর কখনো সুস্থ হয়ে উঠবেন না। 
তা হলে অপরের এটো চুরুট এত সহজে তাঁর মূখে দিত না । 
লীলা ?নজের এটো ঠেঁটি তাঁকে দতে পারে, কন্তু ঞটো চুর 2 
লীলা বুঝে গেছে, এসব ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাবার সাধ্য সত্য- 
সুন্দরের আর কখনো হবে না। এখন যে কাদন তান বেচে 
আছেন, সেই কটা দন শুধু কাটিয়ে যাওয়া কোনক্রমে। 

সত্যসুন্দর এর মধ্যে খুব একটা দোষ দেখতে পেলেন না। 


অ/স-৩ ৩৩ 


মানুষকে ইতিহাস ও বস্তুবিশ্বের পারিপ্রেক্ষিতে দেখলে সব কিছুই 
স্বাভাবক মনে হয়। নড়াচড়ার ক্ষমতাহীন, বাক্যহশীন একজন 
অথব মানুষ এই সমাজের তার ছাড়া আর ক? অন্য কারুর 
ব্যান্তগত জীবনে এই বোঝা আরও বেশী । কতদিন আর ভদ্ুভাবে 
সহ্য কর] যায় ? 

সত্যসুন্দরকেও আর কয়েকদিনের মধ্যে বুঝে ধেতে হবে যে 
সাঁত্যই তাঁর স-স্থ হয়ে ওঠার আশা আছে না । না হলে তাঁকে 
আত্মহত্যার কথা চিন্তা করতে হবে। 

তাহলে লীলা যখনপ্রথম এ ঘরে আসে, তখন তার চোখেজলের 
আভাস ছিল কেন ? সে কি নিজের জন্য কাঁদাছিল 2 আর একটা 
ব্যাপারও জানা হয়ান। সেই সোঁদন লশলা প্রবীরের বুকে কিল 
মারতে মারতে বলাঁছল, কেন 2 কেন এ কেন বলার মানে ক ? 

প্রবীর বললো, স্যার, আম যাচ্ছি! আবার কাল সকালেই । 
সত্যসুন্দর কয়েকবার চোখের পলক ফেললেন । প্রবীর ক এর 
কিছ; মানে বুঝতে পারবে? চেষ্টা করে দেখি । 

_ললাদ, চললাম । দরকার হলে যে-কোনো সময়ে ডাক- 
বেন-_ 

লশলা তখন 'বছানার চাদর গু'জাছল। মুখ না তুলেই 
বললো, আচ্ছা ! প্রবীর ঘর থেকে বোরয়ে যাবার একটু পরেই 
ললা বললো, আম এক্ষান আসাছ ! 

লশলা বোধ হয় গ্রবীরকে দরজা পর্যন্ত এাঁগয়ে দিতে গেছে। 
কন্তু এত দের করছে কেন? িকংবা দোর করোন- প্রাতাঁট 
মূহ্‌ত্তকেই অসম্ভব দীর্ঘ মনে হচ্ছে! এরকম হতেও পারে । এ 
ঘরের দেয়ালে একট। ঘাড় রাখলেও পারতো । 

চুরুটটা কাৎ হয়ে সত্যসুন্দরের মুখ থেকে পড়ে গেল । তখনও 
সেটা জহলন্ত । 

চুরুটটা গাঁড়য়ে পড়লো সত্যসুন্দরের ঘাড়ের কাছে । একটু 
সরে এলো, তারপর ডান্দকে বুকের ওপর । সত্যসুন্দরের বুক 


০৪ 


ভার্ত বড় বড় লোম, গোঁঞ্জ ফ'ড়ে বোরয়ে আসে । চুরুটের আগুনে 
দু'একটা লোম পুড়ে কু'কড়ে গেল । সত্যসূন্দর বুকের চামড়াতেও 
ঈষৎ আঁচ অনুভব করছেন । এতে 1তাঁন ভয় পাবার বদলে উৎফল্পর 
হলেন একটু । এই ভাবে যাঁদ তার শরণরের সাড় ফিরে আসে । 

সমস্ত ?ব*্বকে ধংস করে ফেলার মতন মানাসক শান্ত নিয়ে 
সত্যসুন্দর চাইলেন তাঁর ডান হাতখানা উপ্চু করতে । পারলেন 
না। একটা আডুলও নড়লো না। তখন 1তন চাইলেন, তাঁর 
বুকটা পুড়ে একটা গোল ফুটো হয়ে যাক! 

লীলা ফিরে এসে চুরঃটটা সেই অবস্থায় দেখে আঁতকে উঠলো । 
দৌড়ে এসে সেটা তুলে [নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর 
সতাসুন্দরের ঝুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হাস-কান্না মেশানো 
ব্যাকুলতার সঙ্গে বলতে লাগলো, ওরে আমার সোনা । -স,কি 
ভুল করোছ! ইস, চামড়া পুড়ে গেছে--কত ব্যথা লেগেছে 
তোমার । আম একটা লক্ষমীছাড়া, আমার 1কছু খেয়াল থাকে 
না__আমি একেবারে তোমার যোগ্য না! তুমিই তো আদর দিয়ে 
আমার মাথাটা খেয়েছো ! আহা রে, লক্ষমী সোনা, আমি তোমাকে 
মলম লাগয়ে 1দঁচ্ছি-_ 

লীলা একাদকে শিশুর মতন সান্তনা দিতে লাগলে 
সত্যসুন্দরকে-আবার তার সারা শরশরটাও উপহার দিয়েছে 
স্বামীকে । সে তার ভার স্তন ও উর ঘষছে সত্যসুল্দরের গায়ের 
সঙ্গে। বড় লোভনায় এই ভাঙ্গ। 

একটু আগে আগুনের আঁচে সত্যসূন্দরের ত্বকে যে সামান্য 
সাড়া এসেছিল এখন তার চেয়েও কম তাপ বোধ করছেন । অর্থাৎ 
প্রায় কিছুই উপভোগ করতে পারছেন না । অথচ মাথা দিয়ে [তানি 
অনৃভব করছেন, 1ক হচ্ছেব্যাপারটা এবং আরও 1ক হতে পারতো । 

শরীরের কাছে হেরে যাচ্ছে বোধশান্ত ! 

আবার বোধশান্তরও সীমা আছে ? 

লীলা কামোত্তেজক ভঙ্গীতে শরীরটা ব্যবহার করতে করতেও 


৩৬ 


চোখের জলে ভাঁজয়ে 1দচ্ছে সত্যসুন্দরের বুক । এই চোখের 
জঙ্গের কোনো গুড় মানে আছে 1ক? সত্যস্মন্দর বুঝতে পার- 
লেন না। কথা বলার ক্ষমতা চলে যাবার পর 1তনি টের পাচ্ছেন, 
পৃথবীতে কত রকম রহস্য আছে । 


|| 311 


দনের পর দন কেটে যায়, সত্যসুন্দরের সেই একই রকম 
অবস্থা । কোনো রকম উন্নতির লক্ষণ দেখা যায় না। ঠেটি যেটুকু 
নড়োছিল, সেইখানেই থেমে আছে । 

তাঁর কাছে লোকজনের যাওয়া-আসা ক্রমেই কমে আসছে । 
প্রবীর অবশ্য প্রত্যেক দন দুবেলা আসে। 

কয়েকদিন ধরেই একটা অবান্তর কথা সত্যসুন্দরের মাথায় 
ঘুরছে । মৃত্যুর আগে এর একটা উত্তর পাওয়া গেলে বেশ হতো । 

সভ্য এক, পাঁশ্ডতেরা তাকে বহুরকমে ব্যাখ্যা করে থাকেন । 
সেরকম বহ্‌ ব্যাখ্যার কথা সত্যসুন্দর নিজেও জানেন । ?কন্তু সেই 
আদ সত্যটা কি 2 মৃত্যুর উপান্তে এসেও তিন ঈশ্বরের দিকে 
আকৃষ্ট হলেন না, একবারও মনের ভূলে বলে ফেলেন 1ন, ভগবান 
আমাকে ব6ও ! তাহলে যাদের জীবনে ঈশবর নেই, তাদের জন্য 
কোনো সত্যও নেই ? এ জীবনটা বৃথা কেটে গেল। তান 'ানজের 
নাম বদলে সত্যসুন্দর রেখোছিলেন। এখন বুঝলেন, ভুল নাম 
রেখোঁছলেন। তবু যাই হোক সত্যের সন্ধান না পেলেও 1তাঁন 

্দরকে দেখেছেন বহুরপে। 

লীলা যেন ইদানীং আরও সুন্দর হচ্ছে । 1ববাহত সম্পর্ক 
[বরাহত প্রণয়ে নারীদের রূপ খোলে । তাদের যৌবন বাঁদ্ধ পায়। 
এটা ঠিকই । অথচ লীলা তার স্বামীর যত্বের কোনো হ্যাট করে 
না। একই ঘরে মেঝেতে ববছানা পেতে শোয় রাত্রে। 

ল্গলা [িন্তু এ-পযন্তি একবারও প্রথম 1দনকার সেই ঘটন্য 
সম্পর্কে কোনো কৈফিয়ৎ দেয়াঁন সতাস:ন্দরের কাছে । যেন সেরকম 


৩৩ 


[কিছ ঘটেই'িন । এখন সেই ঘটনা কেউ উল্লেখ করলে লীলা নিশ্চয়ই 
দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করবে । পুরুষদেরই বিবেকের কামড় বেশশী 
থাকে । মেয়েরা সাধারণত অনেক কিছুই গোপন করার ক্ষমতা 
রাখে । সাধারণত । কারণ সব সময় পুরুষ ও নারী সম্পর্কে 
এরকম তুলনামূলক আলোচনা করা যায় না। মেয়েদের মধ্যেও 
কেউ কেউ অসাধারণ আছে । সত্যস:ন্দর এরকম একজনকে অন্তত 
দেখেছেন--অনেককাল আগে । 

প্রবীর যখন তখন আসে বটে কিন্তু সত্যসুন্দরের সামনে 
বেশীক্ষণ বসে না । সে এখন বাঁড়র ছেলের মতন, এ বাঁড়র বেশ?র 
ভাগ কাজকর্মই তাকে করতে হয়। ডান্তাররাও আলোচনা করে 
প্রবীরের সঙ্গে । 

প্রত্যেকাঁদন যাবার সময় প্রবীর একব।র করে বিদায় 'নয়ে 
যায় সত্যসংন্দরের কাছে । মুখখানা মলিন করে বলে, চাল স্যার ! 

তখন লীলাও ঘর থেকে বোরয়ে যায়। এ ঘর থেকে বদায় 
নেবার অনেক পরে নীচতলায় সদর দরজা বন্ধ করার শব্দ হয়, 
সত)সুন্দর এ শব্দটা শোনার জন্য কান পেতে থাকেন। 

মোটামুটি কাঁড় প*চিশ মানট বাদে প্রবীর যায়। শবদ।য় 
নেবার পর থেকে এ সময়টা সে কি করে 2 লালার সঙ্গে নিভৃতে 
তার অনেক ?কছু জরহার কথা থাকে 2 

সত্যস,ন্দর বুঝবার চেম্টা করেন, লীলার সঙ্গে প্রবীরের ভালো- 
বাসা ক রকম 2 শুধু ক শারীরক? শারীরক হলে তো 
একাঁদন ফাঁরয়ে যাবে ? লীলা কি তা বোঝে না ? হয়তো লগলার 
মধ্যে সুপ্ত সন্তান কামনা আছে । সেই সন্তান কামনার তাড়নায় 
অনেক নারী এরকম করে । তারা নিজেরাও এটা বোঝে না ঠিক। 

সত্যসুন্দর [ববাহ করেছেন তিনজনকে, এ ছাড়াও অন্যান্য 
নারীদের সঙ্গে তাঁর সংসর্গ হয়েছে । 1কন্তু সাঁত্যকারের ভালো- 
বেসেছেন শুধু একবারই একজনকে । 1তাঁন 'ছলেন কাবুলে এক 
ভারতীয় অধ্যাপকের স্ত্রী ॥ দুজনেই বাঙালণ মুসলমান । 


৩৭ 


সত্যসুন্দর তখন নিতান্তই যুবক । দানয়ার কোনো বন্ধন 
নেই । প্রায়ই যেতেন সেই অধ্যাপকের বাড়ীতে । অধ্যাপক-দম্পাতি 
দুজনেই খুব স্বেঘ করতেন তাকে | 1বশেষত অধ্যাপকের স্ত্রী,যাঁনি 
দেবীপ্রাতিমার মতন সুন্দরী [ছিলেন,খুবই দয়াগয়ী । এই গৃহছাড়া 
বাউণ্ডুলে ছেলোটির ওপরে তাঁর খুবই মায়া পড়ে গয়েছিল। প্রায়ই 
[তান যত্ব করে সত্যসংন্দরকে 1ানজের বাড়তে খাওয়াতেন । কখনো 
বিশেষ 1কছু রান্না করলে চাকরের হাত দয়ে 1চাঠ পাঠিয়ে 
ডাঞ্িয়ে আনতেন তাঁকে । 

সেই মাঁহলা?টকে সত্যসুন্দর অনায়াসেই দাদ বা ঝৌদর মতন 
শ্রদ্ধা করতে পারতেন । ক্ষিন্তু এস্রেহ গ্রাতির প্রাতদানে তান 
এ মাঁহলার প্রেমে পড়ে গেলেন । তান কাঙালের মতন ভালো- 
বাসতেন সেই মাঁহলাকে । একবার তাঁর চোখে চোখ ফেলবার জন্য 
তাকয়ে থাকতেন উৎসকভাবে । 

ক্রমে অধ্যাপক-পত্রা বুঝতে পারলেন এই ব্যাপারটা । মেয়েরা 
পুরুষদের দাষ্ট চেনে । মুখে কিছ বলেনান প্রথম প্রথম নীরব 
ভর্খসনা করতেন দন্ত ?দয়ে, তারপর সত্যসঃন্দরের কাতর চোখের 
দকে 1তানও চোখ রাখতেন, কিন্তু আর কিছু না। তাঁর ব্যবহার 
ছল খুবই সম্ভ্রান্ত । 

একাদন 1তাঁন সত্যস,ন্দরকে বলো ছিলেন, কেন এরকম পাগলি 
করছো 2 

সত্যসুন্দর বলোছলেন, জান না। 

সত্যস্ন্দর কোনো দন যে সেই মাঁহলাকে নিজের করে পাবে 
এমন আশা করেনাঁন, তানি যে বিরস্ত বা ক্রুদ্ধ হনাঁন, এতেই ধন্য 
হয়ে গিয়েছিলেন । যাঁদও অধ্যাপক-পত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার 
সুযোগ কমে গেল এর পর । আর [তান যখন তখন খাওয়ান না 
ডেকেও পাঠান না। 

অধ্যাপক ছিলেন খুবই উদার । তাঁর অনুপাস্থীততে অনেকেই 
তাঁন স্ত্রীর সঙ্গে গঙ্পগদজব করতে আসতো । মাহলা টির সুন্দর 


৩৮ 


চাঁরত্রের জন্য কেউ কোনো কথা বলেনি কথনো । শুধু সতাসংক্দর 
সেই সব মজলিস থেকে বাদ পড়ে যেতে লাগলেন । 

একাঁদন তান মাহলাকে বলোছলেন, আম তো আর কিছু 
চাইনি । একটু শুধু চোখের দেখা । তা থেকেও আমাকে বাঁণ্চত 
করলেন কেন ? 

অধ্যাপক-পত্ৰী বলে।ছলেন, আম আর সকলের সঙ্গেই যখন, 
খুশী দেখা করতে পার । অনেকের বাঁড়তেও যেতে পার । 
শুধু তোমার ব্যাপারেই এখন আমার লঙ্জা করে । 

_-আপাঁন চান নাযে আম"* 

_না,তানয়। চাই না বললে মধ্যে বলা হবে। কন্তু 
তোমার সামনে আর স্বাভাঁবক হতে পারি না, অন্যরকম হয়ে 
যাই। 

আফগানস্তানে সেই সময় একটা গণ্ডগোল লাগায় অধ্যাপক- 
দম্পতি তাড়াহুড়ো করে লাহোর চলে যান। সতাসুন্দর ছিটকে 
পড়েন অন্যাদকে । আর কখনো দেখা হয়ান। সত্যসুন্দর বাক 
জাঁবনে ভোগ সম্ভোগ কম করেননি কিন্তু ভালোবাসা বুঝি শুধ, 
এ একবারই । আর 1কছ না, শুধু দেখা করার তখব্ু ইচ্ছে। 

প্রবীর আর লীলার মধ্যে ইচ্ছের টানটা কার বেশী । এরা 
অবশ্য চোখের দেখাতেই থেমে থাকোন। 

২৭ আর একট। নতুন ঘটনায় সত্যসূন্দর সামান্য বচাঁলত 
হয়ে পড়লেন। 

লশলা এসে একাদন সকালে বললো, টাকা পয়সা ছু নেহ। 
তুমি যাঁদ সইটাও অন্তত করতে পারতে । ব্যাংক থেকে কিছ 
তোলা যাচ্ছে না! 

লালা সত্যসংন্দরের শ্রথ ডান হাতটা তুলে আঙ্লগুলো নিয়ে 
নাড়াচাড়া করতে লাগলো । একটা ছোট্র চিমটি কেটে জিজ্ছেস 
করলো, ঢের পাচ্ছে? 

সত্যসুন্দর রী1তমতন চমকে উঠোঁছিলেন । তাঁর শরীরে কহ 


৩৯ 


বোধ না হলেও চিমাটিটা লেগেছিল তাঁর বুকের মধ্যে। 

লীলা তাঁকে 'দয়ে চেক বইতে সই করাতে চায় । একটা চেকেই 
সব টাকা তুলে নেওয়া যেতে পারে । এ কিসের ষড়যন্ধ 2 

টাকা পয়সার ব্যাপারটাই বড় নোংরা । মনের মধ্যে নানারকম 
নোংরা চিন্তা আনে । সত্যসুন্দর নিজেকে এক ধমক দলেন। 

সাঁতাই তো টাকার দরকার । টাকা পয়সা তো ফাঁরয়ে যাবেই । 
তাঁব 1চাকৎসার জন্য ?ক কম খরচ হয়েছে । সত্যসন্দরের অনেক 
টাকা ছাঁড়য়ে আছে 'বাঁভন্ন জায়গায় ?কন্ত সই করে না দলে তো 
কেউ টাকা দেবেনা । 

লীলাব [নিজস্ব খরচের জন্য তান একটা আলাদা আযাকাউণ্ট 
খুলে | দয়োছলেন । কিন্তু তাতে কয়েক হাজার টাকা ছিল মানু । 
লীলা সেই টাকাই বোধ হয় এতাঁদন খরচ করেছে । আর কতদিন 
চলবে 

লীলার সঙ্গে তিনি কোনো জয়েন্ট আকাউণ্ট খোলেন নি। 
কারণ, তান কখনো এরকম অপনস্থ হয়ে পড়বেন, স্বপ্নেও 
ভাবেন নি। 

সন্ধেবেলা প্রবীর এসেছে, তার সামনেই লীলা বললো, বা।ংক 
থেকে টাকা তুলতে না পারলে কি হবে বলো তো 2 

প্রবীর অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো ।/ মদ গলায় বললো, দোখ 
আম যাঁদ কছ_ ব্যবস্থা করতে পার । 

_তুঁম আর কত করবে 2 

সত্যসধ্দস বুঝলেন তাঁকে শোনানো হচ্ছে যে প্রবীর এখন এই 
সংসার চালাতে সাহায্য করছে । 

অহংকার সত্যসুন্দর তুমি এক সময় মনে করতে দুনিয়ার 
কারুকে তুম গ্রাহ্য করো না। এবার বুঝে দেখো । তুম অন্য 
কারুর সঙ্গে কোনোপ্রকার সম্পর্ক রাখতে চাইতে না। এখন তোমার 
সংসার তোমার স্বর প্রোমক চালাচ্ছে । 

সত্যসুন্দর ভাবলেন, একসময় শরীরটা আমার দাস ছিল৷ 


59 


এখন আমি শরীরের দাস। কিংবা শরীর আমাকে বন্দী করেছে। 
আম ইচ্ছা করলে পায়ের আঙূলটাও নাড়াতে পার না এখন। 

লশলা প্রবীরকে বললো, আজ তুম দাঁড় কামাও্াঁন কেন ? 

কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে লীলা প্রবীরের গালে হাত 1দল। 

প্রবীর একটু সরে গিয়ে বললো, এমাঁনই, মানে সময় পাইন । 

তোমাকে এত ঘোরাথযার করতে কে বলেছে । তুমি তো যথেষ্ট, 
করেছো । এই করে করে এবার নিজের শরঈরটা খারাপ করবে ! 

লীলা আবার প্রবীরের গা ঘেষে দাঁড়ালো । তার গলা জাঁড়য়ে 
ধরে আভমানিনীর মতন বললো, তুমি আজকাল আমাকে একট?ও 
আদর করো না। 

প্রবীর ছিটকে সরে যাবার চেষ্টা করে বললো, ?ক হচ্ছে ক। 

সত্যসুন্দরও ভাবলেন,ঁক হচ্ছে কি। লীলার ক মাথা খারাপ ও 
তনতলার ঘরটা এখন একদম ফাঁকা পড়ে থাকে । লালা তো 
অনায়াসেই সেখানে প্রবীরকে ডেকে নিয়ে কাজের কথা বলার ছলে 
এইসব যা খুশী করতে পারে । এখানে কেন 2 এমনাক লাইরোর 
ঘরগুলোতেও- 

লীলা জহলজবলে চোখে তাকালো সত্যসুন্দরের দিকে । একটা 
অসভ্য ভ্রু ভাঙ্গ করলো । তারপন ।বশ্রী গলায় বললো, ক বুড়ো- 
দাদু, তুম রাগ করবে 2 করো না যত ইচ্ছে রাগ, কারুকে তো 
বলতে পারবে না। প্রবীর আমার, বুঝলে 2 স্ম্পূর্ণ আমার । 
ওকে [ানয়ে আম যা খাশ তাই করতে পার । 

প্রবীরকে আর বাধা দেবার সুযোগ না দয়ে লীলা আবার 
তার কণ্ঠলগ্না হয়ে তার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালো । প্রবীর ছটফট 
করছে । লালা ফেলে দিল বুকের আঁচল সোঁদনের মতন প্রবাীরের 
বুকে ছোট ছোট কল মেরে বলতে লাগলো কেন, কেন, কেন £ 

সত্যসুন্দর আজও এর কোনো মানে বুঝতে পারলেন না। 

প্রবীর বললো, লালা।দ, আপান শান্ত হোন। 

- আবার ললাদ ! তোমার লঙ্জা ক'রে না? 


৪১ 


_ চলো, বাইরে চলো ! 

না, আগে বলো, আমাকে ভালোবাসো না 2 

সত্যসুন্দরের মনে হলো এটা একটা 1ফল্মের দশ্য। বাংলা 
ফিজ্নের মতন অবাস্তব । লীলার কথাগুলো করকম কী 
শোনাচেছ । প্রবীরের চেহারা সুন্দর, 1কন্তু আধকাংশ 1ফল্মের 
গ]য়কের মতন সে ব্যন্তত্বহীন এবং আড়জ্ট। 

প্রবীর লীলাকে ছাড়িয়ে দ্রুত বাইরে চলে গেল । লখলা ?কন্তু 
পঙ্গে গেল না। সে এাগয়ে এলো সত্যসুন্দরের খাটের দিকে, চোখ 
দ";টা যেন অবলছে। 

সত্যসংন্দর ভয় পেলেন । মনে হলো, লীলা তাঁকে মারবে না 
তো? মারলেও 1তান ব্যথা পাবেন না, তবু ভয় হচ্ছে কেন? ভয় 
তো শরীরে হয় না, ভয়ের বাসা মানুষের মনে। 

লীলা মারলো না। বললো, ক রাগ করছো? রাগ ছাড়া 
তোমার আর ?ক-ই বা করার আছে ? 

সত্যসুন্দর মনে মনে বললেন, তুমি ধরেই নয়েছো আমি রাগ 
করেছি । আশ্চর্য । এত সহজে ধরে নেওয়া যায়! 

লীলা বললো, বেশ করবো । 

সত্যসুন্দর মনে মনে বললেন, তোমার স্বাস্থ্য আরও সমন্দর 
হয়েছে,রঙ হয়েছে উজ্জল । এখন তুম ধা করবে,১তাই-ই মানাবে। 

লালা চেশচয়ে ডাকলো, প্রবীর, প্রবীর ! 

প্রবীর বোধ হয় দরজার কাছেই দাড়য়োছল। সে আবার 
করে এলো । শান্ঠভাবে বললো, স্যারকে এখন একটু ঘুমোতে 
দাও ! 

লীলা বললো, তোমার স্যার তো সারা 1দন এবং রাত্তরই 
ঘুমোচেছেন। আর কত ঘুমোবেন ? 

লীলা দরজা বন্ধ করে দিয়ে এল । িনলত্জার মতন শাঁড়টা 
খুলে ফেলে বলতপা, প্রবীর, তীম আমাকে নাও। 

প্রবীর ইতস্তত করছে । 


০৮: 


লীলা আবার বললো, আম এত করে বলাঁছ, তবু তুমি "দ্বিধা 
করছো! 

প্রবীর সত্যসন্দরের দিকে একবার আড়চোখে তাকালো । তার- 
পর যেন সে আর 'নজেকে সামলাতে পারলো না। প্রবলভাবে 
লশলাকে আলিঙ্গন করে চুম্বন করলো । 

চু্বনাঁট বেশ দীঘন্থায়ী হয়। দেখে সতাসন্দর বেশ তৃপ্ত 
পান। দ্যাট নাশচত সঃন্দর দু'জন যুবক যুবতী মুখ চুম্বন 
করছে । 1সনেমাতে এরকম কত দেখা যায় । তবে দু'জনেই পাঁর চিত 
হলে একটু অস্বাস্ত লাগে । বশেষত একজন যাঁদ নজের স্ত্রী হয় 
_তবু সত্যসৃন্দর মনে মনে স্বীকার করলেন এটা দেখে তান 
ধুশীই হয়েছেন । এতে কোনো সন্দেহ নেই যে লীলা এই চুম্বনে 
যতখান আবেগ 1ম শিয়েছে,সেরকম আবেগের সীকভাগও কোনো 
[দন সত্যস:ন্দরকে দেয়ান । 

প্রবীর তার হাতটি রেখেছে ললার 1পঠে । লীলা নজের 
শরশরটা যেন প্রবীরের শরীরের মধ্যে মাঁশয়ে দিতে চায়। চুম্বনে 
চুম্বনে যেন ওরা পরস্পরের প্রাণরস শুষে ?নচ্ছে। 

দরজায় কে যেন ধাক্কা দল ॥। ওরা দু'জনে শুনতে পায়ান। 
সত্যসুন্দরই বলতে চাইলেন, দরজায় 1ছঢটাকাঁন দেওয়া আছেতো ? 
কণ্ঠস্বর থাকলে 1তাঁন নশ্চিত ওদের সাবধান করে দিতেন এই 
সময়। 

তার দরকার হলো না । প্রবীরই ?নজেকে মুক্ত করে 1নয়ে চলে 
গেল দরজার কাছে । লালা শাড়ীটা তুলে নিয়ে আলমারর পাশে 
সরে দাঁড়ালো । 

প্রবীর কার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চলে গেল বাইরে । 

লীলা ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো সত্যসঃন্দরের বুকের ওপর । 
কানার বৃণ্টিধারা নেমেছে । ফোঁপাতে ফোঁপাতে সে বললো, তবু 
তুম কিছ? বললে না 2 তবু বললে নাঃ আম এত খারাপ। 
আম তোমার মান সম্মান সব নম্ট করোছি ! তুমি আমাকে বকবে 


৪৩ 


না? তুমি আমাকে মারো, মারো আমাকে । 

সত্যসুন্দরের ক্ষমতা থাকলে তান একটা হাত তুলে লীলার 
[পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে সান্বনা দিতেন এখন। লশলা কত 
ছেলেমানষ ! 

চোখের জল মুছে লীলা একট: সাস্থির হলো । তারপর আস্তে 
আষ্ে বললো, ডাক্তারবাবু বলোঁছলেন, হঠাৎ মনে কোনো আঘাত 
পেলে তুম ভালো হয়ে উঠতে পারো ! তাই আম তোমার চোখের 
সামনে****'লাজলঙ্জা সব বিসর্জন 1দয়ে-***** 

ক্মতা থাকলে সত্যসন্দর এখানে হাসতেন । এতক্ষণ যা হয়ে 
গেল, ত। ক ডান্তারের নিদেশে 2 আধ্ীনক ববজ্ঞান কত উন্নেত 
হয়েছে । ডান্তার কি বলে দিয়োছল, ঠিক কটা চুম্বন আর ক'বার 
আলঙ্গন দরকার £ সেই জন্যই ব্যাপারটা অবাস্তব নাটক নাটক 
লাগাছল। ললা যে আত কাঁচা আভনেত্রী, তাতে কোন সন্দেহ 
নেই। 

লীলা স্বামীর চোখের সামনে কুলটা সেজে তাঁকে সমস্থ করতে 
চেয়েছে । সাত্য সুস্থ হয়ে উঠলে সত্যসন্দর কি এটা মেনে নিতেন ? 
অনা স্বামীরা 1ক নেয়? নাকি ততটুকুই সুচ্ছ হওয়া দরকার, 
যাতে [তান চেকে সই করতে পারেন। 

লীলা আজ এত বেশী করে কাঁদাছল কেন? স্বামীর সঙ্গে 
এরকম করতে হলো, সেই জনুতাপে ? 1কংবা, সার্ক হলো না 
বলে £ অসময়ে কেউ এসে দরঞ্জা ধাক্কা দেওয়ায় যে অতপ্ত রয়ে 
গেল, তার জন্যও কান্না পাওয়া অসম্ভব কি? এইসব জাঁটল 
প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না পেলে শরতেও ইচ্ছে করে না। 

কদন পর এইটা যেন লীলার একটা খেলা হয়ে দাঁড়ালো । 
বাড়তে এত জায়গা থাকতেও সে সতাসংন্দরের চোখের সামনেই 
প্রণয় লীলা চালাতে চায়। প্রবীরের আড়ঙ্টতা আস্তে আস্তে কেটে 
যাচ্ছে । বহুবার রহাসালের পর যেমন হয়। এখন সে অনেক 
সময় নজে থেকেই লীলাকে জাঁড়য়ে ধরে খুনসহাঁট করে । লালা 


898 


সত্যসন্দরের দিকে মুখ ভেংঁচি কেটে বলে, এই যে বুড়ো দাদু, 
দ্যাখো, দ্যাখো-। এই বলে সে ?ীজভ বদয়ে প্রবীরের গাল চেটে 
দেয়। 

সত্যসুন্দর যাতে ভালো করে দেখতে পারেন, সেইজন্য ওরা 
দু'জনে ধরাধার করে তাঁকে উপ্চু করে বাঁসয়ে দেয় । পেছনে দেয় 
বালশের গেস। 

সত্যসন্দরের একঘেয়ে লাগে এখন । ওরা বোঝে না কেনষে 
বারবার এই একই 'জাঁনস ওদের দু'জনের কাছে আনন্দদায়ক হতে 
পারে বটে, কন্তু অন্য কেউ আনন্দ পাবে না । এটাও 1ক ডান্তারের 
নদেশি ? 

একাদন দুপুরে সত্যসন্দর ঘুমিয়ে ছিলেন, হঠাৎ কার হাতের 
ছোঁয়া পেয়ে চমকে উঠলেন । বহকালের পুরোনো স্নেহের স্পশএ। 

তান চোখ মেলে তাকালেন, তাঁর পসামা ॥ বড় এখন প্রায় 
অন্ধ, কেউ হাত ধরে 1নয়ে না এলে হাঁটাচলা করতে পারেন না। 
এতাঁদন কেউ তাঁকে নিয়ে আসোন। আজ নিজেই আঁ তকজ্টে 
এসেছেন । 

[পিসী সত্যসন্দরের গায়ে হাত বলয়ে বললেন, ও রাজ, 
রাজুরে ! তোর নাক খুব অসুখ ? 

লালা বোধ হয় পাশের ঘরে ঘ.মোচ্ছে । জানতে পারলে বুড়িকে 
আগেই াবদায় করে দিত। এখন ঢাকার ঢানাান চলছে, তবু যে 
লখলা ব্যাড়কে এখনো দুটো খেতে দেয়, এই ঢের । 

বাঁড় বললো, ও রাজু কথা বালস নাকেন? তোর মাকে 
কাল স্বপ্নে দেখলাম । সে বললো, আমার ছেলেটা বুঝ এবার 
সন্যাসী হয়ে যাবে! 

সত্যসন্দর বললেন, ?পসা ! 

তারপর ডানহাত 1দয়ে তিনি পসাঁর হাতখানা চেপে ধরলেন। 

এবং তারপরই তাঁর বুক ধড়াস ধড়াস করতে লাগলো । মনে 
মনে নয়, 1তাঁন সাঁত্য ঠপসাঁ কথাটা উচ্চারণ করেছেন। তাঁর 


8৫ 


ডানহাত সাঁত্যই 'পসশর একটা হাত চেপে ধরেছে। 

এমন উত্তোঁজত বোধ করতে লাগলেন যে মনে হলো, এক্ষযাণ 
হার্ট ফেইল করে যাবে । তিনি মনে মনে বারবার বলতে লাগলেন, 
সত্যসুন্দর, শান্ত হও ! শান্ত হও ! 

পসাঁ বললেন, আমার এক নাত কাল সকালে এসে আমাকে 
নয়ে যাবে কাদনের জন্য । তাই তোকে বলতে এলাম । আমাকে 
তো কেউ ওপরে আনে না। কাল যাবো, আবার একমাস পরেই 
[ফরে আসবো । 

সত্যসুন্দর 'ফিসাফন করে বললেন, আচ্ছা ! 

সেইদিন রা'ত্তরে সত্যসূন্দর দেখলেন শুধু ডানহাত নয়, ডান 
পায়ের বুড়ো আওঙুলটাও তান নাড়াতে পারছেন। বোধ হয় 
শরীরের একাদকের অবসাদ চলে যাচ্ছে । তারপর আরেক দিক 2 

ডান হাত ঠিক হয়েছে, এখন 1তাঁন অনায়াসেই চেক সই করতে 
পারেন। তাঁর টাকার অভাব নেই । প্রবীরের সব খণ [তান শোধ 
করে দতে পারেন এক কলমের খোঁচায় । 

সন্ধ্যেবেলা খন লীলা আর প্রবীর ঘরে এলো, তিনি ছুই 
বললেন না। সবাঁকছু বলারই একটা বিশেষ মুহত“ আছে তো! 

এখন আর লীলা ?কংবা প্রবীর তাঁর কোনো খবরও 1জজ্জঞেস 
করে না। নজেদের মধ্যে কথা বলে । টাকা পয়সার প্রশু নিয়ে 
একট 1খাঁটামাট হয়, তিক যেন স্বামী-স্তীর মতন । আবার একটু 
পরেই বেলেল্লাপনা শুর: হৃষে যাষ । একটা জ্যান্ত ন্জরব মানুষ 
যেন ওদের আনন্দ বাঁড়য়ে দিয়েছে আরও। 

সোঁদন ওরা দু'জনেই সত্যসংন্দরের খাটে এসে বসলো । খুন- 
স:াট করতে করতে মণ্ন হয়ে গেল নিজেদের মধ্যে । 

লশীলা এক সময় সতাসন্দরের ডানহাতটা তুলে নিল নিজের 
হাতে। শীবদ্রুপ করে বললো, খুব রাগ হচ্ছে? ইচ্ছে হচ্ছে না 
আমাকে একটা চড় কষাতে 2 এই নাওঃ আমি মেরে দাচ্ছি! 

লীলা সত্যসংন্দরের হাতটা নিয়ে নিজের গালে আলতো করে 


5১০ 


আঘাত করে। তারপর 'হ-ীহ করে হেসে হাতটা ছেড়ে দেয় 
আবার । সত্যসুন্দর হাতটাকে ধপাস করে পড়ে যেতে দেন। 

আদুরে খুকীর মতন লীলা বললো, এবার আম মার ? 
দারুণ জোরে সত্যসুন্দরের গালে এক চড় কষায় ? 

প্রবীর [জিজ্ঞেস করে, স্যার, আপনার লাগে ন তো? 

সত্যসুন্দরের গালটা জালা করছে । 1তাঁন ভাবলেন, এই ক 
সুসংবাদটা জানাবার সেই বিশেষ মুহূর্ত? তান বলে উঠবেন 
ক, লীলা আম চেক সই করতে পারি, তুমি ইচ্ছে হলে আমার 
সব টাকা তুলে নিতে পারো ! 

অথবা, সে কথা না বলে তানি ক অপ্রত্যাশিতভাবে সাঁত্যই 
লশলার গালে একটা চড় কষাবেন ? 

হঠাৎ এরকম আনন্দ বা আঘাত পেয়ে লীলার যাঁদ আবার 
পক্ষাঘাত হয়ে যায়? থাক দরকার নেই । তান দুটোর একটাও 
করলেন না। 

[তনাঁদন পরে সত্যস:ন্দর দেখলেন, তাঁর ডানহাত ও ডান পা 
এখন সম্পূর্ণ সুস্থ । বাঁ 1দকটা এখনো অসাড় আছে। তবু তানি 
উঠে দাঁড়য়ে চলাফেরা করতে পারেন কোনোরকমে পা ঘষে ঘষে । 

তখন মধ্যরাত । সত্যস.ন্দর খাট থেকে নেমে ঘরের কোণে রাখা 
লাএটা নিয়ে নিলেন । এই লাঠিতে ভর ধদয়ে মনে হয় [তান 
অনেক দূর যেতে পারবেন ॥ 

1[তাঁন একচক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বড় একটা খনঃ*বাস 
ীনলেন। এই পাঁথবীতে তান আবার 'নজের আধকার ফিরে 
পেতে চান ॥। ক আধকার ? 

ঘরের মেঝেতে বানা পেতে লীলা রোজ যেমন ঘুমোর়, 
আজও তেমান ঘুমিয়ে আছে । সারা রাত নীল আলো জলে । 
1তাঁন একদ-ছ্টে লশলার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন । তার যুগ- 
পং রাগ এবং সহ জাগতে লাগলো । এক একবার মনে হলো, 
তাঁর একটা হাতেই যা জোর আছে তাই 1দয়ে তানি লীলার গলা- 


6৭ 


টিপে ধরে মেরে ফেলতে পারেন । আবার মনে হলো, ঘুমোলে 
ওকে কিরকম নিৎ্পাপ দেখায়। যেন একটা শিশু । জীবনটা নিয়ে 
[ক যে করছে, 'নজেই জানে না। 

সত্যসুন্দর বোরয়ে এলেন সেই ঘর থেকে । নিজেকে মনে 
হচ্ছে খাঁচা থেকে মস্ত কোনো পশুর মতন । শুধু বে*চে থাকার 
আনন্দ ছাড়া আর কোনো আনন্দ নেই এখন । জাবন যখন 
অপযপ্তি ছল, তখন ণৃত্যু সম্পকে কোনো চন্তা ছিল না। তখন 
আনন্দের কতরকম উপকরণ খুজতে হতো । এখন কেচে থাকাই 
একমাত্র কথা । 

তান এসে ঢুকলেন একটা লাইরোর ঘরে । বসলেন ছোট 
টোবলে। চার পাশে র্যাক ভার্ত রাশ রাশ বই। তাঁর সারা 
জীবনের সণয়। 

টোঁবলের ডুয়ার খুললেন । এখানেও রয়েছে একটা চেক বই, 
কলম। বেশ সাবলীল ভাবেই চেকের পাতায় নাম সই করতে 
পারলেন নজের । কোনো ঢাকার অগ্ক বসালেন না। লীলা সব 
নক! সেই বাল্যকালে (তান যেমন একবার ঘর ছেড়ে বাউণ্ডুলের 
মতন বোরয়ে পড়োছিলেন, এখন সেইরকন আবার বেরিয়ে পড়বেন । 
দেখা যাক পারা যায় কনা ! 

ড্রয়ারে কয়েকটা চুরঃট ও একটা লাইটারও ছিল। হঠাৎ ইচ্ছে 
হলো একটা চুরুট খেতে! এতে কি আনন্দ পাওয়া মাবে আর ? 

চুরুটট। মুখে দিয়ে তিনি এক হাতে টিপে টিপে লাইটারটা 
জ্বালালেন । চুরঃুটটা ধরাবার পর দু'একটা টান দিতেই তাঁর খুব 
কাশ এলো । 1তাঁন বিরন্ত হলেন । কাশির শব্দ শুনে যাঁদ লঈলা 
জেগে ওঠে ? 

টোঁবলের ওপর কতগুলো ক পুরোনো চীঠপন্র পড়ে ছিল। 
খোলা হয়ান ।  অভ্যেসবশত একবার ভাবলেন, চিঠগুলো 
পড়বেন ॥ কিন্তু মন বদলে ফেললেন পরক্ষণে ! 1ক হবে আর 
এসব (দিয়ে ! 


8৮ 


ছোট ছেলের মতন খেলাচ্ছলে তান লাইটারের আগ্দন 
ছোঁয়াতে লাগলেন [িঠিগুলোতে ॥ কয়েকটা জলে উঠলো, তাঁর 
ভালো লাগলো । জলন্ত িঠিগুলো তান ফেললেন বাজে 
কাগজের ঝহড়তে সেখানেও আগুন ধরলো । বইয়ের ঘরে এরকম 
আগুন 1বপজ্জনক । কিন্তু হঠাৎই এইসব বই ও মানুষের মেধার 
ওপর অসম্ভব রাগ এসে গেল তাঁর । 1তাঁনি জলন্ত কাগজ ছণুড়ে 
ছুড়ে দতে লাগলেন। 

আগুন যখন বেশ ভালো মতন ধরে উঠলো, ধোঁয়ায় বসে থাকা 
কম্টকর হলো, তখন সত্যসুন্দর কি ভেবে যেন চেক বইটাও ছ*ড়ে 
ফেলে দিলেন আগুনে । লাইটার, চুর;ট সব। তারপর ভাবলেন, 
ঘুমন্ত লঈলাকেও পাঁজাকোলা করে তুলে এনে এই আগুনের মধ্যে 
ছ“ুড়ে দিলে কেমন হয়? 

কন্তু তান সেরকম 1কছুই করলেন না। বই পোড়া শ্রী 
ধোঁয়া আর দাউ দাউ আগুনের দশ্য দেখতে লাগলেন চুপ করে 
বসে। 


অ/স-৪ ৪৯ 


হি তাজা 


রাঁববার ছাড়া প্রাতাট সকাল একেবারে ঘড়র কাঁটায় বাঁধা । 
ধাঁড়তে ঘাঁড়র সংখ্যা একুশ টি, জ্ঞানব্রতর খুব ঘাঁড়র শখ । দেশে 
1বদেশে যখনই বেড়াতে যান, 1বাভন্ন আকাঁতির একট করে ঘাড় 
সংগ্রহ করে আনেন । এগুলোতে চাঁবও দেন তান ?নজের হাতে । 

এ ছাড়া ডাইনং হলে আছে একটি বড় দেওয়াল ঘাঁড়। এট্রা 
জ্জানব্রতর বাবার আমলের । এখনো বেশ চলে, দু*এক বছর অন্তর 
অন্তর অয়োলং করতে হয় শুধু । টক টক্‌ টক টক করে সোটিতে 
প্রাত মুহূর্তের শব্দ হয়। জানয়ে দেয় যে সময় চলে যাচ্ছে । ঘণ্টা 
বাজবার একটা খর-র-র খর-র র আওয়াজ ওঠে, সেই আওয়াজ 
শুনলেই রান্না ঘরে কান খাড়া করে রতন। ডেকাঁচতে গরম জজ 
চাপানোই থাকে, ন'টা বাজবার সঙ্গে সঙ্গে সে এসে বলবে, বাথরহন্ে 
স্বানের জল দেবো ? 

বারো মাসই গরম জলে সান করা অভ্যেস জ্ঞানব্রতর । 

ন'টা পর্যন্ত বারান্দার ই1জ চেয়ারে বসে তান 1বাঁভন্ন খবরের 
কাগজ পড়েন, রতন এসে গরম জলের কথা বললেই স্বানের ঘরে 
চলে যান। 

সাড়ে ন'টায় খাওয়ার ঢেবিলে। দশটায় ড্রাইভার গাড় 
বারান্দার নীচে গাঁড় বার করে তৈরা থাকে । 

স্মরণকালের মধ্যে কোনো দিন এই নিয়মের ব্যাতিক্রম হয় নি । 

সুজাতা নিজের হাতে কিছু রানা করে না বটে, কিন্তু খাবার 
পাঁরবেশন করে নিজের হাতে । রতন সব কু সাজিয়ে রেখে 
যায় টোবলের ওপরে । 

খাবার টোবলে এই আধঘণ্টা সময়ই যা সুজাতার জ্ঞানত্রতর 
সঙ্গে কথাবাত! হয় সকালে । 


৫১ 


জ্ঞানব্রত ওঠেন খুব ভোরে । সুজাতার ঘুম ভাঙতে ভাঙতে 
প্রায় ন্টা বেজে যায়। জেগে উঠেই কোনো রকমে হুটোপাট করে 
মুখ চোখ ধুয়ে চুল আঁচড়ে ছুটে আসে খাবার টোবলে। সুজাতা 
না আসা পঞদত খালি প্লেট সামনে [নিয়ে চুপ করে বসে থাকেন 
জ্ঞান্রত। সুজাতা এসেই 1বাভন্ন পাত্রের ঢাকনা খুলে বলে, আজ 
কী কী করেছে দোখ ? এ'চোড়ের তরকার, 1চধাঁড় মাছের মালাই- 
কার." পানর (দিয়ে পালং শাক করেন 2 রতন, রতন ! 

ছেলে পড়ে দাজালিং-এর কনভেণ্ট স্কুলে, মেয়ে উত্জায়নঈর 
স্বভাবটাও অনেকটা মায়ের মতন। কলেজে যাবার ঠিক আধঘ্বপ্টা 
আগে ঘুম থেকে উঠেই হুড়োহড় শুরু করে দেয়। এজন্য 
মেয়েকে কোনাদন শাসন করেন 1ন জ্ঞানব্রত, কারণ স্কুলে প্রাতাঁট 
পরণক্ষায় সে ফান্ট হয়েছে, পণ্ম হ্থান পেয়েছে স্কুল ফাইনালে । 
ও রাত জেগে পড়ে । উত্জাঁয়নীর জন্ম হয়েছিল ফ্রান্সে, তাই বোধ 
হয় ফরাসীদের মতন ওর রাত জাগার অভ্যেস । 

জ্ঞান্রতকে খাবার দিয়ে সুজাতা সেই সঙ্গে নিজে চা খায়।, 
সুজাতার বয়েস এখন ঠিক চল্লিশ, কন্তু শুধ; সাজপোষাকের 
গুণেই নয়, তার শরঈরটা এখনো এমন তাজা যে তার বয়েস ত।রশ 
বললে কেউ চট করে আব্বাস করবে না। স্প্রদশা উত্জীয়নী যে 
সুজাতার মেয়ে তা অনেকেই 1বম্বাস করতে চায় না, ভাবে ব্াঝ 
দুই বোন। 

সূজাতার চেয়ে ঠিক দশ বছরের বড় জ্ঞানরত, পদ্য মানুষের 
পক্ষে এ বয়েস কিছুই নয়। শরীরটা তাঁর ভাঙতে শুরহ করেছে। 
মাথায় কাঁচার চেয়ে পাকা চুলই বেশণ, চামড়ায় নেই মসৃণতা, চোখের 
দৃ,পাশে কালের পায়ের ছাপ। সাথ কতা তাঁর শরীর থেকে মনল্য 
আদায় করে 1নয়েছে। 

চা শেষ করে একটা 1সগারেট ধরালো সুজাতা । জ্ঞানরত তিন 
মাস আগে ?সগারেট-দুরুট-পাইপ একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন, 
সুজাতা ওসব কিছ? 1চনতাই করে না। 


৪৪২ 


সকালের প্রথম [সিগারেট টিতে পারতৃপ্তর সঙ্গে টান ?দয়ে ধোঁয়া 
ছেড়ে সুজাতা জিজ্ঞেস করলো £ 

_-তুমি আজ কখন গাঁড়টা পাঠিয়ে দিতে পারবে ? 

জ্ঞানব্রত বললো, তোমার কখন চাই বলো ? 

_-সাড়ে এগারোটায় ! 

তার মানে সাড়ে বারোটা তো ? 

সুজাতা হাসলো । 

জ্ঞানররতর যেন প্রাত মুহৃতে" ঘাঁড়র হিসেব, সুজাতা তার ঠিক 
উল্টো । বাড়ী থেকে যাঁদ সাড়ে এগারোটায় বেরুবে ভাবে তো, 
[কছুতেই সে বারোটার আগে তৈরী হতে পাবে না। জীবনে 
একটা সনেমাও বোধ হয় সে শুর থেকে দেখতে পারে নি। 

_ কোথায় যাবে? 

--আমাদের মাঁহলা সাঁমাতির একটা মাঁটং আছে । 

_-ঠিক আছে, সাড়ে এগারোটাতেই গাঁড় আসবে । 

__চুমকি এই রাববার ওর বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যেতে 
চায় । তোমাকে কিছু বলেছে ? 

_-তোমাকে বলাই তো যথেম্ট। কোথায় যাবে? 

_ব্যাণ্ডেল। 

জায়গাটার নাম শুনতে পেলেন না জ্বানব্রত, একট অন্যমনস্ক 
হয়ে পড়েছেন্‌। 

ঠিক এই সময়েই তিনি শুনতে পেলেন গানটা । 

যোধপুর পাকে একেবারে আনোয়ার শা রোডের ওপরে মাত্র 
দু'বছর আগে তৈর করেছেন এই নতুন বাড়ী । সামনে বড় রাস্তা, 
তার উল্টোদিকেই একটা পার্ক, সুতরাং সামনের দকটা কোনাদন 
ব্রকড হবেনা । সাত কাঠা জাম, সামনে খানিকটা বাগান পাঁচিল 
শদয়ে ঘেরা । দোতলায় চারখানা ঘর, নিচে চারখানা | তিন তলাটা 
পুরোই ভাড়া দেওয়া হয়েছে চেক কনসহালেটের ফাম্ট” সেকেটারণকে। 
দুটি গ্যারেজ । 


৫৩ 


যখন এই বাড়ী বানান জ্ঞানব্রত তখন ডান পাশের তিন কাগার 
জামটাও কিনতে চেয়েছিলেন তানি। কিন্তু মাঁলকানা [নিয়ে কি 
যেন গণ্ডগোল ছিল। হঠাৎ এই ছ"মাস আগে সেখানে একটা 
(তিনতলা বাড়ী উঠে গেছে । অনেক লোকজন, বেশ গোলমাল হয় 
ও বাড়ীতে । [বাভনন তলায় একই সঙ্গে রেডিও রেকড প্রেয়ার চলে । 
এইসব আওয়াজে জ্ঞানব্রত একট] 'বিরন্ত হন, ীকন্তু কিছু করবার 
উপায় নেই। 
সেই রকমই, ও বাঁড়র রোঁডওতে একটা গান বাজছে । সোঁদকে 
হা মন আটকে গেল জ্ঞানব্রতর ৷ 
***শুহরে ষোলজন বোম্বেটে ; 
কারয়ে পাগলপারা 'ানিল তারা সব লুটে। 
রাজ্যে*বর রাজা যান, 
চোরেরও সে শরোমাঁণ 
নালিশ কারব আম, কোনখানে কার নিকটে । 
পাঁচজনা ধনী ছল, 
তারা সব ফতুর'-'হলো। 
গানটা শুনতে শুনতে জ্ঞানব্রতর মুখে একটা ম্লান ছায়া 
গড়লো । 1তান একটা দীর্ঘ*বাস ফেললেন । 
-_-ও ক, তুমি পুঁডিংটা খেলে না ? 
যতই সাহেব মানুষ হন জ্ঞানব্ত, অফিস থেকে দুপুরে তান 
কোথাও লা খেতে যান না। দোকানের খাবার তাঁর একেবারে 
পছন্দ নয়। ক্যালকাটা ক্লাবের মেম্বার [তিনি । সেখানে মাঝে 
মাঝে যান সাঁতার কাটতে । তারপর দহএক পেগ মদ্যপান করেন । 
কন্তু কোনো খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ করেন না । 
সকালবেলা বাড়ীর রান্না তানি খেয়ে যান তৃপ্তর সঙ্গে । আজ 
বিমর্ধভাবে বললেন, প্াডং ১ না, থাক, খেতে ইচ্ছে করছে না। 
__হঠাৎ তুমি কেমন গম্ভীর হয়ে গেলে ? 
_তাই নাকি ? 


৫8 


_হণ্যা। কোনো কথা বলছো না। শরখর ঠিক আছে তো? 

-শরশীর 2 হশ্যা, শরীর ভালো আছে। 

উঠে বাথরুমে চলে গেলেন তান । আয়নার দিকে চেয়ে তার 
মনে হলো, চুল কাটা দরকার । প্রত্যেক মাসের শেষ রাববার তার 
চুল কাটার দন। আজ মাসের মোটে অর্ধেক। এর মধ্যে চুল 
বেশী বড় মনে হচ্ছে কেন। 

জ্ঞানব্রতর বাবার ?ছিল মাথা ভাত টাক। সবাই বলতো জ্ঞান- 
ব্তরও চুল থাকবে না। 1কন্তু পণ্টাশ বছর পার হয়ে গেল, এখনও 
চুল একটুও পাতলা হয় নি। 

বাবাকে অবশ্য খুব ভালো মনে নেই জ্ঞানবতর। 1তাঁন যখন 
মারা যান তখন জ্ঞানব্তর বয়স এগারো । 

বাথরুম থেকে বৌরয়ে এসে হাতের ঘ়িটা দেখলেন । দশটা 
বাজতে [তিন বমাঁনট বাঁক । এখন তান খয়ের ছাড়া একি পান 
খাবেন। তারপর গলায় টাই বাঁধবেন। ীসগারেট চুরুট ছেড়ে 
দেবার পর এই পান খাবার অভ্যেসটা হয়েছে। 

1নজের ঘরে যেতে বাঁ পাশে মেয়ের ঘর পড়ে । দরজাটা খোলা, 
সারা 1বছানা তছনছ করে অদ্ভূত ভাঙ্গতে ঘ:1ময়ে আছে উজ্জীয়নী। 
মায়ের চেয়েও বেশ রূপসী হয়েছে, 1ঠক যেন এক ঘুমন্ত রাজ- 
কন্যা! একটুক্ষণ মেয়ের দকে তাকয়ে রইলেন জ্ঞানব;ত । দেখতে 
দেখতে এত বড় হয়ে গেল £ আর 1কছতাদন পরেই কোনো পর- 
পুরুষের হাতে ওকে স'পে দিতে হবে! 

ছেলে শুভব্ডতর বয়েস চোদ্দ, বছরে মাত্র তিনমাস দেখা হয় 
তার সঙ্গে। 

সংজাতার গালে একটা অন্যমনস্ক চুমু দিয়ে সিশড় দিয়ে ধীর 
ভাবে নামতে লাগলেন [তান। 

গ্যারাজ থেকে গাঁড় বার করে দরজা খুলে তটগ্ুভাবে দাঁড়িয়ে 
আছে ড্রাইভার। 

গাঁড় একেবারে চকমকে তকতকে না থাকলেই 'বরন্ত হন 


৫৫ 


ত্ঞানব্রত। আজ সোঁদকে নজর 'দলেন না, উঠে বসলেন। 

প্রথমে যেতে হবে বেহালার কারখানায় । কুড়-পপচশ 'মানিউ 
লাগে। এই সময়টুকু তান ঘহাময়ে নেন । গাঁড়তে ওঠা মানত 
চোখ বুজে আসে । 

আজ ঘুম এলো না। 

[নজেই 1তাঁন একটু বাদে অবাক হয়ে ভাবলেন, আমার মন 
খারাপ লাগছে কেন £ কোন কারণ নেই তো ! শরীর খারাপ নয়। 
তাহলে ? 

এর পরেই মনে এলো সেই গানের কথাগুলো £ 

শহরে ষোল জন বোম্বেটে 

কারয়ে পাগলপারা নল "* 

তারপর 2 

বাঁক কথা আর মনে পড়ছে না। সুরটা অবশ্য ঘুরছে মাথার 
মধ্যে। 

এ গানের মানে কী? 

জ্তানবত খুব যে একটা গান-বাজনার ভক্ত তা নয়। তার 
বাড়তে শবাঁলাতি রেকড'ই বাজে বেশী । বড় জোর দু'চারটে 
রবীন্দ্র সঙ্গীত । এ গান তো মনে হচ্ছে দেহতত্ত্র বা এ ধরনের, এ 
সব গান কে শুনবে £ রেডিও আছে, কিন্তু কক্ষনো খোলা হয় 
না। জ্ঞানবুত শেষ রোঁডও শুনেছেন ইলেকশনের খবর শোনার 
জন্য। নিয়ামত রেডিও শোনে মধ্যাবত্তরা | 

কারখানার গেটের কাছে যখন গাড়ি এসেছে, তখন জ্ঞানবতর 
মনে পড়লো, নল তারা সব লঃটে ! শহরে ষোলজন বোম্বেটে-_ 
কারয়ে পাগল পারা নিল তারা সব লুটে" । 

জ্ঞানবত এই গানটা যেন আগে কখনো শুনেছেন। 

কবে, কোথায় 2 

কারখানার দেখাশংনোর ভার তাঁর ভান্নে শেখরের ওপর । 
জ্ঞানবডত এ কারখানা 1নয়ে মাথা ঘামান না, 1শগাঁগরই মান্াজে 


৫৩৬ 


আর একাট কারখানা খুলবেন, সেই 1চন্তাতেই খানমঞ্ন। তবু 
রোজ একবার করে এখানে আসেন । শেখর কিছ কছু বাপারে 
1সদ্ধান্ত ?নতে পারে না, জ্ঞানবত সেই সব রিপোর্টের ওপর এক 
নজর চোখ বুলিয়ে হ্যাঁ কিংবা না বলে দেন। 

একুশ বছর আট মাস বয়েস পর্যন্ত জ্ঞানবত ছিলেন এক আত 
সাধারণ রিফিউাজ ছোকরা । পড়াশুনোয় ভালোই ছিলেন, 1কন্তু 
শৈশবে পিতৃহীন বলে মামার বাড়িতে মানুষ, টিউশান করে 
1নজের খরচ চালাতে হতো । 

মামাদের অবস্থা ভালো ছিল না। জ্ঞানবতর মা ছলেন তার 
ভাইদের বাড়ীতে ববাঁন-মাইনের রাঁধুন। 

টুথপেম্টের ছিপির মধ্যে যে একটা ছোট্ট গোল শোলার চান্তত 
থাকে, সেই বয়ে ব্বসা শুর? । এ ছোটু জানসটাও খুব জরুরী, 
ওটা থাকে বলেই 1টউব থেকে টুথপেষ্ট বোরয়ে আসে না। অত 
ছোট [জাঁনস কোন টুথপেষ্ট কোম্পানি 1নজে বানায় না, বাইরে 
থেকে কেনে । 

মূলধন 1ছল মাত্র দেড়শ ঢাকা । একটা পাণ্িং মেশিন আর 
1কছু কাঁচা মাল । কারকে না জানিয়ে জ্ঞানবডত শুর করে ছিলেন 
এই কারবার, পুরোটা লোকসান গেলেও তো তার 1নজের দেড়শ 
টাকাই যাবে। 

এখন তান একাঁট প্রখ্যাত মাঁকনি টুথপেম্ট কোম্পানশর সঙ্গে 
কোলাবোরেশনে এদেশে তৃতীয় টুথপেম্ট কারখানা খুলছেন। 
মামাদের উপকারের খণ শোধ করে 1দয়েছেন তিন, প্রত্যেক 
মামাকে নয়েছেন কোম্পানীর 1ডরেষ্তীর বোডে্ দুজন মামাতো 
ভাইকে 'বলেতে পাঁড়য়ে এনেছেন । শুধু তাঁর মা-ই কোন সুখ- 
ভোগ করে যেতে পারলেন না। সবেমাত্র এই বেহালার কারখানাটা 
লজ নেওয়া হয়েছে, সেই সময় মারা গেলেন মা। 

আঁফস ঘরে বসে কাগজপত্র দেখছেন জ্ঞানবত, হঠাৎ মুখ তুলে 
শীজজ্ঞেস করলেন- শেখর, তুই এই গানটা জানিস » শহরে ষোল- 


৫৭ 


জন বোম্বেটে ৷ কারয়ে পাগলপারা নিল তারা সব লুটে ।... 

শেখর একেবারে অবাক। 

তার মামা অত্যন্ত রাশভাঁর মানুষ । কাজের মধ্যে কোনো 
রকম ছ্যাবলাম করবেন ?তাঁন, এ তো কল্পনাই করা যায় না। এ 
ক একটা বদঘুটে গানের কথা 1জজ্ঞেস করছেন ! 

-গান? এটা কীগান ? 

জ্ঞানবত হাসলেন । 

পুরনো অভ্যেস মতই বাঁ হাতের দুটি আঙুল কাঁচ করে 
ধরলেন মুখের সামনে, যেন সেখানে রয়েছে অদশ্য সিগারেট । 

হঠাৎ এই গানটা শুনলাম রোঁডওতে। তারপর অনবরত 
এটা মাথার মধ্যে ঘুরছে । 

_রোৌডওতে শুনলেন 2 কখন ? 

_আজই খেতে বসে**' 

নতুন নামকরা 1শলপপাঁতি এবং সদা বান্ত জ্ঞানবত চ্যাটার্জ 
সকাল বেলা খাবার টোবলে বসে রোডওতে পল্লীগীতি শুনেছেন 
_-এ দৃশ্যও শেখরের পক্ষে কজপনা করা দুদ্কর । পাশের বাঁড় 
থেকে ভেসে আসা রেডিওর গান !নয়ে কে আর মাথা ঘামায় ? 

__মনে হচ্ছে যেন এই গানটা আমি আগে কোথাও শুনৌছ & 
কোথায় শুনলাম বল তো? 

আম তো এরকম গান কক্ষনো শান ন! 

_-তোর বাড়তে ফোন কর তো 2 

_বাঁড়তে ? 

--হ, তের মাকে একবার ডাক। 

দুই দাদ জ্রানব?তর । বড় দাদ থাকেন ভূপালে । শেখরের মা 
ছোড়দি। ছেলেবেলায় খুব সুন্দর গান করতেন । তারপর যা হয় 
আঁধকাংশ বাঙালী মেয়েদের । বয়ের পর গান বাজনার সঙ্গে 
সম্পক' ঘুচে যায় । 

_ছোড়াঁদ, আমি গেনু বলাছি। 


৫৮ 


বয়েসে বড় দিদি হলেও প্রাতিমা তাঁর এই ছোট ভাইকে একট] 
সমীহ করেন । জীবনে এতখানি উন্নাতি করেছে সে, তাঁর ছেলেকে 
বিরাট চাকার ধদয়েছে। এক সময় গেন; বলে ডাকলেও এখন 
বলেন জ্ঞান। 

_কাঁ রে? কী হয়েছে? 

-ছোড়াঁদ, তুমি তো এক সময় অনেক গান করতে । তুমি এই 
গানটা জানো ? শহরে ষোল জন বোম্বেটে** 

_নাতো! 

_-ভালো করে ছেবে দেখো; কখনো শোনো নি ? 

_না। হঠাৎ এই কথা জিজ্ঞেস করছিস যে? 

এই গানটা আমার মাথায় গেথে গেছে, কিছুতেই তাড়াতে 
পারছি না। আগে শুনোছ মনে হচ্ছে, খুব সম্ভবত ছেলেবেলায় । 

সুজাতা কেমন আছে ? 

--ভালো আছে । তোমাকে সুরটা শোনাবো ? তা হলে হয়তো 
তোমার মনে পড়তে পারে । 

আবশবাস্য, আব*বাস্য! আরও একজন কমণ্চারী এই সময় 
ঘরে ঢুকেছে । ইংরেজিতে যাকে বলে স্কান্ডালাইজড, শেখরের 
সেই অবস্থা । গোল্ডেন স্টার টুথপেষ্ট কোম্পানির একান্বভাগ 
শেয়ারের মালিক জ্ঞানব্রত আফস ঘরে বসে অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে 
টোঁলফোনে পল্লীগীতির সুর শোনাচ্ছেন 1দাঁদকে ৷ মাথাটা খারাপ 
হয়ে যায় ন তো ? ঘাঁড়র কাঁটা ধরে এই লোকের জীবন চলে । 

প্রতিমা টেলিফোনের ও প্রান্ত থেকে ঠিক বুঝতে পারছেনখনা, 
এই সময় তাঁর ক বলা উচত। তাঁর ঝোঁক ছিল নজরুল ও অতুল 
প্রসাদের গানে; সেও কতকাল আগের কথা । এ গান তো তন 
শোনেন ন কখনো ॥ তবু গুরত্বপূর্ণ ছোট ভাইকে খুশী করবার 
জন্য তান আমতা আমতা করে বললেন £ 

_ হ্যাঁ, কেমন যেন শোনা শোনা মনে হচ্ছে। 

_এর পরের কথাগুলো জানো ? 


৫৪১ 


-না। খুশীকে অনেকদিন দোখাঁন। একাঁদন আসতে বাঁলস 
না আমাদের এখানে । 

উত্জায়নীর ডাক নাম খুশী ! সে তার মাসীদের ভক্ত, পসীর 
বাড়ীতে যেতে চায় না। 

_-ভ্ঞাচ্ছা বলবো । তা হলে গানটা তুম জান না। তোমার 
কাছ থেকে শান ন। 

_-রাস্তার ভীখাররা অনেক সময় এইরকম গান গায়। 

টেলিফোনের লাইন কেটে দিয়েই অভ্যেস মতন ঘাঁড় দেখলেন 
জ্ঞানবডত। ঠিক সাড়ে এগারোটা বাজে । সজাতাকে গাঁড়টা 
পাঠাবার কথা ছিল । 

এরকম ভুল তার কখনো হয় না। 

সুজাতার সঙ্গে পাঁরচয় হয়েছিল 'িবলেতে, সেই প্রথমবার 
জ্ঞানবত ও দেশে গিয়োছিলেন। এখন বছরে দ:'বার তিনবার তাঁকে 
[বিলে ত-আমোরিকায় যেতে হয় । সুজাতা তখন ওখানে পড়াশুনা 
করছে । আলাপের তৃতীয় দিনেই জ্ঞানবত বুঝেোছিলেন, এই 
ময়োটকে না পেলে তাঁর চলবে না। প্রথম যৌবনেই ব্যবসা শুর? 
করে তার মধ্যে একবারে ডুবে গয়ে।ছলেন জ্ঞানবত, কোনো মেয়ের 
দকে তাকাবার সময় পান 1ন, সুজাতাকে দেখেই তার মনে হয়ে- 
ছল যাঁদ 1বয়ে করতে হয় তা হলে একেই, নইলে আর কারুকে 
নয়। 

সেবার ঠাবলেতে থাকার কথা ছল তন সপ্জাহ, থেকে গেলেন 
দু,পীস। 

কেনাঁসংটনের একটা ?সনেমা হল থেকে বোরয়ে জ্বানবঃত দুম 
করে সুজাতাকে বলোছিলেন, আপাঁন যাঁদ আমাকে 1বয়ে করতে 
রাজ থাকেন, তা হলে কাল আ'ম আসবো, নইলে আজই আমাদের 
শেষ দেখা । 

সুজাতা বলোছল, বীকন্তু আর পাঁচ মাস বাদে বে আমার 
পরীক্ষা ! 


৬০ 


- আম এখানেই ববয়েটা সেরে দেশে ফিরে যাবো । আপাঁন 
পরীক্ষা টরপক্ষা 1দয়ে তারপর ফরবেন। 

_কেন, আম দেশে ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না? 

--না। 

-এত অধৈর্য কেন আপান ? 

-আ 1ম চলে গেলেই আমার চেয়ে যোগ্য কেউ আপনাকে - 
1বয়ের প্রস্তাব দয়ে ফেলতে পারে । 

সুজাতা হাসতে হাসতে বলোছিল, আমার ধারণা ছিল, যারা 
প্রেমে পড়ে বয়ে করে, তারা পরস্পরকে তুমি বলে। এ রকম 
গুরুগম্ভীর ভাষায় কেউ যে কখনো বয়ের প্রস্তাব দেয়, তা আম 
জন্মে ভাব ন। 

আসলে জ্ঞানবুত লাজক । ব্যবসায়ীদের জগতে 1তাঁন গম্ভর 
মানুষ বলে পাঁরাঁচিত, সেটা লাজুকতারই একটা 1দক। সুজাতাকে 
1বয়ের দন পধন্ত 'আপাঁন”র বদলে তুমি বলতে বাধো বাধে 
ঠেকেছে! 

তক্ষীণ নিজের গাঁড়টা সুজাতাকে পাঠিয়ে দিয়ে কারখানার 
একটা গাঁড় নিয়ে তিনি চলে এলেন স্টিফেন কোটে তাঁর আফিসে। 

1[বকেল পর্ধন্ত সেই গানটা তাঁর সঙ্গ ছাড়লো না । যতই কাজে 
মন দেয়ার চেষ্টা করেন, সেই গানটা তাঁর মাথায় ঘুরে ফিরে 
আসে । এখন তাঁর মনে বদ্ধমূল জন্মে গেছে যে এই গানটা তান 
পুরো শুনেছেন তো নিশ্চয়ই, শুধু তাই নয়, পুরো গানটাই ?তান 
আনতেন। 1কন্তু কার কাছে যে শুনেছেন তা ?কছুতেই মনে 
পড়ছে না। 

আঁফস ঘরে সংলগ্ন তাঁর ?ানজস্ব বাথরুম । +বকেলে সেখানে 
ঢুকে তান দাব্য গুনগ্ীনয়ে গাইতে লাগলেন গানটা £ 

শহরে ষোলো জন বোম্বেটে 

কাঁরয়ে পাগলপারা নিল তারা সব লুটে 

তারপর ? তারপর ? 


৬১ 


জ্ঞানবুত অনুভব করলেন এই গানটার বাঁক কথাগুলো না 
জানতে পারলে তাঁর জীবনে আর সুখ আসবে না। রাত্তরে 
ঘৃমোতেও পারবেন না 1তান। 

শকন্তু এ গান কী করে উদ্ধার করা যাবে? সকালবেলা কোন 
এক অখ্যাত গায়ক রোডওতে গেয়েছে এই গান । কে তা শুনেছে 
বা মনে রেখেছে 2 অন্তত জ্ঞানবত যে জগতে ঘোরাফেরা করেন 
সেখানকার কেউ শুনবে না এই গান । 

ফোন তৃলে জ্ঞানবত চাইলেন আর ছি চৌধুরী আ্যাণ্ড 
কোম্পানীর ম্যানে'জং ডাইরেকুরের নাম্বার ! 

_-রশীদ সাহেব 2 আম জ্ঞানবুত চৌধুরী বলছি । টোকিও 
থেকে কবে ফিরলেন ? 

_-এই তো পরশু । আপনার জন্য একটা ঘড় এনোছ। 
আমার গরশীবখানায় কবে আসবেন বলুন ? নেক্সট সানডে ? 

-না, এ রাববার আম থাকবো না, পরে হবে একাঁদন। 
আপনাকে অন্য একটা দরকারে ফোন করছি । আপনার বাঁড়র 
পাটিতে একজনের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন, কলকাতা 
রেডিও স্টেশনের নতুন ম্টেশান ডরেকটার, কি যেন নাম ভদ্ু- 
লোকের ? 

_ এই রে, নাম তো জাননা আমও । কেন, খুব দরকার 2 

--আপনার বাড়তে নেমন্তন্ন করলেন, আপান তার নাম 
জানেন না ? 

_আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আমার ওয়াইফ ওনার ওয়াইফের 
খুব বধু । এক সঙ্গে পড়তেন কলেজে । সেইজন্য আপনার ভাবাই 
নেমন্তন্ন করেছিলেন ওদের দু'জনকে । নামটা বলোছিলেন বটে, 
এখন ভূলে গোছ। 

_--আপনার স্তীঁর কাছ থেকে নামটা জানা যায় না 2 

-কেন যাবে নাঃ হঠাৎ রোডিওর ন্টেশন [িরেকটারকে 
আপনার কী দরকার পড়লো £ পাবালাসাট দেবেন ; 


৩২ 


__না, না, সে সব কছ নয়, অন্য একটা দরকার ! 

দশ মিনিট বাদে রশশদ সাহেব জাগিয়ে দিলেন যে রোঁছিও 
্টেশনের এ পারচালকির নাম ীপ ?স বড়ুয়া । 

এবার জ্ঞানবুত চাইলেন রেডিও স্টেশন । 

__ আপনার সঙ্গে পাঁরচয় হয়োছল রশীদ সাহেবের বাঁির 
পাটিতে, মনে করতে পারছেন তো? 

_নশ্চয়ই । গোজ্ডেন স্টার টুথপেষ্ট তো 2 আমৌরকাতে 
আম ঘখন পড়াশুনো করতুম, তখন থেকেই এ টুথপেষ্ট ব্যবহার 
কাঁর। 

-_আপনার সঙ্গে একটা বিশেষ দরকার ছল । 

_বলুন। 

[ঠিক মুহূর্তে সামলে গেলেন জ্ঞানবত। আর একট, হলেই 
হয়োছিল আর কি ! তাঁর পক্ষে রোডওর ভ্টেশন ডরেক্টরকে টোল- 
ফোন করে হঠাৎ একটা পল্লশগণীত সম্পকে প্রশ্ন করা একেবারেই 
চলে না। মাম্ট নট ডান। 

__ আপাঁন আজ সন্ধেবেলা কি ব্যস্ত আছেন ? ক্যালকাটা ক্লাবে 
একবার আসতে পারবেন? 

-ক'টার সময় 2 

--এই ধরুন সাড়ে সাতটা-আটটা ! 

_ আচ্ছা আসবো । এই ধরুন এইটস! আপাঁন কোথার*** 

_-আম ওপরের বার রুমে থাকবো । 

_ ঠিক আছে দেখা হবে। আমার স্তী সোঁদন বলছিলেন, 
আপনার স্বর হাসিট একেবারে গোল্ডেন স্টার স্মইল। হাঃ 
হ12 হা । 

জ্ঞানবুত চিন্তা করে দেখলেন আজ সারা 'দনে 1তীন প্রায় 
1কছুই কাজ করেন নি। কী একটা সামান্য গান তাঁকে একেবারে 
পাগলা করে তুলেছে । আজই এর একটা হেস্তনেস্ত করে পনুরো 
ব্যাপারটা মন থেকে একেবারে চুকিয়ে ফেলা দরকার । 


৬৩ 


এ বোম্বেটে শব্দটা ! জ্ঞানবতর যেন মনে হচ্ছে এই গানেই 
তিনি প্রথম বোম্বেটে শব্দটা প্রথম শোনেন । শহরে ষোলোজন 
বোম্বেটে'**এ লাইনটার নিশ্চয়ই অন্য কোন মানে আছে । পুরো 
গানটা শুনলেই তা বোঝা যাবে। 

সুজাতাকে ঢোলফোন করে জানয়ে দলেন, আজ তাঁর ফিরতে 
দোঁর হবে। 

রেডিওর স্টেশন 1ডরেক্ুর ক্যালকাটা ক্লাবে আসবেন সন্ধ্যে 
সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে । মাঝখানে অনেকটা সময়। 
জ্ঞানব্রত সাধারণত দু'টোর পর আঁফসে থাকেন না। এক একজন 
লোক দন রাতের বেশীর ভাগ সময়ই আঁফসে কাটাতে ভালোবাসে । 
খুব বেশী কাজের চাপ থাকলে জ্ঞানব্রত ফাইল-পন্র বাড়তে [নিয়ে 
যান কিংবা ম্যানেজারদের বাড়তে ডাকেন। তার বাড়তে এজন্য 
দু”খানা আলাদা প্রর আছে । 

সন্ধ্যের সময় আঁফসের বদলে বাড়িতে বসে কাজ করার 
একটাই কারণ, খুব বেশীক্ষণ সুট টাই মোজা জুতো পায় থাকা 
পছন্দ করেন না তান। যত তাড়াতাঁড় সম্ভব বাড়ি 1ফরে এই 
সব ধড়া-চুড়ো ছেড়ে পাজামা পাঞ্জাবী আর চটি পরলেই স্বান্ত। 

আজ আর তাড়াতা'ড় বাঁড় ফেরা হবে না। এখন বাঁড় ফিরে 
আবার ক্যালকাটা ক্লাবে আসা একটা ঝাক্ধির ব্যাপার । জ্ঞানব্রত 
এখন বেশ লজ্জা পাচ্ছেন । কেন পি. 1সবড়ঃয়াকে ডাকতে গেলেন । 
ক বলবেন 1তাঁন ওকে? হঠাৎ এরকম ছেলেমানুষী কেন বা 
চাপলো কে জানে । 

চেয়ার ছেড়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়ালেন জ্ঞানরত । সাত 
তলায় ওপরের এই ঘর থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায় । এতো 
কাছেই রোডও স্টেশন। 1তনি ইচ্ছে করলেই ওখানে গিয়ে দেখা 
করতে পারতেন বড়ুয়া সাহেবের সঙ্গে? কিংবা ওঁকে বলতে 
পারতেন, আকস থেকে ফেরার পথে টুক করে দ7মানট থেমে 
যাবেন এখানে । কিন্তু সেটা রীতি নয়। অঙ্প পাঁরাচিত হোমড়া- 


৬৪ 


চোমড়া ব্যন্তদের রাবে ডাকাই নিয়ম । 

ডালহাউাঁস স্কোয়ারের চারপাশ এখন লোকে লোকারণ্য ৷, 
ওপর থেকে হঠাৎ দেখলে মনে হবে, বুঝি কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা 
বেধেগেছে। সে সব?কছুই নয়, আফস ছুটির সময় এ রকম 
ভড়ই হয়। 

অন্য দনের মত ঠিক ছ'টার সময় বেরোলেন জ্ঞানব্রত ৷ 

সুজাতা বকেলের দিকে আবার গাড় ফেরৎ পাওয়ে 1দয়েছে । 
না দিলেও অস্াবধে ছিল না। আফসের অন্য যে-কোন একটা 
গাঁড় (নতে পারতৈন। ড্রাইভার দরজা খুলে দাঁড়ালো । ভেতরে 
উত্তে বসে তানি বললেন, ইডেন গাডেনের দিকে চলো । 

1শাক্ষিত ড্রাইভার কখনো 1বস্ময় প্রকাশ করে না। 

সন্ধ্যের সময় বড়বাবু ইডেন গানে হাওয়া খেতে যাবেন, 
এটা প্রার আববাস ব্যাপার । তবু সে কোনো কথ। না বলে 
সোদকেই গাঁড় ঘোরালো । 

এক্ষযাণ ক্যালকাটা ক্লাবে যেতে চান না জ্ঞানবডত। সেখানে চেনা- 
শুনো অনেকের সঙ্গে দেখা হবে। এই সময় যারা খায়, তারা মদ 
খেতেই যায়। তাঁদের পাল্লায় পড়লে তাঁকেও মদের গ্লাস নিয়ে 
বসতে হবে। কিন্তু তাঁর মদ খাওয়ার প্রাতি বিশেষ ঝোঁক নেই, 
মাঝে মাঝে দাতন পেগ খান বটে । খুব একটা উপভোগ করেন 
না! 

1প.?স বড়ুয়াকে ?তান বার-রুূমে আসতে বললেন কেন? 
খেতে বসলে তো ড্রিংক না নেওয়ার কোনো মানে হয় না। কিছু 
না ভেবেই তখন বলেছেন । এখন বুঝলেন একটা কারণও আছে ॥ 
রশীদ সাহেবের বাঁড়র পাটিতে তান পি. ?স বড়ুয়াকে ঘন ঘন 
»কচ 1নতে দেখোছলেন। 

ইডেন গার্ডেনের পাঁশ্চম গেটটার সামনে গাঁড়টা থেমে গেল। 
জ্তানবতকে অন্যমনস্ক দেখে ড্রাইভার শুধু বললো, স্যার-_। 

সময় কাটাবার জন্য ইডেন গাডেনে [তান ঘুরে বেড়াবেন 2 


অ/স-& ৬৫ 


সেটা হাস্যকর । ওখানে অরপ বয়েসী ছেলে মেয়েরা যায় । অন্তত 
পণচশ বছরের মধ্যে জ্ঞানবত ইডেন গার্ডেনের এই দিকটায় 
সন্ধোবেলা একবারও আসেনাঁন। ক্রিকেটের সময় দুপুরে 
আসতেন বটে, তাও সারা দিনের পুরো খেলা কোনোবারই দেখা 
হয় ন। 

তার চেয়ে গঙ্গার ধারে খানকক্ষণ হেণ্টে বেড়ালে হয় । শীতের 
বেলা, এরই মধ্যে অন্ধকার হয়ে এসেছে । জ্ঞানবতর মনে পড়লো 
অনেকাদন তান কোনো নদী দেখেন ?ন। 

ড্রাইভারকে বললেন, তুম এখানে থাকো । আঁম আসাছ । 

স্ট্যাণ্ডের কাছঠায় যে এমন সুন্দর সব ফুলের গন্ধ আর 
এরকম বাঁধানো রাস্তা হয়েছে জ্ঞানবত জানতেনই না। অনেকেই 
এখানে বেড়াতে আসে । এমন 1ক তার বয়সী লোকও রয়েছে। 

আস্তে আন্তে হাঁটতে হাটিতে জ্ঞানব্ডত আপন মনে গুনগুন করে 
সেই গানটা গাইতে লাগলেন £ 

শহরে ষোলোজন বোম্বেটে 
করলে পাগলপারা ?নল তারা 
সব লুটে**" 

এক জায়গায় থমকে দাঁড়য়ে ?তাঁন ভাবলেন, আমার কি মাথা 
একেবারে খারাপ হয়ে গেল? এ কাঁ গান আম গাইছি? এ 
গানটা সারা দন আমার মাথায় গেথে আছে কেন? এর মধ্যে কী 
যাদু আছে 2 ট্রেনের বভাখার কিংবা বাউল-টাউলরা এরকম গান 
গায়, এর সঙ্গে গোল্ডেন ৯্ণার টুথপেষ্ট কোম্পানীর মালিকের ক 
সম্পক ! 

একটু বিরন্ত মুখে ?তাঁন গঙ্গার দিকে মুখ করে একটা গাছ- 
তলায় দাঁড়ালেন। 

বড় বড় কষেকটা জাহাজ আলোকমালায় সাজানো | ছোট ছোট 
অনেকগুলো নৌকা মোগার খোলার মতন দুলছে, এই মাত্র একটা 
স্টামার জলে ঢেউ তুলে ভ্যাঁ ভাঁশব্দে ডেকে চলে গেল। এই গানটার 


৬৬ 


সঙ্গে জ্ঞানব্রতর ছেলেবেলার কোন যোগ আছে 'নশ্চয়ই । জ্ঞানরতর 
খুব ভালো মনে পড়ে না ছেলেবেলার কথা । চোদ্দ বছর 1তন মাস 
বয়সে তাঁর বাবা মারা যান। তারপর থেকে সব স্মতিই খুব 
স্পম্ট, 1কন্তু বাবা ঘতাঁদন বেগে ছিলেন তার আগের 1দনগুলো 
যেন হারিয়ে গেছে একেবারে । অথচ সেই সবই ছল সুখের 1দন । 
বাবার হঠাৎ মৃত্যুতে তাঁদের সংসারটা লণ্ডভণ্ড হয়ে ?গয়োছল, 
একেবারে । 

ঠিক সাড়ে সাতটার সময় জ্ঞানব্রতর গাঁড় থামলো ক্যালকাটা 
ক্লাবের সামনে । 

এখনো তাঁর অন্যমনস্ক ভাবটা যায়ান। কোনো 1দকে না 
তা'কয়ে উঠে যাঁচ্ছলেন দোতলায় সখড় দিয়ে, হঠাৎ প্রায় মুখো- 
মুখ একজন দাঁড়য়ে সোল্লাসে বললো, হ্যাল্লো জ! বব! 1সায়ং 
ইউ আফটার আ লং টাইম! একাযে? 

জ্ঞানবত মুখ তুলে একটি বেশ দীর্ঘকায় মধ্যবয়স্ক ব্যান্তকে 
দেখলেন। তার পাশে এক ছিপাঁছপে চেহারার তরুণ মেয়ে। 
পুরুষাঁটকে চেনেন জ্ঞানবত, কনসালটোৌন্স ফার্ম আছে । জ্ঞানব্রত 
ব্যবসা শুর করার পর গোড়ার 1দকে কিছাদন এর সাহায্য নয়ে- 
ছিলেন, এখন ?বশেষ যোগাযোগ নেই, তবে তিনি শুনতে পান 
বাজারে এর অনেক ঢাকা ধার । 

জ্ঞানবত 1ফকে হাসির সঙ্গে বললেন, কী খবর, পি. সি? 

_খবর তো অনেক । আমরা চলে যাচ্ছলুম -চলুন তাহলে 
আপনার 'সঙ্গে আর একট বাঁস। াজ. ব, আপাঁন খানিকটা 
রাডিউস করেছেন মনে হচ্ছে । ইউ লুক ইয়াং । 

উচু মহলে কেউ কারুর নাম ধরে ডাকে না। নামের ইংরাজী 
দ:টি আদ্যক্ষর বলাই রেওয়াজ । 1জ. বি. ?প. সি. আর. এন. পি. 
কে। যেন মানুষ নয়, কোনো গুপ্ত সাত্কোতিক হু । 

জ্ঞানব্রত বুঝতে পারলেন, পি. 1ীস. নামের লোকটি এরই মধ্যে 
বেশ খানিকটা নেশা করেছে । ওর সঙ্গে টোবলে বসে কথা বলার 


৬৭ 


একটুও ইচ্ছে নেই তাঁর । 1কন্তু লোকটি ঈানজেই ?নজেকে নেমন্তন্ন 
করেছে। 

গাানব;ত বললেন, আমার সঙ্গে একজনের আ্যাপয়েন্টমেন্ট 
আছে । 

অকারণেই হা হাকরে হেসে উঠে পপ. [সি বললো, কোনো 
গোপন ব্যাপার ? কোনো পরস্তী ? আমরা সেখানে থাকলে অপরাধ 
হবে? 

তারপর হঠাৎ মনে-পড়া ভাঙ্গতে ?প. 1ীস তার পাশের মেয়োটর 
দিকে আঙুল দেখিয়ে বললো, আলাপ কাঁরয়ে দিই, মীঁট- মাই 
কাজন, এলা । এই মেয়েটির নাম এলা.**ইয়ে--মানে- কা যেন 
পদবী তোমার, ?কছুতেই মনে থাকে না। 

মেয়োট বললো, মুখাজি । এলা মুখাজি। 

1প. (স. নামের লোকটি তার এমনই কাজনকে সঙ্গে এনেছে, 
যার পদবীও সে জানে না। আজকাল এরকম কাজে মিথ্যে কথা 
বলার দরকার হয় না। এ শপ. 1স. যে-কোনো মেয়ের সঙ্গেই 
কঢলকাটা ক্লাবে এসে থাক না কেন, তাতে জ্ঞানবতর 1ক আসে 
যায়? 

তলা থেকে আরও লোক আসছে, এই 1সশড়র মাঝখানে 
দাড়য়ে থাকা যায় না। জ্ঞানবওত ওপরে উঠতে শুরু করতেই 1, 
স- আর এলা মুখাজি এলো সঙ্গে সঙ্গে । 

কোণের একটা টোবলে বসবার পর ?পি. +স. জ্ঞানরতকে বললো, 
আই উইল হ্যাভ ওয়ান স্কচ অন ইউ । এলা কা খাবে আপান 
জজ্ঞেস করঃহন। ইউ কান অফার হার হোয়াট এভার ইউ লাইক । 

এলা বললো,সে আগে ।জন আর লাইম খেয়েছে এখনও তা-ই 
খাবে। 

বয়কে ডেকে মৃদকণ্ঠে হুইস্কি, জন এবং ?নজের জন্য 
[মনারাল ওয়াটার অডরি 1দলেন জ্ঞান্ব ত। 

এলার কাঁধে আলগা হাত রেখো পি. শি, বললো, জানো তো 


৬ 


এলা, এই 1ীজ. বি. নাও আ ভোর বীগ, ম্যান_াঁকন্তু এক সময় 
ছিল, আমার কাছে আসতে হতো, আমি ব্যাঙ্ক লোন পাইয়ে 
দয়োছি। জী. বব. দই নি? ঠিক বলাছ? 

[প. সর উদ্দেশ্য আত স্পন্ট । একসময় সে জ্ঞানব্রতর উপকার 
করেছে । এখন তার প্রাতদান চায়। দহ"চার পেগ স্কচ খাওয়াবে, 
এ আর এমন কী! কন্ত এরকম প্রাতদান যে সে অনেকবার 
1নয়েছে, তা এলা জানে না। 

জ্ঞানব্রত কৃপণ নন, পি. ীস-কে খাওয়াতে তাঁর আপাঁন্ত নেই। 
তা ছাড়া এই স্ব খরচই যাবে তাঁর এক্সপেন্স আআকাউন্ট থেকে। 
1কন্তু (তান জানেন, একবার নেশা হয়ে গেলে, পি. ?স. আর 
থামতেই চাইবে না। 

এলা মেয়েটি খুবই সমপ্রী। মুখে বুদ্ধর আভা আছে । পি. 
1স'র সঙ্গে তার বয়েসের অনেক তফাৎ, অন্তত গৃতারশ বছর তো 
হবেই । এইসব মেয়েকে মদ্যপানের সাঙ্গনা হিসেবে পি. বস. 
জোগাড় করে কী ভাবে 2 আর এই সব মেয়েরাই বা আসে কেন? 

এলা 1নজের হাতব্যাগ থেকে একটা 1সগারেটের প্যাকেট আর 
লাইটার বার করলো । দুশটই বেশ দামী । তারপর জ্ঞানব্রতর 
দকে তা?কয়ে একটু লাজুকভাবে জিজ্ঞেস করলো, আম আপনার 
সামনে [সিগারেট খেতে পার 2 

জ্ঞানব্রত অবাক না হয়ে পারলেন না। তাঁর সামনে মদ খেতে 
পারে, অথচ গ?সগারেট ধরাতে লঙ্জা, এ আবার কা ধরনের মেয়ে ? 

জ্ঞানরুত কিছু বলবার আগেই | প.1স. বলে উঠলো,আরে খাও, 
খাও! বাজ, ব ঠকছু মনে করবে না। বছরে দুশাতনবার লণ্ডন 
আমোরকা যায়। এলা বললো, না আম ওঁকে আগে থেকেই 
চিনি কনা । 

-আপাঁন আমাকে চেনেন ? 

_ আমাকে 'আপাঁন' বলছেন কেন ? পি. সি. আবার মাঝখানে 
বলে উঠলো ওকে 'আপাঁন" বলার কী আছে * 'ীজ. ীাব. ইউ আর 


৬০ 


সো ফরমাল*** 

জ্ঞানব্রতর মনে হলো, এখানে এখন পি. ীস. না থাকলেই ভালো 
হতো । এলা নামের এই মেয়োঁটর সঙ্গে তাঁর কথা বলতে ভালো 
লাগতো । এক একাট মেয়ে থাকে, যাদের মুখের দিকে তাকালেই 
ভালো লাগে, এলা সেই রকম । 

_ তুমি আমায় আগে থেকে চেনো ? 

_ হ্যাঁ, একবার দেখোছ । আপাঁন তো উজ্জায়নগর বাবা ! 
উজ্জীয়নীর সঙ্গে আম ব্রেবোর্ণে পড়েছি এক বছর । তখন একবার 
আপনাদের বাঁড় গিয়েছিলাম । 

জ্ঞানব্রত স্পষ্ট টের পেলেন, তাঁর শরীশরটায় ঝনঝন শব্দ হলো । 
এই মেয়েটি তরি মেয়ে উত্জাঁয়নীর সহপাঠিনী ? পি. সর মতন 
একজন সন্দেহজনক চাঁরন্রের লোকের সঙ্গে ঘোরে । তাঁর সামনে 
বসে মদ খাচ্ছে, ?সগারেট খাচ্ছে তাঁর মেয়ের বান্ধবী, উজ্জায়নীর 
কত বয়েস? কয়েক মাস আগেই ওর কুঁড় বছরের জন্মাদন গেল 
নাঃ এই মেয়েটির বয়েসও তা হলে কুঁড় একুশ। তবে ক 
উজ্জীয়ননও অন্য কোথাও অন্য কারুর সঙ্গে এইভাবে'*'না না তা 
হতেই পারে না! 

দু”এক মুহূর্ত আগে জ্ঞানব্ত ছিলেন পুরুষ মানুষ, এখন 
হয়ে গেলেন বাবা । তাঁর মেয়ের সম্পর্কে দুশ্চিন্তা হতে লাগলো, 
উজ্জীয়নী অনেক স্বাধীন হয়ে গেছে, যখন তখন বাঁড় থেকে 
বেরয়ে যায়'*জ্ঞানব্রত তেমন খবর রাখতে পারেন না। 

এলা [সগারেটে ধোঁয়া ছেড়ে বললো, উজ্জায়নী এখন এম এ 
পড়ছে নাঃ আম আর এম. এ-টা পড়লুম না! 

তৎক্ষণাৎ সপ্তা রাসকতার সুরে 1প. সি. বললো, তার বদলে 
প্রেমে পড়ে গেলে ! হাহঃহাঃ-হাঃ | 

জ্ঞানরত আড়ঙ্ট হয়ে বসে আছেন । এলার 1দকে তান আর 
তাকাতেও পারছেন না। 

এলা বললো, কলেজে আমরাএকবার'তাসের দেশ+ করে ছিলুম, 


509 


উত্জায়নী হরতনন সেজোছিল, আপাঁন দেখতে গিয়েছিলেন ? 

জ্ঞানব্রত দুদকে মাথা নাড়ালেন। 

-আম হরতনীর গান গেয়োছলুম পেছন থেকে । 

পি. সি. বললো, খুব ভালো গান গায়। শীজ. [বার অবশ্য 
গানটান শোনার সময় নেই, সোঁকং মানি অল দ। টাইম-- 

গান কথাটা শোনামান্র জ্ঞানবতর আবার মনে পড়লো সেই 
লাইনগুলো- শহরে ষোলোজন বোম্বেটে - কারয়ে পাগল্পারা- 
ানল তারা সব লুটে-_। 

পি. ?স বললো, বাংলা সিনেমায়, রোড ওতে আজকাল যা বাজে 
বাজে গান হয়, সেই তুলনায় এলা"*শশ ইজ আ ওয়ান্ডার***এমন 
চমৎকার গলা ? 

_চুপ করো! তুমি বড় বাড়িয়ে বলছো । 

জ্ঞানবডত মুখ তুলে তাকালেন। এলা তুমি বলে কথা বলে 
পি.1স"র সঙ্গে । এই মেয়োটর পশ্চাৎপটটা ?তাঁন ঠিক ধরতে 
পারছেন না। মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার অভ্যাসও তাঁর নেই । 

পি. সর গেলাস খাল হয়ে গেছে । বেয়ারা এসে দাঁড়াতেই 
সে বললো, হা দাও, আর একটা ! 

এলা আর 1নতে চাইলো না । সে বললো, আম এবার উএবো। 
তা ছাড়া উাঁন কারুর জন; অপেক্ষা করছেন, আমরা শুধু শুধু 
শডসটার্য করাঁছ ওঁকে- 

এক্ষেত্রে ভদ্রুতা করে জ্ঞানব্তর বলা উচিত, না না, সেরকম 
কোনো ব্যাপার নয় ইতযাদ। 1কন্ত সে সুযোগও [তান পেলেন 
না, তার আগেই ?প. বিন. বলে উলো, আরে বাঃ । বীজ. বকে কি 
আম আজ থেকে চান কতকালের সম্পর্ক! সাটেইনাল হি 
ওল্ট মাইন্ড***তোমার মত একজন সুন্দর মেয়েকে দেখেও ববস্ত 
হবে, কী, 1জ. বি? 

জ্ঞানবত বললেন, মাই প্রেজার ! 

পরের গেলাসে দহ'চুমুক 1দয়েই পি. সি. বললো, আম একটু 


৭১ 


আসাঁছ। তারপর সে বোঁরিয়ে গেল । 
এবার জ্ঞানবত আর এলা মুখোমুখি । জ্ঞানবওত অশ্বান্ত বোধ 
করতে লাগলেন । কোনো কথা খুজে পাচ্ছেন না। 
--আপনাকে দেখলে ?কন্তু বোঝা যায় না। 
জ্জানবডত একট চমকে উঠে জিজ্ঞাসা করলেন, ?ক ? 
-আপনার মাথায় এত চুল, একটাও পাকে ?ন। 
ও, বয়েস! 
--এখনো খুব ইয়াং আছেন ! 
এলার হাসিটা দেখে আরও চমকে উঠলেন জ্ঞানবত। কম 
বয়েসী মেয়েদের সঙ্গে তেমন মেলামেশার অভ্যেস না থাকলেও এ 
হাস দেখলে [চিনতে ভূল হয় না। প্রশ্রয়ের হাস। প.1স'র 
অনুপাস্থীততে এলা তাঁকে আকৃষ্ট করবার চেষ্টা করছে। তাঁর 
1নজের সমবয়েসী একটি মেয়ে** 
ীজ.ই.স কোম্পানীর চৌধুরী এই সময় বার-রুমে ঢুকে 
জ্ঞানব্ডতকে দেখে কথা বলার জন্য এাঁগয়ে এসে থমকে গেলেন 
হঠাং। তারপর দ্রুত চলে গেলেন উান। এরকম ভর সন্ধোবেলা 
ক্যালকাটা ক্লাবে কোনো যুবতা মেয়েকে [নয়ে মদের ঢোবলে বসে 
থাকবেন জ্বানবওত চ্যাটাজীঁ, এ রকম যেন কেউ কল্পনাই করতে 
পারে না। 
জ্ঞানবঃত মনে মনে একটু হাসলেন। চোধুরণ বোধহয় ভাবলেন, 
হঠাৎ রাতারাতি তার চাঁরন্র পালটে গেছে। 
কী মুসকল, পিস আসছে না কেন? বাথরুম করতে এত 
দেরী হয়? ীনশ্চয়ই আর কারুর সঙ্গে গজ্পে মেতে গেছে । 
কতক্ষণ আর চুপচাপ বসে থাকা যায়, তাই জ্ঞানবত কথার 
কথা হিসেবে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথায় থাকো £ 
--গোল পারে। ওয়াক গালস হোস্টেলে | 
- হোস্টেলে 2 তুমি চাকার করো? 
_করতাম। এখন কাঁর না। 


৭২ 


পর মুহতেই এলা ঝরঝর করে হেসে বললো ভয় নেই, 
আপনার কাছে চাকার চাইবো না। আপনার গান বাজনা [নয়ে 
থাকার ইচ্ছে। আপাঁন গান ভালোবাসেন না? 

_-খুব যে ভালোবাস কিংবা বাঁঝ, তা বলতে পার না। তবে 
মাঝে মাঝে শুন। 

_সামনের সপ্তাহ থেকে যে হাফেজ আলীর নামে কনফারেন্স 
হচ্ছে, তাতে যাবেন 2 আম যেতে পার আপনার সঙ্গে । 

একটু গন্ভার হয়ে জ্ঞানব্ত বললেন, সামনের সপ্তাহে আমার 
কলকাতায় থকা হবে না। বোম্বে যেতেই হবে। 

_বাবা! আপনারা সব সময় এত ব্যস্ত! 

_তুম কী গান করো ? পল্লীগীতি ?কংবা পুরানো বাংলা 
গান জানো ? 

_ফেোক সঙ্‌ 2 না ওসব আম কার না"'*আম নজরুল- 
অতুল প্রসাদের গান***্রবীন্দ্র সঙ্গীতও শিখোঁছ। কন্তু রবাল্দ্ 
সঙ্গীতের এত আটন্ট যে চান্স পাওয়া যায় না। 

এবার রোডও জ্টেশনের বড়ুয়া দরজা দিয়ে ঢুকে এঁদক ওদিক 
তাকাচ্ছেন। জ্ঞানবুত হাত তুললেন। 

বড়ুয়া এলার [দিকেই তাকাতে তাকাতে এাঁগয়ে এসে চেয়ার 
টেনে ববলেন। বড়ুয়া ও জ্ঞানবওত প্রায় সমবয়েসীই মনে হয়, 
মাথার চুলে কিছ? পাক ধরেছে । 1কন্তু জ্ঞানবওতর তুলনায় বড়ুয়া 
অনেকটা ছটফটে ধরনের মানুষ । এদের আদ বাঁড় চট্টুগ্রামে, তবে 
এখন নজেকে অসমীয়া বলে পাঁরচয় দেন। 

পাক্কা সাহেবের মতন সুট-টাই পরা বড়ুয়ার । বসেই কোটের 
দু,পকেট থাবড়াতে থাবড়াতে বললেন, আই আযম স্লাইটাল লেট _ 
আটটা দশ--এই যাঃ! 1সগারেট আনতে ভুলে গেলাম ! 

টেবিলের ওপর এলার 1সগারেটের প্যাকেট আর লাইটার পড়ে 
আছে। বড়ুয়া ধরেই নিলেন সেগুলো জ্ঞানন্রতর । 1তাঁন সোঁদকে 
অন্যমনস্কভাবে হাত বাড়াতেই জ্ঞানব্রত বললেন, আম 1সগারেট 


৭৩ 


আ'নয়ে দিচ্ছি, আপনার কণ ব্র্যান্ড ? 

এলা বললো, নন না! 

এবার আলাপ করিয়ে 1দতে হয় । জ্ঞানব্রত বললেন, ইন মিস 
এলা মুখাজন, গান করেন, আর ইাঁন এন স বড়ুয়া কলকাতা 
রেডিওর *** 

বড়ুয়ার চোখে বেশ খাঁনকটা কৌতূহল ফুটে উঠলো । ?তান 
একবার এলার মুখের কে, একবার জ্ঞানব্রতর দিকে তাকাতে 
লাগলেন । ব্যাপারটা ধরতে পারছেন না। 

এরকম অদ্ভুত অবস্থায় জ্ঞানব্রত কখনো পড়েন নি। ঝোঁকের 
মাথায় বড়ুয়াকে তান এখানে ডেকোছিলেন। বড়ুয়া নশ্চয়ই 
একটা 1কছু কারণ জানতে চাইবেন । অন্তত মনে মনে। কিন্তু 
কী কারণ দেখাবেন জ্ঞানব্রত £ যা বলতে চান তাও এখন বলা যাবে 
না। এলাকে নয়ে তান বসে আছেন । এলা গান গায়। বড়ুয়া 
হয়তো ভাববেন এই মেয়োটর সঙ্গে আলাপ কাঁরয়ে দেবার জন্যই 
তাঁকে এখানে ডাকা হয়েছে। এই মেয়েটিকে যে জ্ঞানররত প*য়তাল্লশ 
1মানট আগেও চিনতেন না। তাক বি*বাস করবেন ? 

এরপরই এসে পড়লো পি. স। 

জ্ঞানব্রত একটা দীঘ*বাস ফেললেন । বলা হবে না, কোন কথাই 
বলা হবেনা আজ । অনাবশ্যক অন্য ঝাপারে জাঁড়য়ে পড়ছেন। 

তাঁর ইচ্ছে হলো, কারুকে কহ না বলে হঠাৎ এখান থেকে উঠে 
চলে যেতে । 

সে রাতেক্ঞানবত বাড় বফবলেন এগারবাগারও পর এবং বেশ 
মাতাল অবস্থায় । এটা একটা আভনব ঘটনা । 

সুজাতা অবাক হয়েছে ঠিকই, কিন্ত বালতি ?শক্ষা অনঃযায়ী 
মূখে সে ভাব ফোটালো না। কোনো এক ইংরেজ মাহলা উপন্যা- 
সকের লেখায় সংজাত্রা পডোছল ষে, যারা প্রকৃত লেডা, তারা 
কোন কিছুতেই চট করে অবাক হয় না। 

কেন দেরী হলো, কান্দর সঙ্গে ছিল এসব কিছুই 'জজ্ঞেস 


9 


শি 


করলো না সুজাতা । শুধু জানতে চাইলো, তুমি কি রাত্রে আর 
কছহ খাবে ? 

জ্ঞানবতর চক্ষু দুটি লাল, চুল এলোমেলো, টাইয়ের ?গণ্ট 
আলগা । সারা মুখে একটা জদ্লজলে ভাব । মাথা নেড়ে বললেন, 
না। 

স্বামী স্ত্রীর একই শয়নকক্ষ বটে িকন্তু আলাদা দহ”টি খাট । 
ঘরাঁট বেশ বড় । খাট দুশট দুদকের দেয়ালে পাতা । এই ব্যবস্থা 
এই জন্য যে সুজাতা অনেক রাত জেগে উপন্যাস পড়তে ভালো- 
বাসে । জ্ঞানবত ঘুমিয়ে পড়েন কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে দশটায় এবং 
চোখে আলো তাঁর সহ্য হয় না। সুজাতার খাটের সঙ্গে একটা ছোটু 
আলো লাগানো আছে বই পড়বার জন্য । 

সুজাতা বললো, তুমি আযসাঁপাঁরন বা আন্টাসড জাতীয় 
কছু ওষুধ খাবে 2 

জ্তানব্রত প্রথমে দ:শদকে ঘাড় নাড়লেন। তারপর এক মুখ 
হেসে শিশুর মতন আবদারের গলায় বললেন, একটা 1সগারেট 
খেতে ইচ্ছে করছে । দেবে? 

এতেও 1বাস্মত ভাব দেখালেন না সুজাতা । 

আজ এরকম পরপর 1নয়মের ব্যতিক্রম করছেন জ্ঞাতবরত । 

এক সময় তাঁর মুখে সিগারেট ?িকংবা চুরুট সব সময় লেগে 
থাকতো । সাত মাস আগে একাঁদন বাথরুমে মাথা ঘুরে পড়ে 
1গয়োছলেন । ডাক্তার অবশ্য অনেক পরীক্ষা করেও হারের কোনো 
রোগ ধরতে পারেন নি। তবে সাবধান হওয়া ভালো । 1সগারেট 
চুরহ্ট এসব ছাড়া দরকার । 

1সগারেটের অভ্যেস ছাড়া পৃ1াথবীর বহু লোকের পক্ষে খুব 
শন্ত হলেও জ্ঞানব্রতর কাছে কিছুই না। সেই যে চুরুটের বাক্স 
ছুড়ে ফেলে দিলেন রাস্তায়, তারপর থেকে এই সাত মাসের মধ্যে 
একবারও ভুলেও ধূমপানের ইচ্ছে প্রকাশ করেন নি। তাঁর যেমন 
কথা, তেমন কাজ । 


৭৫ 


এক সময় মুখে দুটো ীসগারেট এক সঙ্গে 1নয়ে লাইটার গদয়ে 
ধারয়ে জ্ঞানবত তার একটা দিতেন সুজাতাকে । বয়ের পর িছহ- 
দন রাত জেগে গল্প করার সময় দু'জনে পাশাপাশ বসে এক 
প্যাকেট 1সগারেট উডিয়ে দিতেন । 

সুজাতা [সগারেটের অভ্যেস ছাড়তে পারে নি। 

স্বামীর 1দকে প্যাকেটটা বাঁড়য়ে দিয়ে বললো, আই থংক, 
ইউ বেটার নট । 

_খাই না একটা ! 

আগেকার মতন আর এক সঙ্গে দুটো িসগারেট জনলালেন না 
জ্ঞানবওত । শুধু নিজেরটা ধাঁরয়ে বললেন, আজ একটা বড় মজার 
ব্যাপার হয়েছে । একটা গানের কটা লাইন এমন মাথার মধ্যে ঢুকে 
গেছে যে ীকছুতেই তাড়াতে পারাছ না। এমন কি এতখানি মদ 
শগলে ফেললম, তাও যাচ্ছে না! 

-কী গান? 

একটা হেশ্চাক উঠতেই প্রথমে মুখে হাতচাপা 1দয়ে জ্ঞানবত 
বললেন, সার । তারপর উ* উ* করে সুর ভে'জে গেয়ে উঠলেন £ 

শহরে ষোলোজন বোম্বেটে 

কারয়ে পাগলপারা নল তারা সব লুটে__ 

রাজ্ো*বর রাজা যান, 

চোরেরও সে শিরোমাণ"*, 

এমানতেই জ্ঞনব্রতর গলায় খুব একটা সুর নেই, মাতাল 
অবস্থায় তার গলাটা আরও মজার শোনাচ্ছে। 

সুজাতা হেসে ফেলে বললো, বাঃ বেশ গানঢা তো ! 

_-পরের লাইনগুলো মনে পড়ছে না। 

_-এটা কার গান 2 

--কী জান! আমি ক গান বাজনার কোনো খবর রাখ ? 
তবু এই একটা অদ্ভূত গান যে কেন মাথায় ঢুকে গেলে" 

_ এবার শুয়ে পড়ো, ঘুমোলেই সব 15ক হয়ে যাবে। 


৭৬ 


জ্কানবডত ধড়াচুড়ো ছেড়ে রাতের শোবার পোশাক পরতে লাগ- 
লেন। যথেষ্টই নেশা হয়েছে । মাঝে মাঝে তাঁর পা কেপে যাচ্ছে। 

_-আচ্ছা সুজাতা তুমি এই গানটা আগে কখনো শুনেছো ? 

-না ! 

অথচ আগার মন বলে আম আগে এটা অনেকবার শুনোছ। 
তা কী করে সম্ভব ? 

সুজাতার খাটের ওপর একটা বই অর্ধেক উন্টোনো । বেল- 
জয়ান লেখক জর্জ [[ানমেনো'র সে নদার্ণ ভন্ত। গোয়েন্দা 
উপন্যাসের অধেকিটা যার পড়া হয়েছে, তার কেন সেই সময় একটা 
আজেবাজে গান সম্পর্কে আলোচনা শুনতে ভালো লাগবে ? 

_-তুমি শুয়ে পড়ো, আম আসাছ ! সুজাতা চলে গেল বাথ- 
রুমে । 

টুথপেষ্ট কোম্পাঁন মালকের স্ব বলেই নয়, রাতে শোবার 
আগে দাঁত ব্রাসকরা সুজাতার ছেলেবেলা থেকেই অভোস। টুথপেষ্ট 
কোম্পানির মালিক স্বয়ং অবশ্য রাত্রে দাতি মাজেন না। শুধু তাই 
নয়, দাঁত মাজার প্র টুথপ্ম্টের গন্ধমাখা মুখে চুমু খেতেও তাঁর 
ভালো লাগে না। স:জাতা তাঁর স্বামীর ভাবভাঙ্গ দেখে [নাশ্চত 
হয়ে গেছে যে আজ আর তাঁর চুমু খাওয়ার কোনো বাসনা নেই । 

সুজাতা ফিরে এসে দেখলো জ্ঞানব্রত চুপ করে দাঁড়য়ে আছেন 
জানলার কাছে। 

_শ্রায় বারোটা বাজলো, তুমি ঘুমোবে না 2 

_ হ্যাঁ, এবার শ্হীচ্ছ। অনেক দন কোথাও বেড়াতে যাওয়া 
হয় ন! চলো, এবার কোনো গ্রামে বেড়াতে যাই । যাবে ? 

_তুমি যে বলেছিলে সামনের দু তিন মাসে তোমার খুব 
বেশী কাজ ? হায়দ্রাবাদে একটা ফ্যাকাট্র খোলা হবে-** 

_হ্াাঁ, কাজ আছে তো বটেই.-ধকল্তু মন টানছে এমন কোথাও 
যাই, যেখানে সবুজ গাছপালা, একটা বেশ ?নজর্ন নদী । 

সুজাতার কাছে গ্রাম গানে ট্রেনের দ-'ধারের দশ্য। শান্তি- 


৭৭ 


[ানকেতনের চেয়ে কোনো ছোট জায়গায় সে জীবনে থাকে 1ন। 
সাদা টাঁলি বসানো বাথরুম যেখানে নেই, সে সব জায়গা সুজাতার 
পক্ষে বাসযোগ্যই নয়। সুজাতার রুপ এবং সমস্ত আস্তত্বের মধ্যেই 
এই ভাবটা রয়েছে যে, এই পণাথবীতে সে আঁবামশ্র সুখ ভোগের 
জন্যই এসেছে। 

কেন বা সুখ ভোগ করবে না। একটাই তো জীবন । 

_-তুমি যাঁদ সময় করতে পারো, চলো তা হলে একবার 
শান্তানকেওন থেকে ঘুরে আস । চুমকিও বলাছল .. 

_আগেরবার শান্তিনকেতন গিয়ে তোমার ভালোলাগে নি। 

যা গরম 1ছল সেবার । ট্ারম্ট লজের যে ঘরটা আমাদের 
দিয়োছিল, এয়ারকুলারটা কোন কাজ করাছিল না। 

_হা-হা-হাহা। 

জ্ঞানব্রত কাছে এগয়ে এসে সুজাতাকে জাড়য়ে ধরলেন । 
সুজাতা মুখটা অন্যকে ফারয়ে নিতেই তান বললেন, না না, 
ভয় নেই, চুমু খাবো না, তুম কি সন্দর, সুজাতা ! তুমি স্বর্গের 
মানুষ । এই পাঁথবীর নও ; গুড নাইট ! 

[নিজের খাটে গয়ে শুয়ে পড়লেও তক্ষুণি ঘুম এলো না জ্ঞান- 
ব্রতর। ক্যালকাটা ক্লাবের সন্ধ্যেটার কথা মনে পড়তে লাগলো । 
এলা নামের মেয়োট কী অম্ভূত ! তার গেয়ের প্রায় সমান । চুমাকর 
সঙ্গে একসঙ্গে পড়েছে । সেই মেয়ে ক্যালকাটা ক্লাবে গিয়ে মদ খায় 
না, শুধু স্পম্ট তাকে ?সাডিউল করার চেষ্টা করেছে । চকচকে স্থির 
দ1ঘ্ট মেলে ঠোঁটটা কাঁপাচ্ছল। 

এলার বঝ/পারটা সুজাতাকে বলা হয়ান বলে জ্ঞানব্রত একটু 
অপরাধীবোধ করছেন । স্তীর কাছে কোন ?কছু লুকানো তাঁর 
স্বভাব নয়! তাঁর কোনো গোপন জীবন নেই । থাক, পরে বললেও 
চলবে ! 

মাঝরাতে ধড়মড় করে ঘুম ভেঙে 1বছানায় উঠে বসলেন জ্ঞান 
ব্রত। তান একটা স্বপ্ন দেখাছলেন । এখনো স্বপ্নের ঘোর কাটোন। 


৭৮ 


তারপর ভালো করে চোখ মেলে দেখলেন সজাতার খাটে তখনও 
আলো জঙলছে, আর কয়েক পৃচ্ঠা বাঁক বইটার | সুজাতা গভশর 
মনোযোগ দিয়ে পড়ছে । 

জগ্কানব্রত বললেন, লালন ফাঁকর 2 

শব্দ শুনে এদকে তাঁকয়ে সুজাতা গেজজ্ঞেস করলো, কন 
ব্যাপার উঠলে যে, জল খাবে ? ূ 

জ্ঞানব্রত বললেন, এবার মনে পড়েছে । ওটা লালন ফাঁকরের 
গান 

এবার সুজাতা অবাক না হয়ে পারলো না। সামান্য একট: 
ভুরু তুলে বললো, তুমি ঘ্াময়ে ঘ্াময়ে এ গানটার কথা 
ভাবছো ? 

__হ্যাঁ, একটি স্বপ্ন দেখলহম-_ছেলেবেলায় এই গানটা আম 
প্রার়ই শুনতুম এক বুড়োর মুখে আম জান এটা লালন 
ফ?করের গান্*** 

সুজাতা অনেকগুলো বছর 1বদেশে কাটিয়েছে। বাংলা 

ংস্কৃতি সম্পকে" তার াবশেষ কোন জ্ঞান নেই। তবে ফ্যাসান 
অনুযায়ী সে রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্পর্কে উপযযন্ত আগ্রহ প্রকাশ করে 
এবং সত্যজৎ রায়ের প্রাতট ফিল্ম দেখে । লালন ফাঁকরের নামও 
সেশোনোন। কখনো কোথাও শুনে থাকলেও তার মনে এ 
নাম,কোনো রেখাপাত করে না। 

কোনো কথা না বলে সুজাতা অপেক্ষা করে রইলো । হলোই 
বা একটা [বদঘুটে, গেয়ো গান লালন ফাঁকির নামে কোনো এক- 
জনের লেখা বা সুর দেওয়া, 1কন্তু তাই নয়ে মাঝ রাতে দ্বুম 
ছেড়ে আলোচনা করতে হবে 2 এটা তো ঠিক স্বাভাবক ব্যবহার 
নয়। জ্ঞানব্রত চ্যাটাজ তো কখনো এরকম করেন না। 

- আম বাজ ফেলে বলতে পার এটা লালন ফাঁকরের 
গান! 

_-তুমি কার সঙ্গে বাঁজ ধরতে চাইছো * 


৭৪৯ 


এতক্ষণে পুরোপ্যার ঘোর কাটল । সাতিই তো, তান প্রায় 
পাগলের মতন ব্যবহার করছেন। 

উঃ হোঃ! তোমায় িছ্টার্ব করলূম । কত রাত হলো, তুমি 
এখনো ঘুমোও 1ন ? 

--আম আর 1তন চার পাতা শেষ করবো । 

আর আধ ঘণ্টা পরে একই ঘরের দহট খাটে দু'জন নারশ 
পুরুষ দু*রকম দুশাট স্বপ্ন দেখলো । একজন প্যারসের মমাত 
অণ-ের, যেখানে ইন্সপেক্টর মেইগ্রে এই মাত্র এক কোটপাঁতি 
বাউণ্ডুলেকে স্ধী হত্যার দায়ে গ্রেফতার করলেন । আর একজন 
দেখলো বাংলার এক আত সাধারণ পাড়াগাঁর । সেখানে দশ তনাটি 
1শশ লুকোচ্ার খেলছে এক আম-বাগানে | 

পরাঁদন সকালে ঠিক সেই ছটাতেই ঘুম ভাঙলো জ্ঞানব্রতর | 
রুটিন মেলানো প্রত্যেকাট কাজ করে যেতে লাগলো । তবু মনের 
মধ্যে একটা আঁস্থর আঁস্থর ভাব । খেতে বসবার আগে সাতটি টেলি- 
ফোন এবং তনজন দর্শন প্রাথনর সঙ্গে কাজের কথা বলতে হলো! 
তাঁকে তবু সেই ছটফটানটা গেল না। 

খাবার টোবলে সুজাতা ঘুম ভেঙে উঠেই ছুটে এলো বথা- 
রীতি । উজ্জায়নীও আজ এই সময় ব্রেক ফাত্ট খেতে টোঁবলে 
এসে বসেছে। মেয়েকে আজ একট বেশী করে লক্ষ্য করতে লাগলেন 
জ্লরত । 

এই উক্জাঁয়নশরই সহপাঠিনী এলা। উজ্জাঁয়নী বলেছে রাঁব- 
বারে ব্যাণ্ডেলে পিকাঁনক করতে যাবে বন্ধুদের সঙ্গে! সাত্য 
ব্যান্ডেলে যাবে, না কোনো হোটেলে গিয়ে মদ খাবে, পুরহধ মানুষ 
সম্পর্কে ওর কি এর মধ্যেই আভজ্ঞতা হয়ে গেছে 2 নানা, সব 
মেয়ে এক রকম হতে পারে না। 

_তুই এলা নামে কারহকে চাঁনস ? 

মা আর মেয়ে দু'জনেই অবাক হলো । সুজাতার মুখে অবশ্য 
তার কোনো রেশ নেই, কিন্তু উজ্জায়নী তো এখনো ঠিক লেডা 


৮০ 


হয় 'ন, তাই সে বেশ চমকে গেল । তার বাবার মুখ থেকে এই 
ধরনের প্রশ্ন সে এই প্রথম শুনলো । 

-এলা 2? কোন এলা ? 

_-সরকার না চ্যাটার্জ ক যেন বললো পদবীটা ঠিক মনে 

&নেই । তোর সঙ্গে ব্রেবোণে কোনো এক বছরে পড়েছে । 

_এলাকে? নাতো। এ নামেতো কাউকে মনে করতে 
পারছি না। ভালো নাম কী? 

_-এট্াই নিশ্চয়ই ভালো নাম, আমাকে শুধু ডাক নাম বলবে | 
কেন 2 বললো যে একবার নাক আমাদের এ বাঁড়তেও এসেছে ? 

_-তুমি তাকে কোথায় দেখলে 2 

__ক্যালকাটা ক্লাবে'*আমার একজন চেনা লোকের কাঁজন হয় 
বললো । আমাকে আগে দেখেছে, তোর খুব চেনা । 

আমাকে-_ও, এলা । হ্যাঁ, এবার বুঝতে পেরেছি, মোটে এক 
বছর পড়েছিল, তারপর তো অনেকাঁদন আর দোখ 'ন। 

- তোরা ব্যাণ্ডেল যাচ্ছিস এই রোববার ? 

হ্যাঁ । বাবা, তোমার গাঁড়টা দেবে সোঁদন ? 

_-ক'জন যাব ? ইচ্ছে করলে কারখানার একটা'স্টেশন ওয়াগন 
[নিতে পারস। 

- আমরা ছ'জন । আযামবাসাডরেই হয়ে যাবে । 

-দ্রাইভার চাই ? না তোর বন্ধুদেরই কেউ চালাবে ? 

সুজাতা বললো, না, না, ওরা বন্ড জোরে চালায়'*'জ্ঞান সং 
থাকুক ওদের সঙ্গে" 

উত্জায়নী একবার তাকালো মায়ের দকে। তারপর জিজ্ছেস 
করলো, মা ! তুমি কেমন আস্তে গাড়ি চালাও ? 

একথা ঠিক,সুজাতার হাতে স্টিয়াঁরং পড়লে আর রক্ষা নেই। 
ইউরোপের দ্রাঁফক আর কলকাতার ট্রাঁফক যে এক নয়, সে কথা 
তার মনে থাকে না। দুবার ছোট-খাটো আাক সিডেন্টও করেছে, 
তবু সুজাতা কম স্পীডে গাঁড় চালাতে পারে না। 


অ/স-৬ ৮১ 


সুজাতা বললো, আম তো এজন্যই এখন গাঁড় চালানো ছেড়ে 
দয়েছি। 

জ্ঞানব্রত বেশ তীঁপ্তর সঙ্গে খাওয়া শেষ করলেন । 'নজের মেয়ে 
সম্পকে তিনি মধ্যে সন্দেহ করাছলেন। চুমাকর মুখটা কত 
সরল, মোটেই ও এলার মত নয়। বাড়ির গাঁড় নিয়ে যাচ্ছে। 
বন্ধুদের সঙ্গে নদোঁষ পিকাঁনকে । 

কারখানা থেকে আফিসে আসবার পর তান রোঁডও স্টেশনে 
ফোন করলেন । মিঃ বড়ুয়া, আমি জ্ঞানত্রত চ্যাটাজর্শ। আজ আবার 
আপনাকে একটু ডিসঢার্ক করাছি। 

__মিঃ চ্যাটাজর 2 বলুন, বলুন লাম্ট ইভাঁনং ওয়াজ ওয়ান্ডার- 
ফূল। খুব জমোছিল_-এ মেয়েটি আজ সকালে দেখা করতে 
এসেছিল আমার কাছে। 

--কোন মেয়েটি ! 

--এঁ যে এলা সরকার রোডওতে চান্স চায়- আপনার রেফা- 
রেম্সে এসেছে যখন, একটা কিছ ব্যবস্থা তো করতেই হবে । 

জ্ঞানব্রত চ্যাটাজশ মাঝপথে বাধা দিতে গেলেও বড়ুয়া সাহেব 
থামলেন না। 

_-জানেনই তো মিঃ চ্যাটাজখখ আমাদের এখানে ধকছাীকছু 
ফম?িলটি তো আছেই, আমি নিজে গানটান খুব একটা ব্যাঝ না, 
ওকে একবার আডশান দিতে হবে- আমাদের একটা 1মউাঁজক 
বোর আছে--তবে হয়ে যাবে, ওর ঠিক হয়ে যাবে, দেখলেই বোঝা 
যায় ট্যালেন্টেড, আপানি 1নশ্চিত থাকুন, এজন্য আর ফোন করবার 
দরকার ছিল না। 

জ্ঞানব্রত চ্যাটাজাঁ বলতে চাইলেন যে 1তান এলা নামের এ 
মেয়োটকে মোটেই পাঠান ?ন। এবং তার জন্য ফোনও করছেন না। 
মেয়েটা দারুন কোরয়ারস্ট তো! কালকের আলাপের সুযোগ 
খনয়ে আজ সকালেই বড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করেছে ! 

কিন্তু এসব কথা 1তাঁন টোলফোনে বললেন না। এলা মেয়ে" 


৮ 


টিকে তিনি পাঠান নি ঠিকই । তবে এ মেয়োটি যাঁদ এইভাবে রেডি- 
ওতে গান গাইবার সুযোগ পায় তাতে তিনি বাধাই বা দেবেন 
কেন 2 যা হবার তা হয়ে গেছে । এখন ও যা পারে করুক। 

-মিঃ বড়ুয়া, আম ফোন করাঁছ আরও একটা কারণে. "কাল 
সন্ধ্যেবেলা এই কথাটা আপনাকে জিজ্ঞেস করবো ভেবেই-_-শেষ 
প্ন্ত আর বলাই হলো না--হয়তো আপাঁন মনে করবেন খুবই 
পাঁকিউলিয়ার 1রকোয়েন্ট। 

--কী ব্যাপার ? আপাঁন এত হোজটেট করছেন কেন ? 

_-এটা আমার বাতকও বলতে পারেন । কাল সকাল দশটা 
আন্দাজ, না ঠিক দশটাই হবে। একজন একটা পল্লনগৰীতি গাই- 
ছিল । সেই গায়কের নামটা আম জানতে চাই । বেতার জগতে 
নাম ছাপা নেই, আমি এক কাপ বেতার জগৎ [কনে দেখলুম 
আজ। 

- কোন চ্যানেল! 

--মানে ! 

»্শার্ট ওয়েভে ? বাঁবধ ভারতী ? 

--তা জানি না। ইন ফ্যাক্তু রোডও বাজাছল পাশের বাড়তে 
**গানের লাইনগুলো ছিল এই রকম £ 

শহরে ষোল জন বোম্বেটে 
কাঁরয়ে পাগল পারা** 

গানটি শুনে বড়ুয়া সাহেবও যে রীতিমতন অবাক হয়েছেন, 
তা টোলফোনের এ পাশ থেকেও বোঝা যায়। 1তাঁন 1তনবার 
1জজ্ঞেস করলেন কী গান ? বোম্বাই 2 বোম্বাই শহরে । দাঁড়ান, 
দাঁড়ান, লিখে নিই। 

তারপর [তান বললেন, এই গানের গায়কের নাম আপান 
জানতে চান ? 

_ হ]। সম্ভব হলে তার বাঁড়র ঠিকানাও। 

***নো প্রবলেম । আম পনেরো মানটের মধ্যে আপনাকে । 


৮৩ 


রং ব্যাক করে জানিয়ে দাচছ। 

এ দেশে যাদের নামের সঙ্গে সাহেব যুন্ত থাকে, তারা অন্তত 
একটা ব্যাপারে সাহেবদের মতন নন । তাঁদের পনেরো 1মাঁনট মানে 
দেড় ঘণ্টা । দেড় ঘণ্টা বাদে বড়ুয়া সাহেব ফোন করে জানালেন যে 
এ গানের গায়ক একজন আনকোরা নতুন শিল্পী, তার নাম 
শশীকান্ত দাস । িকানাটা এই***। 

[ঠকানাটা কাগজে 1লখতে লিখতে জ্ঞানবত 1জজ্ঞেন করলেন, 
এই জায়গাটা কোথায় 2 

বড়ুয়া সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, তা কাঁ করে জানবো 
বলুন, উনিতো কখনো আমাকে গুর বাড়তে নেমন্তন্ন করেন [ন ! 
কী ব্যাপার বলুন তো, আপান এই লোকাঁটকে নিয়ে কী 
করবেন ? 

_-গুর কাছ থেকে গানটা শিখবো ! আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ । 

বড়ুয়াক আর কোনো কথা না বলতে দয়ে জ্ঞানব্রত ফোন 
রেখে দলেন। 

আজ সারা পাথবীতে তাঁর যত কাজই থাক, তবু একবার এই 
শশীকান্ত দাসের সঙ্গে তাকে দেখা করতেই হবে। 

রোডিও ভ্টেশনের পি, 1স, বড়ুয়া যে ঠিকানা টি দয়েছিলেন, 
সেই বাঁড়ীটি খুজে বার করতে খুব বেশী অস্মাবধে হলো না। 
বাগবাজারের কাছে একটা গাঁলর মধ্যে মেসবাঁড় । এটা যে মেস- 
বাড়, তা দরজা দয়ে ভেতরে এক পা বাড়ালেই টের পাওয়া যায়। 
এইসব বাড়িতেই একটা উগ্র পুরুষ গন্ধ থাকে । 

অনেক কালের বাঁড়, 1সাড়গুলো ক্ষয়ে যাওয়া, রোলিং নড়- 
বড়ে। দোতলার বারান্দায় একটা তারে নানান রঙের লহাঙ্গ 
শুকোচ্ছে। 

জ্কানব্রত এসেছেন সন্ধ্যেবেলা,কন্তু এখনো এ বাঁড়র বাসিন্দারা 
সবাই রে আসে নি। চুপচাপ, খালি খাল ভাব, সদর দরজাটা 
হাট করে খোলা, একতলাতে একজনও লোক নেই। জ্ঞানব্রত 


৮৪ 


একটুক্ষণ দাঁড়য়ে এদক ওাঁদক তাকালেন, তারপর উঠতে 
লাগলেন 1স্শড় দিয়ে । 

মাঝপথে একজন লোকের সঙ্গে দেখা হলো । লোকাঁটর গায়ের 
রং মশামশে কালো, রোগা-লম্বাটে চেহারা, মাথায় ঝাঁকড়া চুল। 
লোকট পরে আছে শুধু একটা গামছা । 

তাকে এই মেসের কোনো ভত্য কংবা রান্নার ঠাকুর মনে করে 
জ্কানব্রত [জজ্ঞেস করলো, ওহে, শশীকান্ত দাস কোন ঘরে থাকেন, 
বলতে পারো ? 

লোকাঁট থমকে দাঁড়িয়ে গভীর 1বস্ময়ে তাকালো জ্ঞানব্রতর 
1দকে। 

তারপর আমতা আমতা করে বললো ; আজ্ঞে""*আমিই 
শশীকান্ত"ত। 

কান্ত একটু হাসলেন। +তাঁন এমন 1কছ অন্যায় করেন 
ন। এই ঘটনার আরও অনেক ক্লাসিক উদাহরণ আছে । বাঁঙ্কম- 
চন্দ্রকে খাল গায়ে দেখে একজন আগন্তুক 1জঙ্ছেস করোছিল, ওহে, 
বাঙকমবাব; বাঁড় আছেন [ক না বলতে পারেন ? বিদ্যাসাগর এবং 
মাইকেল সম্পকেও এ রকম গল্প আছে । তবু বাঁজ্কমবাবু 1ছলেন 
সুপুরুষ | বদ্যাসাগর বা মাইকেলের তুলনায় এই লোকাঁটিকে বেশ 
সুদশ'নই বলতে হবে। গায়ের রং কালো হলেও ছিপাছপে মেদ- 
বাজত শরীর । ভাল করে মেকাপ 1দয়ে, মাথায় একটা পালকের 
মুকুট পারয়ে দিলে অনায়াসেই যান্রাদলের কেষ্ট ঠাকুর সাজানো 
যায়। 

জ্ঞান্রত বললেন, ও, আম আপনার সঙ্গেই দেখা করতে 
এসোছ। 

লোকটির 1বস্ময়ের ঘোর এখনো কাটোন । জ্ঞানন্রতর চেহারায়, 

ব্যান্তত্বে ও পোশাকে বেশ একটা সম্দ্রান্ত ব্যাপার আছে । এই রকম 
মানুষ সচরাচর শশীকান্ত দাসের মতন লোকের কাছে যেচে দেখা 
করতে আসে না। 


৮৫ 


শশীকান্ত বললো, আছ্ছে আম তো আপনাকে স্যার ঠিক 
চিনতে পারলাম না***! 

জ্ঞানব্রত বললেন, আগে তো আলাপ হয় নি, চনবেন কী 
করে 2? আপনার সঙ্গে আমার একটা দরকার আছে । 

দরকারের কথা শুনে শশীকান্ত আরও 'বদ্রান্ত । তার বুকের 
মধ্যে একই সঙ্গে দারুণ বিপদের ভয় কিংবা দারুণ কোন্যে 
সহসংবাদের আনন্দের জোয়ার-ভাটা চলছে । 

_ আমার সঙ্গে স্যার আপনার দরকার ***বলুন স্যার । 

জ্ঞানব্রতর হাব-ভাব খুব বেশী সাহেবী ধরনের । বছরে দু» 
[তিনবার তাঁকে ইউরোপ-আমোরকা যেতে হয় । 1তাঁন লোকের 
সঙ্গে কথা বলবার সময় মুখে সামান্য হাঁস ফাটিয়ে রাখেন, কখনো 
একটু কাশতে হলে মুখের সামনে হাত চাপা দেন। প্রকাশ্যে 
কোনো!দন তান হাই তোলেন নন কিংবা হেচে ফেলেন ন। 
খাওয়ার পর ঢেকুর তোলা তার কাছে অসভ্যতার পরাকান্ঠা। 

সেই রকমই 1স্শাড়তে দাঁড়িয়ে কাজের কথা বলাও তাঁর পক্ষে 
একটা চরম অভদ্রুতার ব্যাপার । 

-আপনার ঘর কোনটা ? 

_-এ যে স্যার, 1সশাড়র ডানপাশেই সাত নম্বর | 

-আপাঁন আমায় মানট দশেক সময় দলে আপনার ঘ্বরে 
বসে একটু কথা বলতুম ৷ 

_াঁনশ্চয়ই স্যার, চলুন স্যার । 

শশীকান্তর সঙ্গে সিশড়র দ্াতন ধাপ ওঠার পর জ্ঞান ব্রত 
আবার 'িজজ্কেস করলেন, আপনি ক স্নান করতে যাচ্ছিলেন 2 

হ্যাঁ স্যার ! সকালে জল পাওয়া যায় না, সবাই আফস যায়, 
দশটার মধ্যেই চৌবাচ্চা খালি'"*তাই আমি বকেলেই **' 

_ঠিক আছে। আপাঁন স্নান করে আসন, আমার তাড়া 
নেই। আম আপনার ঘরে অপেক্ষা করছি। 

_-না, না, স্যার, আম পরে চান করবো । একদিন চান নয 


৮৬ 


করলেও ক্ষাঁত নেই। 

কিন্তু জ্ঞানব্রতর পক্ষে গামছা পরা খাল গায়ে একজন লোকের 
দিকে সামনাসামাঁন তাকয়ে কথা বলা সম্ভব নয়॥। তাঁর রৃঁচিতে 
বাধে। 

এবার তিনি বেশ জোর ্দয়ে বললেন, না, এখান আগে স্নান 
সেরে আসুন! 

শশীকান্ত তবু ওপরে উঠে এসে সাত নম্বর ঘরের তালা খুলে, 
দরজাটা হাট করে বললে, আপাঁন ভেতরে বসুন তবে, স্যার, আম 
দু'ম[নটের মধ্যে চান করে আসাছ। 

লোকাঁট বদ্ধ করে এবার একট লবঙ্গ ও জামা সঙ্গে নিয়ে 
গেল। 

শশীকান্তর ব্যবহারে এরমধ্যেই জ্ঞানত্রত একটু দুঃখিত 
হয়েছেন। ও একজন গায়ক, একজন শল্পী, ও কেন একজন 
অচেনা লোকের সঙ্গে এমন স্যার স্যার বলে কথা বলবে £ সব 
1শল্পীরই আত্মাভিমান থাকা উচিত। 

ঘরখানা স্যাতিসেতে, অন্ধকার ॥। এরকম ঘরে জ্জানব্রত চ্যাটাজাঁ 
বহাদন ঢোকেন নি। এরকম অস্বাস্থ্যকর ঘরেও মান্‌ষ 'দাব্য 
বেচে থাকে তাই না? তারাও হাসে, স্ফার্ত করে এবং ভাবষ্যং 
কালে মানুষদের জন্ম দেয় ! 

ঘরের মধ্যে পাশাপাশি তিনাট খাট, তার মধ্যে দুটি খাটের 
গবছানা গোটানো । অন্য বছানাটি পাতাই রয়েছে । তার চাদরটা 
তেল চটচটে । সম্ভবত এ [বছানাটা শশশকান্তর । দেয়ালে দুটি 
ক্যালেন্ডার ছাড়া ঘরে আর কোনো আসবাব নেই। অন্ধকারটা 
একট: চক্ষে সইতে জ্ঞানব্রত দেখতে পেলেন, দুদিকের দেয়ালে দুটি 
আলনাও রয়েছে, তাতে জামা-কাপড় ডাঁই করা । 

একটি বছানা গুটোনোখাটে জ্ঞানব্রত বসলেন আত সন্তপণে। 
সারা ঘর জুড়ে রয়েছে শীবশ্রীী গন্ধ, অনেকটা পচা চামড়ার গন্ধের 
মতন। এক পায়ের ওপর আর এক পা তলে জ্ঞানব্রত পায়ের 


৮৭ 


ডগাটি নাড়তে লাগলেন। 

1সগারেটের তৃষ্কাটা এই সময় তীব্র হয়ে ফিরে এলো । একা 
কোথাও বসে কারুর জন্য অপেক্ষা করায় 1সগারেটের অভাবটা 
বেশী অনুভব করা যায়। 

দুশমানট না হোক, প্রায় পাঁচ মাঁনটের মধ্যেই ফিরে এলো 
শশীকান্ত। হুডুস-ধাড়স করে গায়ে জল ঢেলেই সে ছুটে 
এসছে। 1ভজে চুল ঝুলছে মুখের চার পাশে । 

--আপাঁন চা খাবেন, স্যার ? 

জ্ঞানব্রত প্রথমে বললেন, না, তারপর একটু থেমে বললেন, 
আপাঁনি আগে চুল আঁচড়ে নিন। 

জ্ঞানব্রত ঠিক হুকুম করতে না চাইলেও তাঁর ইচ্ছের [বরুদ্ধেও 
তাঁর গলায় সেইরকম একটা সুর ফুটে ওণে । প্রত্যেক দিন অনেক- 
গুলি মানুষ তাঁর আদেশ মেনে কাজ করে । সেই জন্যই জ্ঞানব্রতর 
এইভাবে কথা বলা অভ্যেস হয়ে গেছে। 

শশখকান্ত একটা খাটের তলায় উপক ধদয়ে টেনে আনলো 
একটা কাঠের আয়না চিরুনী। তা দিয়ে ঝটাপট চুল আঁচড়ে 
ফেললো । 

শশীকান্ত একটা সবুজ লীঙ্গর ওপর পরেছে একটা গেরুয়া 
রঙের পাঞ্জাবী । এ রকম রঙের অসামঞ্জস্যে জ্ঞানব্রতর চক্ষুকে 
পীড়া দেয়। তব তান মুখে পাতলা হাঁস ফাটিয়ে রেখেছেন । 

_-আপাঁন রোঁডওতে গান করেন ? 

_হ্যাঁস্যার। আপাঁন ক রেকড“ কোম্পাঁন থেকে এসেছেন ? 

_না। আমার সঙ্গে ওসবের কোন সম্পর্ক নেই। একাঁদন 
রেডিওতে আপনার একটা গান শুনে**"ই?য়ে আমার**ত। 

জ্ঞানব্রত ঠিক শব্দাট খুজে পেলেন না। বস্তুত দিনের 
আঁধকাংশ সময়ই তাঁকে ইংরোঁক্জিতে কথা বলতে হয় । বাংলা কথার 
মধ্যেও [মশে যায়_ ইংরেজি পরপর দুশীতনটে টানা বাংলা বাক্য 
বলার অভে)স তাঁর নেই। 


৮৮ 


_-তিনি সংক্ষেপে বললেন, ভালো লেগেছিল । 

-কোন গানটা স্যার! 

_-শহরে ষোলজন বোম্বেটে"**কারয়ে পাগলপারা***। 

_-ও, ওখানা বড় ভালো গান স্যার! সকলেরই ভালো লাগে। 

_লালন ফাঁকরের, তাই না? 

_-ঠিক ধরেছেন স্যার ! তবে লালন ফাঁকরের গানে কাঁপ রাইট 
নাই । রেডিও'র লোকেরা আমাকে 1জঙ্গাসা করে ছিল"*" 

জ্কানব্রত একটা 1নাশ্চন্ত নিঃ*বাস ফেললেন । 

তারপর পকেট থেকে একটা ছোট বাক্স বার করে খুললেন। 
সোটর »ধ্যে রয়েছে একটি নতুন হাতঘাঁড়। 

বাক্সটি শশীকান্তর 1দকে এাগয়ে দিয়ে জ্ঞানব্রত অত্যন্ত 
বনী তভাবে বললেন, আপনার গান শুনে আমার ভালো লেগোছল 
সেইজন্য সামান্য একটি উপহার এনোছ। আপাঁন 1নলে আম 
খুব খশী হবো । 

শশীকান্ত নিজের চোখকেও 1ববাস করতে পারছে না যেন! 
রোডিওতে একখানা গান শুনে কেউ এসব দাম 1জাঁনস উপহার 
দতে পারে ? রোডিওতে তো সবাই 1বনা পয়সায় গান শোনে। 
পুরো একাদনের প্রোগ্রামের জন্য রোঁডও থেকে সে পায় পণ্ডাশ 
টাকা মান্র। আর এই ভব্রলোক একখানা গান শুনে দিচ্ছেন একটা 
থাঁড়। এর দাম পাঁচশো না হাজার কে জানে! 

_এটা সাতিঃই আমায় [দচ্ছেন স্যার ! 

আপনার জন্যই এটা এনোছ। 

ব্তুত এটাও জ্ঞানত্রতর সাহেবী ব্যবহারেরই একটা অঙ্গ । 
এদেশের লেক অন্য পোকের সময়ের দাম দিতে জানে না। যখন 
তখন অন্যের বাড়ীতে বনা আপত্প্টেমেন্টে গিয়ে তাদের সময় নষ্ট 
করতে কারহ্‌র বাধে না। 1কন্তু নিজের গরজে কারুর কাজে গেলে 
তার বানময়ে 1কছ; দেওয়া উাঁচত। জ্ঞানত্রত তো 1নজের গরজেই 
এসেছেন । 


০৯ 


শশীকান্ত ম;গ্ধভাবে ঘাঁড়ীট দেখছে। সোঁদক থেকে তার চোখ 
কেরাতে পারছে না। বোঝাই যায় সে কখনো নজস্ব হাতঘাঁড়, 
হাতে পরার সুযোগ পায় নি। 

- আমার একটা উপকার করবেন ?£ 

চমকে উঠে শশীকান্ত বললো, ক বলুন, স্যার ? 

-সোঁদন রোঁডওতে আপনার এ গানটা আমার পুরোপার 
শোনা হয় নি। যতটা শুনোছিলাম তাও মনে নেই। এ গানাট 
আমাকে আর একবার গেয়ে শোনাবেন ? 

--এখন শুনবেন, স্যার; এখানে মিউজিক টিউাঁজক 'কছ 
নেই, রোডিও ম্টেশানে ওদের সব ব্যবস্থা থাকে । আচ্ছা । আম 
খালি গলাতেই শোনাতে পার অবশ্য-- 

হঠাৎ জ্ঞানব্রতর মনে হলো, মেসের এই গুমোট-অন্ধকার ঘরে 
বসে এ গানটা শুনলে তাঁর ভালো লাগবে না। বরং আরো ভালো 
লাগাটা কেটে যাবে। 

তিনি হাত তুলে বললেন, থাক । এখন থাক । এক কাজ করলে 
হয় বরং'**একদদিন আমার বাড়ীতে গিয়ে এ গানটা গাইবেন। 
তাহলে টেপে তুলে রাখতে পার ॥ যাবেন আমার বাড়ীতে ? 

শশশীকান্ত তৎক্ষণাৎ রাজ হয়ে গিয়ে বললো, 1[ীনশ্চয়ই যাবো, 
স্যার। কোথায় আপনার বাঁড়? কবে যাবো? 

কোটের পকেট থেকে জ্ঞানব্রত ?নজের একটা কার্ড বার করে 
এগয়ে দিয়ে বললেন, এই যে, এতে সব লেখা আছে । 

যাঁদ শশীকান্ত ইংরোজ না পড়তে পারে, সেইজন্য তান মুখেও 
1নদেশ 1দয়ে দিলেন তার বাঁড়র অবস্থান সম্পকে" । তারপর উঠে 
দাঁড়য়ে বললেন, কাল থেকে এই রবিবারের মধ্যে যে কোনো দিন 
সন্ধ্যেবেলা আসতে পারেন । সাতটার পর থেকে আম বাড়তে 
থাকবো । 

--কালই যাবো, স্যার । 

--আপাঁন এ গান কার কাছ থেকে শখেছেন 2 


৪১০ 


-_কুচ্টিয়ায় যখন ছিলাম, তখন বাবন: সাঁইয়ের কাছ থেকে 
[শিখোছলাম । বাবন্‌ সাঁই অনেক গান শাখয়েছেন আমায় । তিনি 
খোদ লালন ফকিরের শিষ্যের শিষ্য । 

_-কুঁষ্টিয়া ১ 

হ্যাঁ স্যার । সেখানেই আমার বাড়। 

_-এখানে এসেছেন কবে 2 ৃ 

_-এসোছি তো স্যার দুই বৎসর আগে*তারপর শ্রোতের 
শ্যাওলার মত্তন ভেসে বেড়াচ্ছি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। 
এখানে এই ঘরে পরেশ রায় থাকেন। তিনি আমাদের গ্রামের লোক, 
1তনি দয়া করে কছাাদনের জন্য আমায় থাকতে দয়েছেন। তা 
অন্য যে একজন আছেন 1তাঁন পছন্দ করেন না আমায় । 1তাঁন 
এক ঘরে (তিনজন থাকা 1নয়ে ম্যানেজারের কাছে কমদ্সেন করেছেন। 

_ আপনার বাঁড়র অন্য লোকজন কোথায় ? 

--আমার মা বাবা কেউ নেই, স্যার! আর দুচার মাস পরে 
আমি নিজেই একখানা ঘর ভাড়া করতে পারবো মনে হয় । রোডও 
আট্ট হবার পর দহ”চার জায়গায় ফাংশানে চাল্স পাই, স্যার ॥ 
পণচান্তর টাকা করে দেয় ॥ 

_-কু্টয়ার কোন: গ্রামে ছিল আপনার বাঁড় ? 

কুমারখালী । আপান কুমারখালী গ্রামের নাম শুনেছেন, 
স্যার 2 কুমারখালীতে থানাও আছে-_-। 

যেন একট। 1বদহ্যৎ চমকালো জ্ঞানত্রতর মাথার মধ্যে । তাঁর মনে 
পড়ে যায় তাঁর দাদামশাইয়ের মুখখানা | লম্বা চেহারা, সারা মুখে 
দাঁড় । সম্রাট শাহজাহানের মতন পেছনে দাট হাত "দয়ে পায়চারি 
করতেন লম্বা টানা বারান্দায় আর মুখে প্রায় সব সময়ই থাকতো 
গুনগুন গান। গান বাজনার দারুণ ভক্ত ছিলেন তিনি। সেই 
দাদামশাইয়ের মুখেই জ্ঞানব্রত এই গানটা শুনেছেন আত শৈশবে । 
কদন ধরে সেই কথাটাই মনে করতে পারাছলেন না। 

হ্যাঁ, একথাও মনে পড়ছে যে দাদা মশাইয়ের কাছে প্রায়ই একজন 


৯১১ 


ফকির এসে গান শোনাতেন। দ:'জনে বন্ধৃত্ব ছিল খুব। সেই 
ফকিরই 1 বাবন সাঁই । 

জ্কানব্রত অনেকটা আপন মনেই বললেন, কী আশ্চর্য যোগা- 
যোগ? এ কুণ্টিয়ার কুমারখালশীতে আমিও থাকতাম ! 

_-আপনার বাঁড় কুমারখালীতে, স্যার ? কোন- বাঁড় ? 

_ আমাদের নিজেদের বাঁড় নয়, মামার বাড়ি, সেখানেই 
আম বেশী থেকেছি । আমার দাদামশাই ছিলেন সত্যপ্রকাশ 
বন্দ্যোপাধ্যায় । 

__হ্যাঁ, হ্যা, স্যার, বাঁড়জ্যেদের বাঁড় । খুব নামকরা বাঁড়-_। 

জ্কানব্রত সেখানে ছিলেন মান্র ন, বছর বয়েস পরযন্ত। সেই সময় 
দাদামশাই মারা যান। তারপর এগারো বছর বয়েসে পিতাবয়োগ । 
তারপর থেকে অনেকগঠাল দুঃখ কম্টের বছরের কথা স্পজ্ট মনে 
আছে জ্ঞানব্রতর, 1কন্তু তার আগের কথা কিছুই মনে পড়ে না। 
অথচ সেই সময়টা ছিল কত সুখের । 

অনেকের তো দ:শীতন বছর বয়েসের কথাও ?কছ কিছু মনে 
থাকে । অথচ জ্ঞানব্রতর শৈশবটা ানশ্চিহ । শুধু একটা গান, 
সেই সময় শোনা একটা গান, এতাঁদন পরে ফিরে এলো । 

জ্কানররত সেই ধরনের মানুষ নন যে তান এক সময় কুষ্টিয়ায় 
ছিলেন বলেই আর একজন কুষ্টিয়ার লোককে দেখে তাকে জাঁড়য়ে 
ধরবেন আনন্দে । ওরকম দেশোয়ালী প্রীত তাঁর নেই। বস্তুত 
পূর্ব বাংলা সম্পর্কে তীব্র কোনো নসংটালাজয়াও 1তাঁন বোধ 
করেন না। মানুষ বাঁচে বত“মান 1দয়ে, হঠাৎ জ্ঞানরত শশনীকান্তকে 
বললেন, আপনার 1জানসপত্র গুছয়ে [নন। 

শশীকান্ত আবার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল । 

- আপনার বাক্স-ীবছানা ?নয়ে চলুন আমার সঙ্গে । আপনার 
থাকবার জায়গার অস:বিধে বলছিলেন, আপাঁন আমার বাঁড়তে 
থাকবেন । 

--আপনার বাঁড়তে থাকবো, স্যার ? 


৮২ 


_হ্যাঁ। 

_আজই ? 

__তাতে অসুবিধে কি আছে 2 

_-পরেশদাকে কিছু বলে যাবো না? 

_-ওকে চিঠি দিয়ে যান। পরে আর একদিন এসে সব বাঁঝিয়ে 
বলবেন। আমার বাড়ীতে অনেক জায়গা আছে। আপনার 
অসুীবধে হবে না। 

_-না, না, আমার আর কা অসুশবধে, আমি যেখানে সেখানে 
থাকতে পারি-*ণকন্তু, সাঁত্যি বলব স্যার ? কেমন কেমন সব লাগছে। 
মনে হচ্ছে যেন রূপকথা । আপাঁন এসে আমায় একটা ঘ্বাড় ?দলেন 
তারপর বললেন, আপনার বাড়তে থাকতে দেবেন এও ক সম্ভব। 

জ্ঞান্ত এবার বেশ জোরে জোরে হাসলেন ! 

তারপর বললেন, আপনাদের এই গাঁলর নোড়ে আমার গাঁড় 
আছে । আম সেখানে অপেক্ষা করাছ! আপান তৈরী হয়ে যত 
তাড়াতাড় সম্ভব চলে আসুন । 

শশীকান্তকে আর কিছ বলতে না দিয়ে ঘর থেকে বোঁরিয়ে 
গেলেন জ্ঞানব্রত ৷ 

নিজের বাড়তে এসে শশকান্তকে 1নয়ে সরাসার উঠে এলেন 
দোতলায় ।। 

এখানে একাট গেষ্ট রুম সারা বছর সাজানোই থাকে । আত 
নকট আত্মীয়» কেউ এলেই তবে তাঁকে রাখা হয় এই দোতলার 
ঘরে। এ ছাড়া একতলায় আরও দাঁট ঘর আছে । 

শশশকান্তকে ঘর এবং সংলগ্ন বাথরুম দেখিয়ে বাঁঝয়ে দিচ্ছেন 
জ্ঞানব্রত, এই সময় সুজাতা এসে সেখানে দাঁড়ালো । যতই অবাক 
হোক মূখে তার কোনো চিহ্ন ফোটাবে না সুজাতা, তব মনে মনে 
সে ভাবছে, হঠাৎ কী হলো মানুষটার 2? গত কয়েকাঁদন ধরে যে- 
রকম ব্যবহার করছে তা কছুতেই তার চারন্রের সঙ্গে মেলে না। 
এই রকম একটা কাঠের স্ত্রী টাইপের লোককে ধরে এনে দোতলার 


৯৩ 


ঘরে রাখতে চায়। 

জ্ঞানব্রত স্লীর 1দকে ফিরে বললেন, সুজাতা, ইনি একজন 
শিজ্পন, এর নাম শশশীকান্ত দাস,আজ থেকে ইন আমাদের এখানে 
থাকবেন । দেখো, যেন এর কোনো অযত্ন না হয়। 

শশশীকান্ত এগিয়ে এসে সুজাতার পায়ে হাত 1দয়ে প্রণাম করতে 
যেতেই সুজাতা “আরে” “আরে” বলে দুশতিন পা পিছিয়ে গেল। 

জ্ঞানব্রত বললেন, উজ্জীয়নী কোথায়? ওর সঙ্গে এর আলাপ 
কারয়ে দিতে চাই। 

পর1দনই জ্ঞানরুত চলে গেলেন মাদ্রাজে । 

বাড়তে যে কী একটা গণ্ডগোলের সৃন্টি করে গেলেন, তা 
জ্ঞানব্রত খেয়ালও করলেন না। কয়েকটা দিন [তানি একটু 
পাগলা মিতে মেতে ছিলেন ; কিন্তু কোম্পানীর নানান কাজ তাঁকে 
ভারতবর্ষের “বাঁভন্ন প্রান্ত থেকে ডাকছে । 

মাদ্রাজ থেকে দিল্লী, সেখান থেকে উলটে আবার বাঙ্গালোর, 
তারপর বোম্বাই । অথাৎ সাতাঁদনে প্রায় পাঁচ হাজার মাইল ওড়া- 
উড় করতে হলো জ্ঞানব্রতকে । 

এঁদকে বাড়তে এক অদ্ভুত আতি। 

প্রথম গোলমাল শুর; হলো সকাল আটটায় । 

সুজাতা কোনাদনই ন'টার আগে জাগে না। এখন স্বামী 
কলকাতায় নেই, এখন তো আরও বেলা পর্যন্ত ঘুমানো ষায়। কাল 
রাতে সুজাতা স্লাপং পল খেয়ে শুয়েছে । তব্দ আটটার সময়েই 
তার ঘরের দরজায় দুম দুম ধাক্কা । 

বেশ কিছংক্ষণ পর দ্বুম-জাঁড়ত চোখে দরজা খুলে সুজাতা 
1জজ্ঞেস করলো, কী ব্যাপার ! 

সুজাতার শিক্ষা-দীক্ষা এমনই যে, সে কোনো কারণে বিরন্ত 
হলেও প্রথমেই ঝ-চাকরের ওপর ধমকে ওঠে না, কিংবা বাড়িতে 
ডাকাত-পড়া অথব। আগুন লাগার মতন্‌ 'বচাঁলত হয়ে ওঠে না 
যখন তখন । 


সারদা এ বাঁড়র বাসনপত্র মাজে, ঘর ঝাঁড় দেয়। সে প্রায় 
চোখ কপালে তুলে বললো, ও 1দাঁদমাঁণ! ও ঘরের বিছানায় কে 
একটা ডাকাতের মতন লোক ঘীময়ে আছে ! কণ সাংঘাতিক কথা? 
শিগাঁগর পুলিশে খবর দাও ! 

মাথায় ঘুমের নেশা, সুজাতার আগের র্যাত্রর কথা স্পন্ট মনে 
পড়লো না । সারদা আঙ্গুল তুলে গেষ্ট রুমটা দেখাল । সেখানে 
একজন লোক ঘ্যাময়ে আছে! কে! 

_-বাবু কোথায় ? 

_-বাবু তো ভোরবেলা গাঁড় 'নয়ে বোরয়ে গেলেন। 

তখন সুজাতার মনে পড়লো, জ্ঞানব্রতর আজ সকাল ছ'টা 
দশের ফ্লাইট ধরার কথা । [নিশ্চয়ই পাঁচটার মধ্যে গেছে। এসব দনে 
জ্ঞানব্রত কখনো স্ত্রীকে ভাকেন না । 

কিন্তু গেন্ট রুমে কে শুয়ে থাকবে ? 

_-রতন কোথায় ? 

_রতন দুধ আনতে গেছে, এখনো আসে নি । 

এ বাঁড়র কাজের লোকরা রাত্তরে সবাই 'নচে থাকে । 
সড়র মাঝখানে একটা লোহার গেট থাকে । সেটা বন্ধ করে 
দেওয়া হয় রাত্রে । রোজ ভোরে গ্ঞানত্রত সেই গেট খুলে দেন। 
তান কলকাতার বাইরে থাকলে এই সারদা এসে রাঘ়ে শুয়ে থাকে 
দোতলার বারান্দায় । 

পাতলা নাই?ট পরে থাকে সুজাতা । ঘরের মধ্যে ফিরে দ্রোসং 
গাউনটা গায়ে জাঁড়য়ে নিয়ে আবার বাইরে বেরুলেন। তারপর 
গেস্ট রুমের দিকে কয়েক পা এঁগয়ে আবার থমকে দাঁড়ালেন । 
এবার সব মনে পড়ে গেছে । সেই রাধাকান্ত না শশীকান্ত কা যেন, 
সেই লোকাঁট খনশ্চয়ই । জ্ঞানরত যাকে কাল রাতে সঙ্গে করে 
এনোছিলেন। 

সুজাতা হেসে 1ীজজ্ঞেস করলো, কালো মতন একটা লম্বা লোক 
তো ? সারদা বললো, হাঁ গো দিদিমণি ! দেখলে ভয় করে | 


৪১৫ 


_-ভয়ের িছু নেই । বাবুর চেনা লোক। জেগে উঠলে 
চা?দস। 

সুজাতা আবার রে গেল [নজের বানায় । 

যাদের জীবনে কোনো ঘটনা ঘটে না, তারা প্রায়ই কোনো 
রোমহরক ঘটনা সম্পরকে ভাবতে ভালোবাসে । 

সারদা ধরেই [নয়েছিল যে, কোনো হুমদো চেহারার চোর এ 
বাড়তে ঢুকে পড়ে, তারপর মনের ভুলে ঘুমিয়ে আছে । দরজা 
বন্ধ করে ওকে আটকে সবাই মিলে চেশচয়ে, প্যালশ ডেকে বেশ 
একখানা জমাট ব্যাপার হবে! সে সব কিছুই হলো না। এরকম 
উটকো চেহারার লোক বাবুর চেনা! বাবুদের বাবছানায় শোবে 2 
সারদার স্বামীও তো এর চেয়ে অনেক সুন্দর ছিল, সে কোনাদন 
বাবুদের গদীতে শোওয়ার কথা কল্পনাও করে 1ন। 

কোমরে আঁচল জাঁড়য়ে সারদা এবার 1নিভ'য়ে আঁতাথ ঘরে 
ঢুকল। বয়েস পণ্সাশ পোরয়েছে । মোটাসোটা গোলগাল চেহারা, 
মুখে মেচেতার দাগ, তবু সারদাকে দেখলে কোন মধ্যাবস্ত পাঁরি- 
বারের িনা হিসেবে অনেকের মনে হতে পারে । বেশ পারচ্কার 
একট সাদা শাড়ী পরা । এবাড়র দাস-দাসীরা 1ফটফাট পারচ্ছন 
থাকবে, এই সুজাতার নদেশ । ওদের জামা-কাপড় কনে দিতে 
সুজাতার কোনো কাপণ্য নেই। 

শশীকান্ত অঘোরে ঘুমুচ্ছে। খাটের বাইরে বোরয়ে আছে 
তার একটা পা। তার শোয়ার ভাঙ্গতেও গ্রাম্যতা আছে । 

অনেক রাত প্যণত সে ঘুমোতে পারে নি । ঘুমোনো সহজ 
নাক? তার জীবনের এই আকাস্মক পারবতনে সে একেবারে 
ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে । নরম বিছানায় শুয়ে শুয়েও উত্তেজনায় 
তার শমশীর উত্তপ্ত হয়ে উঠাছিল। কা হয়ে গেল ব্যাপারটা ! এসব 
স্বগ্নু নয় তো? মাঝে মাঝে উঠে উঠে সে হাত ঘাঁড়টা দেখাছল। 
এই ঘাঁড়টাও সাঁত্য, তার ?নিজস্ব ঘাঁড়ি। ঠিক যেন সোনা দায় 
তোর । 


৬ 


শেষ রাতে সে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে । 

সারদা প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশী জোরে ঘর ঝাঁটি 1দতে 
লাগলো । তাতেও লোকটার ঘুম ভাঙ্গলো না দেখে সে ীজানসপন্র 
সরাতে লাগলো খটাখট শব্দে । এক সময় শশীকান্ত চোখ মেলে 
তাকাতেই সারদা ঘ্ারয়ে নিল [নিজের মৃখ্টা। একটাও কথা 
বললো নাসে লোকটার সঙ্গে । শুধু, সেয়ে লোকাঁটকে পছন্দ 
করে নি, এটাই বুঝিয়ে দিতে চায় । 

শশকান্তও সারদার সঙ্গে কথা বলার সাহস পেল না। 

সুজাতার ভাঙ্গা ঘুম আর জোড়া লাগে ন। আরও 1কছুক্ষণ 
[বছানায় ছটফট করার পর ডাকলেন, রতন ! রতন ! 

রতন ততক্ষণে দুধ [নয়ে ফরে এসেছে । চায়ের জলও চাপানো 
আছে । রতন ! সুজাতা! ডাকা মান্র পাঁচ 'মানটের মধ্যে চা নিয়ে 
আসতে হয় । খুব পাতলা চা দুতন কাপ খায় সুজাতা । 

রতন চায়ের ট্রে এনে সাজয়ে ?দল সুজাতার বেড-সাইড 
টোবলে। 

_এ যান গেন্ট রুমে আছেন, তাঁকে চা দিয়েছিস ? 

_না। 

_ডাঁন জেগেছেন? 

_হ্যাঁ। 

_তা হলে চা'দস নিকেন? 

_-ও চাখায় কিনা তাতো আম জাননা । 

সুজাতা হাসলো । রতনের মুখখানা গোঁজ হয়ে আছে। 
রতনের মনের ভাব বুঝতে সুজাতার একটও অসুবিধে হয় না। 

রতনের চেহারা ও পোশাক এ লোকটির থেকে অনেক বেশ 
উচ্চাঙ্গের । এ রকম একাট লোককে ডেকে এনে বাবুদের 1বছানায় 
শোওয়ানো হবে, এটা সে পছন্দ করবে কেন? এ রকম লোককে 
সেবা করতেও সে অরাজী। 

_ওকে জিজ্ছেস কর । উন যাঁদ চা না খান, তা হলে এক কাপ, 


অ/স-৭ ৯১৭ 


দুধদে। উন খুব ভালো গান করেন । 

_-আজ দুপরেও এখানে খাবে 2 

_খাবেন তো নিশ্চয়ই । উাঁন এখানে বেশ কয়েকাঁদন থাকবেন। 
তোদের বাবু তাই তো বলে গেছেন । 

'এবার সুজাতা স্বানের ঘরে ঢুকবে । এরপর অন্তত এক 
ঘণ্টার জন্য সারা পৃাথবীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই । 

শশীকান্ত ঘুম থেকে উঠে বানায় বসে আছে উবু হয়ে । কী 
করবে ?িছুই বুঝতে পারছে না। ঘর থেকে বেরূতে সে ভয় 
পাচ্ছে । জ্ঞানব্রত বাব, তাকে এ ঘরে থাকতে বলেছেন । এ ঘরের 
বাইরে বোরয়ে ঘোরাঘীর করা ?ক উচিত তার পক্ষে ? 

রতন কিছ 1জজ্ঞেস না করেই এক কাপ চা রেখে গেছে তার 
সামনে । গরম গরম চা-টা শেষ করে ফেললো শশীকান্ত । এর 
আগে একবার সে বাথরুমটা দেখে এসেছে । বাথরহমে কমোড । 
শশীকান্ত জানে না ও জানস কীভাবে ব্যবহার করতে হয় | ওঃ, ক 
ঝমেলার মধ্যে তাকে ফেললেন এ জ্ঞানব্রত বাবু । 

এর পরের বপান্তটা হলো অন্য রকম। 

উত্জায়নী কাল নাইট শোতে [সিনেমায় ?গয়োছিল বন্ধুদের 
সঙ্গে । ফরেছে প্রায় রাত বারোটায় । সুতরাং সে শশীকান্তকে 
দেখেন । 

দশটা আন্দাজ ঘুম থেকে উঠেই উত্জায়নী গেল বাথরুমে । 
টুথব্রাশ হাতে বানয়ে দেখলো, টুথ পেন্ট নেই । 

টুথ পেষ্ট কোম্পানীর মা1পঞক্রর বাঁড়তেও কখনো টুথ পেষ্ট 
না থাকা ীবাচত্র কছু নয়। যে জানস ইচ্ছে করলেই 'বিনে পয়সায় 
শত শত পাওয়া যায়, সেই [জানসের কথা মনেই থাকে না। 

এমনও হয়েছে, সকালবেলা বাথ-রুমে টুথ পেন্ট না পেয়ে 
রতনকে পাঠিয়ে দোকান থেকে টুথ পেষ্টের নতুন টিউব 1কনে 
আনতে হয়েছে! রতন অতশত বোঝে না। সে এনেছে অন্য 
কোম্পানীর ট.থ পেম্ট। তখন সেটা ফেরত পাঠানো হলো । কিন্তু 


৭৮ 


'পাড়র বৌোকানে গোঞ্ডেন টার উংথ পেহ্ট নেই । ফলে বাধ্য হয়েই 
অন্য টুথ পেন্ট ব্যবহার করতে হতো । 
জ্ঞানব্রত দৈবাৎ 'নজের বাড়ীতে সেই অন্য কোম্পানীর টুথ 
পেন্টের 1টউব দেখে ফেলেছিলেন । তান ব্যাপারটা মোটেই পছন্দ 
করেন 'ন। 
বাথরুমের বন্ধ দরজার আড়াল থেকে দুবার চেচিয়ে ডাকল, 
মা, মা। 
1কন্তু সুজাতা বনজেই এখন বাথরুমে বন্দী । সে এখন মেয়ের 
ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। 
উত্জীয়নীর স্বভাব অত্যন্ত ছটফটে । কোনো কিছুর জন্য 
অপেক্ষা করার ধৈর্য তার নেই । সব 1্জানস তার এক্ষ]ণ, এক্ষুণি 
চাই । 
তার মনে পড়লো । গেষ্ট রুমের সঙ্গের বাথরুমে এক সেট 
[জানস সব সময় রাখা থাকে । ওখান থেকে টুথ পেন্ট ধার করা 
যায়। 
হাতে ব্রাশটা [নয়ে রাত-পোশাক পরা অবস্থাতেই বাথরুম 
থেকে বোরয়ে উত্জায়ন ছুটে গেল গেষ্ট রুমে । 
মায়ের কাছ থেকে এইটুকু অন্ততঃ শিক্ষা পেয়েছে উত্জায়নী 
যে সে হঠাৎ অবাক হয়ে চেচিয়ে ওঠে না, সহজে ভয়ও পায় না। 
বাথরুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ লাঙ্গ পরা, 
খাল গায়ের একজন কালো, লম্বা লোক, মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড় । 
আড়ষ্টভাধে থমকে গেল উক্জায়নী। 
বাঘকে বশ করবার জন্য যেমন তার চোখের 1দকে সোজা 
তা?কয়ে থাকতে হয়; সেই রকমভাবে চেয়ে উত্জায়নী জিজ্ঞেস 
করলো, তুমি--তুম কে ? 
তার চেয়েও বেশী আড়ঙ্উভাবে শশীকান্ত বললো, আজে, 
আমার নাম শশীকান্ত দাস-_ 
_তুমি এখানে কী করছো ? 


৯১৩ 


--আছ্ঞে, জ্ঞানব্রতবাব আমাকে এখানে থাকতে বলেছেন। 

_ এখানে 2 

_আজ্জে হ্যাঁ । 1তাঁন 'নজে কাল রাতে আমাকে এখানে 1নয়ে 
এসেছেন...আমি নিজে থেকে আসতে চাই 1ন, 1তাঁনই জোর করে 
বললেন । 

উত্জীয়নী শশীকান্তর আপাদমস্তক আর একবার দেখলো । 
কছুতেই এর কথা 1ব*বাস করা যায় না। তার বাবা এই রকম 
একটা লোককে-"রতন রতন বলে ডাকতে ডাকতে উজ্জায়নন 
বোরয়ে গেল সে ঘর থেকে । তারপর রতনের কাছে সব বৃত্তান্ত 
শুনে তার মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। 

সারাদন ধরে শশীকান্তর সঙ্গে কথা বলার জন্য কেউ এলোনা । 

উত্জায়নন চলে গেল কলেজে । একটু পরে সুজাতাও চলে গেল 
মাহলা সামাতর এক [মাটং-এ । সজাতার খাওয়া-দাওয়ার কোনো 
ঠিক নেই। এক একাঁদন দুপুরে ছু খাওয়াই হয় না। শরশর 
থেকে অন্তত দশ পাউন্ড ওজন খাঁসয়ে ফেলতে সে বদ্ধপাঁরকর ॥ 

রতন দুপুরের খাবার দয়ে গেল শশীকান্তর ঘরেই । 

চীনে মা1টর প্রেটে ভাত, তারই মধ্যে ডাল, আল; ভাজা । আর 
এক বাটিতে মাংস। 

এ টুকুন ভাত, শশীকান্ত 'তন গেরাসে খেয়ে নিতে পারে । 
বস্তুতঃ ভাত ছাড়া তার আর কেনো প্রিয় খাদ্য নেই । শুধু একট] 
ডাল পেলেই সে পুরো এক সের চালের ভাত খেয়ে ফেলতে পারে । 

সেই ভাতটুকু শেষ করে শশীকান্ত থালা চাটতে লাগলো । 
রতনের আর পান্তা নেই। 

মেস বাড়র ঠাকুরও 1জজ্ঞেস করে আর ভাত লাগবে £ আর এ 
বাঁড়র কেউ তা জজ্ঞেস করলো না ? এ কী রকম বাঁড় ! গতকাল 
রাতে জ্ঞানব্রত 1নজের সঙ্গেই শশীকান্তকে [নিয়ে বসে 1ছিলেন 
থাবার গোবলে। রাতে ছিল রাুঁটি। শশীকদ্ত র2ট পছন্দ করে 
না। তাছাড়া প্রথম ?দন সে লজ্জায় বেশশ খায় 'ন। কিন্তু প্রত্যেক 


৬০০ 


দন এরকম 1সাঁক-পেটা খেষে থাকতে হলেই হয়েছে আর ফি! তা 
হলে কাজ নেই তার নরম গদণর 1বছানায়। 
সারাঁদন শশীকান্ত চুপচাপ শুয়ে রইলো সেই ঘরে । 
রাতে অনেকটা সাহস সণ্য় করে ফেললো সে। 
রতন খাবার ?নয়ে আসতেই সে বলে উঠলো, আম রুট খাই 
না। ভাত নেই? 
রতন বললো, এ বাড়তে রাতে ভাত হয় না। 
শশীকান্ত তাতেও দমে না গিয়ে বললো, বেশ। কন্ত ও 
কয়খান রৃটিতে আমার পেট ভরবে না । আরও রহটি লাগবে । 
খাবারের প্লেট নামিয়ে রেখে রতন ফিরে গেল । 1ফরে এলো 
আরও প্রায় দশ বারোখানা রুট [নিয়ে । 
ব্যাঙ্গের সুরে সে জিজ্ঞেস করলো, এতে হবে ? 
শশীকান্ত ঘাড় নাড়লো। 
তারপর মুখ তুলে, খাতির করা গলায় জিজ্ঞেস করলো-- 
দাদার নাম কী? 
খুবই অবজ্ঞার সুরে সে বললো, রতনকুমার দাস। 
উৎসাহত হয়ে শশীকান্ত বললো, আপাঁনও দাস। আঁমও 
দাস। আমার নাম শশীকান্ত দাস। কুষ্টিয়ায় বাড়। 
এতেও বরফ গললো না। আর কোনো উত্তর না দিয়ে রতন চলে 
গেল । যেন সে বাঁঝয়ে দিতে চায়, তার দাস আর শশীকান্তর দাস 
এক নয়। বাংলাদেশের লোক। তাই ধরণ ধারণ এরকম । 
প্রায় এই রকম ভাবেই সাতটা 1দন কাটলো । 
গনজনতায় আতঙচ্ঠ হয়ে সপ্ততম রাত্রতে মরায়া হয়ে গিয়ে 
শশশীকান্ত ধরলো গান। বেশ উচু গলায়। সেই গানটা, "শহরে 
যোলোজন বোম্বেটে_ 
তখন উজ্জায়নীর ঘরে রেকড* প্রেয়ারে বাজছে ইংরোজ বাজনা । 
অস্টম দিন দৃপুরে দমদম এয়ারপোর্টে এসে পৌীছুলেন 


হন্তানত্রত। 
-০১ 


আগে থেকে খবর দেওয়া আছে । ড্রাইভার গাঁড় নিয়ে অপেক্ষা 
করছে বাইরে । সঙ্গে একটা ছোট ব্যাগ ছাড়া মালপন্রের ঝঞ্ঝাট নেই। 

জ্ঞানব্রত দ্রুত বোরয়ে আসছেন বাইরে, হঠাৎ একটি সংন্দরী 
তরুণী মেয়ে কোথা থেকে তাঁর পথ আটকে দাঁড়ালো । 

এক গাল হেসে মেয়োট জিজ্ঞেস করলো, আমায় 1চনতে 
পারছেন ? 

মুখে একটানা ভ্রমণের ক্লান্তি, হাতে একটা ভার ত্রীফকেস, 
জ্ঞানব্রত চাইছিলেন কোনোক্রমে এয়ারপোর্ট থেকে বোরয়ে গাঁড়তে 
উঠে গলার টাই ও জামার বোতাম খুলে ফেলতে । 

সামনে মেয়েটিকে দেখে তাকে থমকে দাঁড়াতেই হলো । 

মেয়োট সারা মুখে ঝলমলে হাস ফাটিয়ে বললো, নিশ্চয়ই 
আমাকে ভুলে গেছেন 2 আমকে বলুনতো ? 

এই কয়েকটা দন বাইরে বাইরে ঘুরে সম্পূর্ণ অন্যরকম 
মানুষজনের মধ্যে থাকতে হয়েছে । জ্ঞানব্রত বাংলাতে কথা বলারও 
কোনো সুযোগ পান ন। হঠাৎ কলকাতায় পা দেবার পর- 
মুহতেই কেউ এরকম পরাক্ষায় ফেললে [তান পারবেন কেন? 

মেয়োটকে চেনা লাগছে ঠিকই । 

জ্ঞানব্রত দ্রুত চিন্তা করতে লাগলেন। মেয়েটি বেশ রূপসা, 
সঙ্গে কেউ নেই,এয়ারপোর্টে একা,তবে কি কোনো এয়ার হোস্টেস 2 
কিন্তু এয়ার হোস্টেসদের পোশাকের মধ্যে কীরকম যেন নৈবর্যান্তক 
ব্যাপার থাকে, সেটা দেখলে বোঝা যায়। এর পোশাক সে রকম 
নয়। বেশ একটা চড়া রঙের লাল শাড়ী পরে আছে। 

মেয়েটি জ্ঞাতব্রতর চোখে চোখ রেখে প্রতীক্ষা করছে বলে তিনি 
বললেন, হ্যাঁ চিনতে পারবো না কেন? 

-আমার নাম বল্‌ন তো? 

নামটা তো মনে নেই বটেই, এমনাক কোথায় যে দেখেছেন 
মেয়োটকে' তাও মনে করতে পারছেন না জ্ঞানব্রত । 

-এর মধ্যেই ভূলে গেলেন? এই তো মাত্র দশ বারো দিন 


১০৭ 


আগে দেখা হয়োছল । 

_কোথায় ? 

_ ক্যালকাটা ক্লাবে। আপনার এক বন্ধু আলাপ কারয়ে 
দিলেন, কতক্ষণ আপনার টোবলে বসলাম । 

_-এলা ? 

_যাক, চনতে পেরেছেন তাহলে । 

জ্ঞানত্রত বুঝতে পারলেন, কেন মেয়োঁটকে 1তাঁন 19ক প্রেস 
করতে পারছিলেন না। এ রকম একাঁট সমত্্রী মেয়েকে মাত্র কয়েক- 
দিন আগেই দেখে তাঁর ভূলে যাওয়ার কথা নয়। কন্তু সোঁদন 
মেয়োট জন খেয়ে নেশা করেছিল বলে তার চোখ দুটি 1ছল 
কাঁচের মতন । আজ প্রায় সর্বক্ষণই দেখোছলেন বসে থাকা অবস্থায়। 
আজ একে দেখছেন একেবারে ভিন্ন পাঁরবেশে। বিভিন্ন রকম চুল 
বাঁধবার কায়দাতেও মেয়েদের মুখ অনেকখানি বদলে যায়। 

-_ জানেন, আজ ট্যাক্স স্ট্রাইক ? 

[বমান যাত্রীদের কাছে এ সংবাদ বেশ একটা বড় সমস্যা বটে, 
1কন্তু জ্ঞানব্রতের মনে কোনো দাগ কাটলো না। কলকাতা শহরে 
তাঁর ট)াঁক্স চড়ার কোনো অবকাশ হয় না। তাঁর জন্য নিশ্চয়ই 
গাঁড় অপেক্ষা করছে বাইরে । 

তুমি কোথাও যাচ্ছো, না আসছো ? 

এলা আবার হেসে ফেললো । তারপর ছেলেমানুষদের মতন 
দু্টুমীর সুরে বললো, আম কোথাও যাঁচ্ছও না, আসাছও না। 

জ্ঞানব্রত ব্রীফকেসটা ডান হাত থেকে বাঁ হাতে নিলেন। 

_-আম একজনকে পেশছে দতে এসোছলাম । 

-ও । 

--আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে খুব ভালো হলো। চলন একট; 
কাঁফ খাবেন 2 সোদিন আপনি আমাকে অনেক খাইয়ে দিলেন আজ 
আম আপনাকে খাওয়াবো । 

একট: ইতস্ততঃ করে জ্ঞানব্রত বললেন, ঠিক কাফি খাবার ইচ্ছে 


১০৩ 


এখন আমার নেই, বাঁড় ফেরার একট; তাড়া আছে, ওটা না হয় 
আর একাঁদন হবে। 

-আপনার গাঁড় আছে শীনশ্চয়ই ? আম কন্তু লিফট নেবো । 

_খুব ভালো কথা । 

--আসবার সময় কী কাণ্ড! আমার এক দাদ আজ আগর- 
তলায় গেল। সঙ্গে অনেক মালপন্র, এঁদকে ট্যাক্সি বন্ধ**শেষ 
পর্ন্ত অনেক কন্টে একটা শেয়ারের গাঁড়তে*** 

টামিনালের বাইরে এসে জ্ঞানরত স্থির হয়ে দাঁড়ালেন এক 
জায়গায়। গাঁড় তাঁকে খজতে হবে না। গাঁড়র ড্রাইভারই তাঁকে 
খুজে বার করবে। 

-কোথায় আপনার গাড়ি? কত নম্বর ? 

_ ব্যস্ত হবার কিছ; নেই, গাঁড় আসবে এখানে । 

_-জানেন, আপাঁন আমার একটা দারুণ উপকার করেছেন ? 

জ্ঞানব্রত রশীতমতন অবাক হয়ে বললেন, আম! আম 
আপনার কী উপকার করোঁছ ? মাত্র একাঁদন দেখা । 

_চলন, গাড়িতে যেতে যেতে বলাছ। 

[ঠক এই সময় একজন কেউ ডাকলেন, জ্ঞানদা ! জ্ঞানদা! 

জ্ঞানব্রত মুখ ফা রয়ে দেখলেন বাবুল আমেদ হন্তদন্ত হয়ে 
আসছে এই ?দকে । দহ'হাতে দুাট সটকেস। 

বাবুল আমেদ মোটাসোটা, হাস খুশি মানুষ ॥। কার্ড বোর্ড 
বকের বেশ বড় ব্যবসা আছে । বেঙ্গল চেম্বার্স অব কমার্সের ভাইস 
প্রোসডেন্ট । জ্ঞানব্রতর চেয়ে দুতিন বছরের বড়ই হবেন, কিন্তু 
হীন প্রায় সবাইকেই দাদা বলে ডাকেন। 

- আরে দাদা, কী ঝামেলায় পড়েছি । আমার ফেরার কথা 
1ছল গতকাল । সে ফ্লাইট মিস করোছ, তারপর আর খবরও 1দতে 
পাঁরাঁন, সেই জন্য আমার গাঁড় আসোন। এঁদকে আবার ট্যাকাঁস 
অ্ইক। আপনার কী অবস্থা ? 

জ্ঞানব্রত বললেন, চলুন, আপনাকে আমি নামিয়ে দাহ । 


১9৪ 


এলার মুখে স্পন্ট 1বরান্তর ছায়া পড়লো । গাড়িতে তৃতীয় 
ব্যান্তুর উপাশ্থীতি সে পছন্দ করছে না। 

জ্ঞানত্রতর কোম্পানির গাঁড় তখনই চলে এলো সামনে। 
ড্রাইভার নেমে সেলাম করতেই জ্ঞান্রত বললেন, পেছনের বুট 
খুলে দাও, এই সাহেবের সুটকেস যাবে । 

এলা বললো, আম সামনে বাঁস। 

বাবুল আমেদ বললেন, না, না, আপান সামনে বসবেন কেন ? 
আমি বসবো। আমার সামনে বসাই অভ্যেস । 

গাঁড় চলতে শুর: করার পরই বাবুল আমেদ ব্যবসাপন্রের কথা 
শুরু করে দিলেন ! দাদা, আপান স্টেট ট্রেডং-এর মালহোন্রাকে 
চেনেন? এবার দিল্লীতে গিয়ে দেখলাম 1” 

জ্ঞানরত হু* হ দিয়ে যেতে লাগলেন । 

হঠাৎ কথা থামিয়ে বাবুল আমেদ বললেন, রোককে । ড্রাইভার 
সাহেব, এখানে একটু রুখে দন তো । 

_কাঁহলো? 

_-এই সামনের দোকান থেকে একট? কোল্ড 'ড্রংকস নেবো । 
অনেকক্ষণ ধরে তেম্টা পেয়েছে । হঠাৎ কী রকম গরমটা পড়ে গেল 
দেখলেন? 

গাড়ী থামতে পাশের দোকানে চার বোতল কোজ্ড 'ড্রংকসের 
'অডরি 1দলেন বাবুল আমেদ, অথাৎ ড্রাইভারের জন্যও একটা । 
পেছনের সাঁটে দুট বোতল বাঁড়য়ে দিয়ে তিনি জ্ঞানব্রতকে 
বললেন, দাদা এ আপনার মেয়ে তো? এতক্ষণ চিনতেই পারনি, 
সেই অনেকাঁদন আগে একবার দেখোছিলাম, ফ্রক পরার বয়েস 
তখন-_ 

এরকম ভুল করার জন্য বাবুল আমেদকে দোষ দেওয়া যায় না। 

এলা তো জ্ঞান্রতর মেয়েরই প্রায় সমবয়েসী। তাছাড়া 

অনাত্রীয় যুবতা মেয়েকে [নয়ে গাড়ীতে ঘোরার সুনাম জ্ঞানব্রতর 
নেই ব্যবসায়ী মহলে । 


১০৫ 


এলা মুখটা ফিরিয়ে থাকে । 

জ্ঞানবত একট ববতভাবে বললেন, না, না,আমার মেয়ে না। 
মেয়ের বান্ধবাঁ, এয়ারপোরটে হঠাৎ দেখা হলো । 

জ্ঞানবতকে সামান্য মিথ্যে কথা বলতে হলো । এলা তাঁর মেয়ের 

সঙ্গে এক বছর এক কলেজে পড়েছে বটে, কিন্তু তাঁর মেয়ের বান্ধবাঁ 
নয়। উক্জাঁয়নী এলার নাম শুনে ভালো করে চিনতেই পারে ?ান। 
বয়েসের তুলনায় এলা অনেক বড় হয়ে গেছে। 

আবার গাঁড় চলতে শুরু করার পর বাবুল আমেদ আবার 
ফিরে গেলেন ব্যবসার কথাবাতয়ি। এলা কোনো কথা বলার 
সুযোগ পেল না। 

বাবুল আমেদ নামলেন মৌলালীতে। 

তারপর এলা গম্ভারভাবে বললো, আমাকে এসগ্লানেডে ছেড়ে 
দলেই হবে। 

_-তোমার বাঁড় কোথায় 2 

_-অনেক দূরে, বেহালার কাছে । 

বেহাল। অনেক দরে তো বটেই তাছাড়া একেবারে অন্য রাপ্তায় ॥ 

জ্ঞানবডত আতশয় ভদ্ু, মাঝপথে কোনো মাহলাকে গাড়ী থেকে 
নামিয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় । 1কন্তু যত তাড়াতা?ড় সম্ভব 
বাড়ী পেশছে পোশাক বদলাবার জন্য তাঁর মনটা ছটফট করছে। 

এখন রাত সাড়ে ন্টা। একবার [তানি ভাবলেন, তান আগে 
বাড়ী গিয়ে তারপর ড্রাইভারকে বলবেন, বেহালায় এই মেয়েটিকে 
পেশছে 1দতে ? তাঁর বাড়ীর সামনে গাঁড়তে এলা বসে থাকবে"**। 

জ্ঞানব্রতকে 'দ্বধা করতে দেখে এলা বললো, আমাকে এই 
সামনে এসপ্রানেডে নাঁময়ে দেবেন, আমার কোন অসাবিধে নেই। 
আপনার সঙ্গে দেখা না হলে তো আম মিন বাসেই ফরতাম। 

জ্ঞানব্রত জোর 1দয়ে বললেন, না সে প্রশ্বই ওঠে না। আমি 
তোমার বাড়ীতে নাময়ে দিয়ে আসবো । কতক্ষণ আর লাগবে। 

--আমার বাড়ী পর্ধন্ত গেলে আপনাকে একবার নামতে হবে । 


১০৬ 


কথা দন। 

- এখন, এত রানে ? 

_-ক'টা আর বাজে 2 

-অন্ততঃ দশটা বেজে যাবে । 

--তাতে আর কা হয়েছে । এক কাপ চা খেয়ে যাবেন শুধু 

_ আমি সন্ধ্যের পর চা কাঁফ কিছ খাই না। 

এবার গলা নীচু করে, মুচকি হেসে এলা বললো, হুইসএক 
অবশ্য খাওয়াতে পারবো না বাড়তে । 

জ্ঞানবত নয়ামত মদ্যপান করেন না। কখনো কখনো 
একটু একটু । এমেয়োট কি তাঁকে নেশাখোর ভেবেছে নাক ? 
পণ্চাশ বছর বয়েস পোরয়ে যাবার পর ক'জন লোকই বা রাত 
দশটার সময় চা খায় ? 

এসপ্রানেড আসবার পর জ্ঞানবত ড্রাইভারকে নরেশ দিলেন 
বেহালার 1দকে যাওয়ার জন্য। তারপর [তিনি অন্যমনস্কভাবে 
চুপ করে গেলেন। 

-আপান আমার ওপর রেগে গেলেন ? 

_আরে ? রাগ করবো কেন? 

_ কোনো কথা বলছেন না আমার সঙ্গে 2 

জ্ঞানব্ডত ভাবলেন, এ মেয়েটা ক পাগল নাক £ হঠাৎ তান 
রাগ করতে যাবেন কেন ওর ওপরে 2 তা ছাড়া কোনো 1কছু 
বলবার না থাকলেও কথা বলে যেতে হবে 2 এমাঁনতেই কম কথা 
বলা তাঁর স্বভাব । 

-_আপনার কৌতহল খুব কম, তাই না ? 

_কেন ? সেটা কী করে বোঝা গেল? 

--অ!পাঁন আমায় এয়ারপোর্টে দেখেও প্রথমে জজ্ঞেস করেন 
নি কার সঙ্গে সেখানে গোছ। তারপর এই যে আপনকে বললাম, 
একবার আমার বাড়তে নামতে হবে, তখনও 1জজ্ছেন করলেন না, 
বাড়তে কেকে আছে ? 


১০৭ 


ত্ঞানবত বুঝতে পারলেন, এবার মেয়োট ঠিকই ধরেছে । এটা 
বোধ হয় সজাতার প্রভাব। সুজাতা কখনো কারুর ব্যান্তগত 
জাঁবন সম্পকে প্রশ্ন করে না। নারী জাতির মধ্যে সুজাতার মতন 
এমন কম কৌতূহলপরায়ণা খুবই দুলভ। 

[তানি হেসে বললেন, একটা ব্যাপারে অবশ্য আমার একটু 
কৌতূহল হচ্ছে, তুমি তখন বললে, আম তোমার উপকার করেছি 
সেটা কী উপকার 2 

_আপাঁন রোডও+'র ঘ্টেশন [ডিরেকটার পি. 1স. বড়ুয়ার সঙ্গে 
আমার আলাপ করে দয়োছিলেন, মনে আছে ? 

হয? । 

_-উান আমায় গানের প্রোগ্রাম দয়েছিলেন। আগে আম 
অনেকবার চেণ্টা করেও পাইনি । এবার যে পেলাম সেতো 
আপনার জন্যই । 

_এ জন্য আম তো কোনো চেষ্টা কার ন। যাই হোক। 
যাঁদ তোমার উপকার হয়ে থাকে আর তাতে আমার কোনো 
যোগাযোগ থাকে, তাতে আমার খুশন হবারই কথা । 

_-সামনের মাসেই আমার প্রোগ্রাম । 

_বাঃ। 

_আপনারা বেশ মেকানিক্যাল। যখন তখন বাঃ বলতে 
পারেন। এলার গলায় রাগের ঝাঁঝের পাঁরচয় পেয়ে জ্ঞানবত 
একট সচকিত হলেন। 1তাঁন কোনো ভুল করে ফেলেছেন ? 

-_-এখানে, বাঃ ! বলা বে-মানান 2 

_াঁনশ্চয়ই বেমানান! আম কেন গান কার, সে সম্পকে 
আপনার একটু কৌতূহল নেই, তবুও বললেন বাঃ। 

রোঁডওতে প্রত্যেকাদন কত ছেলে-মেয়েই তো গান গায়। 
তা ছাড়া জ্ঞানবত আত করদাঁচত রোডও শোনেন। সুতরাং 
রোডওতে কে কবে কী গান গাইবে, সে ব্যাপারে জ্ঞানবতর 
কৌতূহল বা আগ্রহ থাকবে কেন ঃ কিন্তু যে জীবনে প্রথম 


১০৮ 


রেডিওতে গান গাইবার সুযোগ পেয়েছে, তার কাছে এটা নিশ্চয়ই 
খুবই উত্তেজনার ব্যাপার । 

_না। না। শুনতে হবে। একাদন শুনবো তোমার গান। 

-দোঁখ, সে দিনটা কবে আসে। 

_ খুব শিগাঁগরই একাদন-*- 

- একটা মৃসকিল হয়েছে কী জানেন, আম নজরুল-অতুল 
প্রসাদ গাই, ?কন্ত বড়ুয়া সাহেব বললেন, পল্লীগখীতিতে স্কোপ 
বেশী । এ প্রোগ্রামে ভালো আিন্ট পাওয়া যায় না। সেইজন্য 
আমার একটা করে পল্লীগীতির অনুষ্ঞানও করে যেতে হবে। 
আমি ফোক সং কোনোদন তেমন 1শাখাঁন**"'এখন শিখতে যেতে 
হবে কারুর কাছে। 

এতক্ষণে শশীকান্তর কথা মনে পড়লো জ্ঞানবতর । 1তাঁন 
একজন গায়ককে ?নজের বাঁড়তে এনে রেখেছেন ! সে ছেলেটা কী 
করছে কে জানে? সেক সুজাতা-উজ্জায়নীদের সঙ্গে মানয়ে 
ীনতে পেরেছে ? 

- আম একজন পল্লীগণীতির গায়ককে চান। ভালো গায়। 
জান না, সে তোমায় শেখাতে পারবে 1ক না। 

_কে? কে? 'িকনামঃ 

- একদন আলাপ কারয়ে দেবো তোমার সঙ্গে । 

এলা তার ডান হাতটা সীঁটের ওপর 1দয়ে বাঁড়য়ে জ্ঞানব?তর 
একটা হাতের ওপর রাখলো । জ্ঞানরত প্রায় শিহারত হলেন । এ 
কী করছে মেয়েটা 2 সামনে ড্রাইভার রয়েছে । এরকমভাবে তো 
প্রোমক-প্রোমকারা হাতের ওপর হাত রাখে । মেয়েটা তাঁর সঙ্গে 
এরকম ব্যবহার করছে কেন ? 

জ্ঞানবডত [নিজের হাতটা সাঁরয়ে নিতেও পারলেন না। জানলা 
[দয়ে বাইরের দিকে চেয়ে আড়ঙ্টভাবে বসে রইলেন। 

বেহালায় বাঁড়র সামনে পেশছে এলা আর বিশেষ জোর করলো 
না। জ্ঞানব্রত দু'বার না বলতেই সে বললো আচ্ছা ঠিক আছে। 


১০৯ 


আজ নামতে হবে না। কিন্তু বাড়ি তো চনে গেলেন, অন্য কোন 
দিন আসবেন তো 2 

_ হ্যাঁ, আসবো । গান শোনা আর চা পাওনা রইলো । 

অদ্ভুত রহস্যময়ভাবে জ্ঞাতব্রতর 1দকে হেসে এলা খুব আস্তে 
আস্তে বলল, আম জান, আপাঁন ঠিক আসবেন । 

বাঁড় ফেরার পর সুজাতা জিজ্ঞেস করলো, এত দোর হলো 2 
প্রেন লেট ছল? 

_-না। আজ ট্যাকাস স্ট্রাইক । দহু"জনকে বাড়তে নামিয়ে 
দিয়ে এলুম। 

ভালো করে স্নান করে পা-্জামা ও পাঞ্জাবী পরার পর 
জ্ঞানরত খুব স্বাস্তর সঙ্গে বললেন, আঃ । 

আজ তাঁর ভালো ঘুম হবে। নজের বাড়তে, নিজের 
বালিশাটিতে মাথা দয়ে ঘমোনোর মতন আরাম আর নেই । 

খাওয়ার টৌবলের কাছে এসে [তান [জিজ্ঞেস করলেন, বাড়িটা 
বন্ড চুপচাপ লাগছে । খুকু কোথায় 2 

__ও নাইট শো-তে ীসনেমায় গেছে । বুল মাসীদের সঙ্গে । 
আর একটু বাদেই ফিরবে। 

__তুমি গেলে না [সনেমায় 2 

-আমি কি সব [সিনেমা দোখ? তাছাড়া তুমি আজ 
আসবে । 

__-সেই ছেলোঁট কোথায় 2 সে খেয়েছে 2 

সুজাতা এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে টেবিলের ওপর 
দ'হাত রেখে মুখখানা নিচু করে রইলো । 

উত্তর না পেয়ে বাস্মিত হলেন জ্ঞানবডত । চেয়ারে না বসে 
[তান এগয়ে গেলেন গেন্ট রুমের দিকে । 

সে ঘরির দরজাটা বন্ধ । জ্ঞানবত একটু ঠেলতেই খুলে 
গেল । ঘর ফাঁকা । 

এক? সেই ছেলেটি গেল কোথায় ? শশীকান্ত ? সহজাতা 


১১০ 


খুব ধীর স্বরে বলল, সে আজ সকালে কাউকে 1কছ না বলে চলে 
গেছে। সারা দিনে আর ফেরে 1ন। 

স্ত্রীকে দু'একটি প্রশ্ন করেই থেমে গেলেন জ্ঞানবত । 

বাড়তে তিন একজন আঁতাঁথ রেখে গিয়োছলেন। তারপর 
কয়েক দন কলকাতার বাইরে থেকে ঘুরে এসে দেখলেন সেই 
আতাঁথ নেই । কোথায় গেছে কেউ জানে না। সুতরাং ধরেই 
নেওয়া যায় আতাঁথর প্রাতি অধত্ব, অবহেলা, অত্যন্ত ওদাসীন্য 
দেখান হয়োছল 1নশ্চয় । 

কিন্তু এই ব্যাপার [নিয়ে স্তর সঙ্গে বাদ প্রাতিবাদ এমনকি 
উ“্চু গলায় কথা বলাও জ্ঞানবতর স্বভাব নয় । তাঁর সব ?কছুই 
মনে মনে। 

শশীকান্ত কোথায় ষেতে পারে ঃ তার তো কোনো যাবার 
জায়গা নেই । যে মেস ছেড়ে চলে এসেছে, সেখানে ফিরে যাওয়ার 
কোনো প্রশ্ন ওঠে না, কারণ সেখানে একজন রুমমেট তাকে তাঁড়য়ে 
দেবার জন্য ব্যস্ত ছিল । রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে 2? যোধপুর পার্কে 
বাঁড় খুজে পাওয়া শস্ত, অনেকেই বলে । পাাীলশে ফোন করা কি 
উঁচত হবে? শশীকান্ত একজন শল্ত-সমর্থ চেহারার পুরুষ 
মানুষ, সে বাঁড় ফেরেনি বলে থানায় খবর দলে যাঁদ সেখানকার 
লোকেরা হাসাহাসি করে । 

পোশাক বদলে জ্ঞানবরত দুটি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে 
পড়লেন! সুজাতা বাথরুমে, উজ্জায়নীর ঘরে রেকড'প্সেয়ারে 
একটা উগ্র ?বদেশী সর বাজছে । জ্ঞানত্রত একদিন দেখোঁছিলেন, 
উজ্জাঁয়নৰ ঘরের মধ্যে একা একাই নাচে । তখন বড় সংন্দর দেখায় 
ওকে, চোখ দুটো মোহের আবেশে বুজে আসা হাতের আঙ্গুল- 
গুলো যেন গড়া । ঠোঁটের ভর্গিতে অদ্ভূত সারল্য। কিছু 'দিন 
ধরে মেয়ের কথা ভাবলেই এলার কথা মনে পড়ে। ওরা প্রায় 
একই বয়েসী । কিন্তু দু'জনে কত আলাদা । 

বাথরুম থেকে বোরয়ে রাত-পোশাক পরা সুজাতা নিজের 


১১১ 


খাটে শুয়ে একটা 1সগারেট ধরালো । শকন্তু আজ আর 1ডটেকটিভ 
উপন্যাস খুললো না। 

_তুমি ঘুমিয়ে পড়েছো? 

জ্ঞানবরত 15ৎ হয়ে শুয়ে আছেন। ক্ষ: বোজা । বুকের উপর 
আড়াআড়ি দুটি হাত রাখা । আজ আর ঘুমের আরাধনা করতে 
হবে না, ট্যাবলেট তার কাজ ঠিক সময় মতন করবেই । এর সঙ্গেই 
হাত-পা একটু 1ঝমাঁঝম করছে । 

--না। তুম ।কছু বলবে ? 

_- আমাদের যে এক সঙ্গে বাইরে কোথাও যাবার কথা 
বলোছলে ? যাবে না? 

_হ্যাঁ। যাওয়া যেতে পারে । কোথায় যাবে, ঠিক করেছ ? 

_পুরী। 

_-পুরশ ! গত বছরই তো গিয়োছলুম । 

_-গতবার তো সারাক্ষণই বৃম্টি হলো***সমুদ্র আমার ভালো 
লাগে**' 

-ঠিক আছে। কালই হোটেল বুক করবার ব্যবস্থা 
করবো । 

1নজের খাট থেকেউঠে এসে সংজাতা বললো, একট সরো, 
তোমার পাশে আমি শোবো। 

-আজ বই পড়বে নাঃ 

_ কেন, তোমার পাশে শুলে আপাতত আছে ? 

জ্ঞানবডত হাত বাঁড়রে সুজাতার কোমর ধরে নিজের কাছে 
টেনে বনাোলেন। মনে মনে অনুশোচনা হলো। কেন ঘুমের 
ট্যাবলেট খেতে গেলেন আজ । আসল ব্যাপারটা হবার আগে 
সুজাতা অনেকক্ষণ আদর পছন্দ করে! যাঁদ তার মধ্যে ঘুম 
এসে যায়। 

জ্ঞানবডতর মুখটা নিজের বুকে চেপে ধরে সুজাতা জিজ্ঞাসা 
করলো তঁমি আমার উপরে রাগ করেছো 2 


১১৭ 


-কেন, রাগ করবো কেন? 

_এ যে গায়কাঁটি, শশশকান্ত***ও বাড় ফেরোন, তুমি ভাবছ 
ওকে আমি তাড়য়ে 1দয়োছ*** 

_ না, না, সে কথা বলবো কেন ? 

_-লোকাঁট তো কথাই বলতে চায় না, এত লাজুক, আমি দু 
এক বার চেত্টা করেছি**তুমি শখ করে ওকে বাড়তে ডেকে 
এনেছো, ওর যাতে কোনো অধত্র না হয় সে কথা আম কাজের 
লোকেদের বলেছিলাম । 

-না, না, তুমি তো যথেষ্ট করবেই, আম জানি। 

- তোমার শরীর বেশ ভাল নেই, বকছুঁদন ধরেই দেখাঁছ, 
তুমি অন্যমনস্ক ? 


- শরীর তো ঠিকই আছে । অন্যমনস্ক থাক বাঝ ? 

-তুমি বড় বেশী পাঁরশ্রম করছো আজকাল । 

সুজাতার উর? কি মস:ণ, তলপেটে ভাঁজ পড়োনি, বুক দাউ 
এখনো সুগোল । বোঝাই যায় না, তার অতবড় মেয়ে আছে। 
আজ জ্ঞানব্রতকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি এখনো সক্ষম পুরুষ 
মানুষ । বকছুতেই ঘুমিয়ে পড়লে চলবে না। 

মধ্যপথে বিকট শব্দে টোলিফোন বেজে উঠল। বেডরুমের 
টেলিফোনের কানেকশন রাত এগারোটার পর অফ করা থাকে। 
সুজাতা ঠনজেই এটা করে । আজ সে ভুলে গেছে । আজই । বেশী 
রাতের টোলিফোনের আওয়াজে কেমন একটা গা ছম ছম করা ভয় 
আছে । জ্ঞানব্রতর 'নরেশে আছে আঁফসের হাজার জরুরী কাজ 
থাকলেও কেউ যেন তাঁকে রাত এগারোটার পর 'বরস্ত না করে। 
িন্তু যাঁদ ফ্যাকটারতে আগ্দন লাগে ? 

স্বামী আর স্ত্রী দু'জনেই একটুক্ষণ 1নস্পন্দ হয়ে শুনলো 
আওয়াজটা। তারপর সুজাতা বললো, আম ধরবো 2 জ্ঞানব্রত 
বললেন, না, আম ধরাছ। 

প্রথমে কিছুই বুঝতে পারলো না। জাঁড়ত গলায় কে যেন 


অ/স-৮ ১১৩ 


1হন্দীতে কী জানতে চাইছে। 

জ্ঞানব্রত কড়া গলায় জিজ্ঞেস করলেন, হ্যালো 2 হু ইজ 
স্পাঁকং ? হুম ড়ুয়ু ওয়ান্ট ? 

রং নাম্বার ! 

জ্ঞানব্রতর ইচ্ছে হলো টোলফোন যন্ত্রটা আছড়ে ভেঙে ফেলতে । 
তার বদলে ?তান তার ধরে এক টান 'দয়ে প্রাগটা খুলে ফেললেন । 
সুজাতা ততক্ষণে উঠে বসেছে । জ্ঞানত্রত ফিরে আসতেই বললো, 
আজ আর থাক! 

জ্ঞানব্রত আপাত্ব করলেন না। তিন জানেন, একটু কোনো 
রকম ব্যাঘাত ঘটলেই সঃজাতার মুড অফ হয়ে যায়। 

এরপর শুতে-না শুতেই ঘুময়ে পড়লেন জ্ঞানরত ॥ যেন 
ট্যাবলেটের ঘুম তাঁর জন্য জানলার বাইরে অপেক্ষা করাছল। 

পরদন সকালবেলা জানা গেল শশীকান্ত বাঁড়র গেটের 
বাইরের 1সশাড়তে বসে ঘুমোচ্ছে। 

জ্ানব্রত নিজেই যথেষ্ট ভোরে ওঠেন 1কন্তু তাঁর আগেই রঘু 
দেখতে পেয়েছে । খবর পেয়ে জ্ঞানব্রত সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই 
শশশকান্ত ধড়মড় করে জেগে উঠে চোখ কচলাতে লাগলো । 

_-কী ব্যাপার রাস্তা হাঁরয়ে ফেলোছলেন ? 

_-আম হারায় নাই স্যার, আমারে যারা পেশছাতে এসোছিল:** 

_তারা কারা? 

_ _ব্যাণ্ডেলে গেছিলাম স্যার, একটা ফাংশান ছল । আসরে 
গাইতে দিল রাত এগারোটার পর ॥ দৃইখানা গানের পর পাবলিক 
বললো, আরও চাই--আরও চাই ॥। গাইলাম আরও [তনখানা । 

_-বাঃ, ভালো কথা । ব্যাণ্ডেলে ফাংশান করতে 1গয়োছলে 
তো সে কথা এ বাঁড়তে কাউকে বলে যাণাঁন কেন ? 

_দুপুরে রোঁডও স্টেশনে গেলাম । সেখানে [বমানদা বললেন, 
ব্যান্ডেলে একটা ফাংশান আছে, যাবে 2 বোম্বাইয়ের একজন আটিভ্ট 
আসে নাই। ওরা সেইগ্ন্য তন চারজন একস্ট্রা লোকাল আটিজ্ট 


১৬৪ 


চেয়েছে । যাবে তো এক্ষ2ীন চলো, একশো টাকা পাবে। তাস্মার, 
একশো টাকা রেট তো আমারে আগে কেউ দেয় নাই, তাই রাজ 
হয়ে গেলাম । পাবালক খুব সাপোর্ট 1দচ্ছে স্যার, আমারে থামতেই 
দেয়না! এ গানটা গাইলাম, ষোলো জন বোম্বেটে*** 

_ঠিক আছে । বাঁড়র ভেতরে এস, হাত মূখ ধুয়ে নাগু। 

-আপান রাগ করছেন, স্যার ? 

_না। আমাকে স্যার বলে ডেকো না। 

কা বলবো ? 

-ইয়ে, শুধু দাদা বলতে পারো । 

এরপর শশশীকান্তের জন্য অন্য ব্যবস্থা হলো । দোতলার 
সুসত্জত গেস্ট রুমির বদলে তাকে পাঠানো হলো একতলার 
সাদা-মাটা একট ঘরে । সেখানে সে বেশী স্বাস্ত পাবে। ঘরটা 
বাঁড়র পেছন 'দকে, ইচ্ছে করলে সেখানে সে তার গানের রেওয়াজও 
করতে পারে । তাতে ওপর তলায় লোকেদের কোনো ব্যাঘাত হবে 
না। তার খাবারও পাঠিয়ে দেওয়া হবে নিচে । 

এসব সুজাতারই ব্যবস্থাপনা । 

খাবার টোবলে বসে জ্ঞানব্রত বললেন, তাহলে শাঁনবারেই 
পুহরশীর হোটেল বুক করাছি। শচখনকে বলে দিচ্ছি, আজই 1টাকউ 
কেটে ফেলবে । ভুবনেশ্বর পযন্তি প্লেনে যাবে, না ট্রেনে? 

সুজাতা বললো, ট্রেনেই ভাল। এক রা'ব্িরই তো ব্যাপার । 
ওখানে গাঁড় পাওয়া যাবে তো ? 

- হ্যাঁ, টুরিষ্ট [পাটমেন্টের গাঁড় ভাড়া করলে হবে। 

খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে এসেছে । এমন সময় ঘুম-চোখে উদ্কো- 
খুস্কো চুলে এসে হাঁজর হলো উঞ্জায়নী | টোবলে বসেই বললো, 
আমার দুধটা দিয়ে দাও আম আজ তাড়াতাড়ি বেরুবো । 

সুঞ্জাতা বললো, খুঁস, এই শাঁনবার আমরা পুরা যাচ্ছি। 

উত্জাঁয়নী যেন আকাশ থেকে পড়লো । সারা মুখে বিস্ময় 
হাঁড়য়ে বললো, পুরী 2 এখন 2 তোমাদের 1ক মাথা খারাপ 2 


১১৫ 


_কেন 2 

-_-গত বছর মনে নেই ? সব্কক্ষণ বৃষ্টি। 

--তা বলে কি এবারেও বৃষ্টি হবে? 

_ নিশ্চয়ই হবে। দেখছো না, এখানে এরই মধ্যে দ2এক দিন, 
বান্ট হয়ে গেলো ! 

--তাহোকনা। বাঁন্টর মধ্যেও সমহদ্র দেখতে কত ভালো 
লাগে । ইচ্ছে হলে আমরা পুরীর বদলে কোনারকে গয়েও থাকতে 
পার । 

_ তোমাদের ভালো লাগে তোমরা যাও। 

_-তুই যাব না? 

_ইমুপাঁসবল ! আম কলকাতা ছেড়ে [কছ?তেই যেতে 
পারবো না। 

_-কেন, তোর এমন ক কাজকর্ম আছে, শুন! 

_এই শাঁনবার দন পারাঁমতার জন্মাদনের পাটি । আমরা 
অনেক মজা করবো, কত দিন আগে থেকে ঠিক করে রেখোঁছ। 

-ঠিক আছে, আমরা তা হলে শনবারের বদলে রাঁববার 
যাবো । 

- রোববার থেকে আমাদের নাটকের [রহাসীল। আমরা মিড. 
সামার লাইটস 'ড্রম করাছ।, 

__তা হলে আমরা যাবো, তুই যাব না ? 

_- তোমরা ক আমায় জিজ্ঞেস করে যাওয়া ঠিক করেছো ? 
আমার স্াবধে অস্ীবধে কিছ? আছে 1কনা, তা একবারও ভেবে 
দেখবে না ? 

জ্ঞানব্রত চুপ করে আছেন। মেয়ে বড় হয়েছে, তার একটা 
নিছক মতামত তো থাকবেই । বাবা-মা যখন যেখানে যেতে বলবে, 
তাতে রাজ হবে কেন ? 

উজ্জায়নীর ওপর জোর করেও কোনো লাভ নেই। দার 
জেদী মেয়ে। 


১১৬ 


মা ও মেয়েতে আরও কিছুক্ষণ উত্তর প্রত্যুত্তর চলবার পর 
ক্বানব্রত বাধা দিয়ে বললেন, থাক ও যাঁদ যেতে না চায়, ও থাক। 

_-তা বলে বাড়তে ও একা থাকবে ? 

উজ্জাঁয়নশ এবার ফোঁস করে উঠে বললেন, হোয়াট ডু-য়ু মীন 
একা? আম কি একা থাকলে ভূতের ভয় পাবো 2 

শেষ পযন্ত ঠিক হলো উত্জীয়নী একাই থাকবে । পুরীতে 
যাবে শুধু স্বামী স্তী। জ্ঞানব্রতর ক্ষীণ আশা ছল, যাঁদ সুজাতা 
পুরো ব্যাপারটাই ক্যানসেল করে দেয়। কেননা, পুরীতে এখন 
বেড়াতে যাবার খুব ইচ্ছে তাঁরও নেই । কিন্তু সুজাতা যাবার জন্য 
বদ্ধপরিকর । 

আফসে িয়েই হোটেলের বুকিং এবং 1টাকিটের ব্যবস্থা করে 
ফেললেন জ্ঞানরত। তারপর কাজে ডুবে গেলেন। 

নিজে ধকছাদন 1তাঁন কলকাতার বাইরে 1ছলেন,আবার বাইরে 
যাচ্ছেন, মাঝখানে অনেকগুলো কাজ সেরে রাখতে হবে। 

দু"দন বাদে শেষ বিকেলে একটা টেলিফোন পেলেন জ্ঞানব্রত। 

_- আম এলা বলছি । নাগ শুনে চিনতে পারছেন তো ? 

হ্যাঁ । 

_-আপাঁন আজ খুব ব্যস্ত? 

_ হ্যাঁ হ্যাঁ, তা ব্যস্তই বলা যায়। 

_তা হলে আম যাবো না ? আমার ইচ্ছে ছিল আপনার কাছে 
শগয়ে নেমন্তন করার । টোঁলফোনেই বলবো 2 

মুহ্‌তে“র মধ্যে জ্ঞানব্রত চিন্তা করলেন, কিসের নেমল্তম্ন ? 
ীবয়ের ? এরই মধ্যে মেয়োট য়ে ঠিক করে ফেলেছে ! আশ্চর্য ! 

_ হ্যাঁ বলুন, মানে, ইয়ে বলো" 

_কাল সন্ধেবেলা আপাঁন ক্রি আছেন তো? না থাকলেও 
আপনাকে সময় করতেই হবে। 

_কী ব্যাপার ? 

-আমার এখানে একটা ছোটু ঘরোয়া গান-বাজনার আসর 


১১৭ 


কালকে । আপনার আসা চাই । আ'ম কিন্তু কোনো রকম আপাতত 
শুনব না। আসতে হবেই। 

ন্তানব্রত একট:ক্ষণ চুপ করে রইলেন। ব্যাপারটা তাঁর ভালে। 
লাগছে না। এই মেয়েটি যেন তাঁকে ক্রমশই জাঁড়য়ে ফেলতে 
চাইছে। সামান্য একটা ছোট্ট ঘরে থাকে মেয়োঁটিঃ সেখানে গান 
বাজনার আসর 2 এই মেয়েটির সব ছুই যেন অদ্ভুত । 

_-আপাঁন কিছু বলছেন না যে, হ্যালো! হ্যালো ! 

আমার পক্ষে তো কাল যাওয়া সম্ভব নয়। একটা জরুরী 
এ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। 

_-+সন্ধে বেলাতেও কাজের আযাপয়েশ্টমেন্ট? হি হাহ! 
কতক্ষণ লাগবে? আপাঁন একট: দোর করে আসুন, কোনো 
অসুবধাই নেই। 

_-একট? নয়, অনেক দোর হবে। 

_-কতক্ষণ, ন'টা দশটা ! তার পরেও অন্তত আসুন একট:- 
ক্ষণের জন্য 

দশটার পরেও একটি কুমারণ মেয়ে তার বাড়তে যাবার জন! 
অনুরোধ করছে। জ্ঞানব্রত এসব জীবনে একেবারেই অভ্যস্ত নয় । 

[তিন কণ্ঠস্বর গম্ভীর করে বললেন, না, আমার পক্ষে কোনো- 
ক্রমেই সম্ভব নয়। দুঃখিত । 

আর কিছু শোনার আগেই [তিন [রাসভার রেখে দিলেন। 

এই মেয়ৌটকে আর একট?ও প্রশ্রয় দেওয়া ঠিক হবে না। একে 
একেবারে মুছে ফেলতে হবে মন থেকে । 

কাজ শেষ করার পর যথারীতি বাড়ী 1ফরে 1তাঁন একটু 
চাণ্চল্য বোধ করলেন । আবার কি ব্লাড প্রেসার বেড়েছে ? তাঁর 
এক বন্ধু তাঁর ?চাকৎসক ॥ তাঁর কাছে একবার যাবেন নচাক ? 

সারা?দন প্যাচপেচে গরম গেছে! বাথরুমে ঢুকতে গিয়েও 
তাঁন ঘেমে গেলেন। ইচ্ছে করছে সাঁতার কাটতে । ডান্তারও 
বলোছনেন অবগাহন স্বানে ব্লাড প্রেসারের উপকার খয়। 


১১৮ 


গাঁড় নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়ে চলে এলেন ক্যালকাটা সুই শিং 
ক্লাবে । এক সময় এখানে তিনি নিয়ামিতই আসতেন । হাটের 
গণ্ডগোলটার পর আর আসা হয় না। 

আজ ইচ্ছে করছে দু-এক বোতল বীয়ার পান করতে । এই 
গরমে ভালো লাগবে । কিংবা অনেকখানি বরফ 1দয়ে গমলেট । 
1কন্তু জ্ঞানব্রত সে ইচ্ছেটা দমন করলেন । তাঁর এক.বন্ধু বোম্বাইতে 
তিন পেগ জিন খেয়ে সাঁতার কাটতে নেমোছল । সুইমিং পুলের 
মধ্যেই তার হার্ট আাটাক হয় চিকিৎসারও সুযোগ পায়নি। 

নীল রঙের পাঁরস্কার জল । তলার দিকটা বেশ ঠান্ডা । অন্য 
বারা সাঁতার কাটছে তারা প্রায় সবাই সাহেব-মেম। ভারতায়রা 
এই ক্লাবের সভ্য হয় বটে। বীকন্তু প্রায় কেউ জলে নামে না, 
জলের ধারে টোবল 1নয়ে বসে মদ খায় আর আড়চোখে অর্ধনন্ন 
মেমদের দেখে। 

আপন মনে সাঁতার কাটতে কাটতে জ্জানবতর হঠাং ছেলে- 
বেলার কথা মনে পড়ে গেল। তান সাঁতার শিখেছেন গ্রামের 
পুকুরে । কুষ্টিয়ার কৃমারখালণ গ্রামে । মামা বাড়তে তাঁর 
সেজো মামা ন'বছর বয়স্ক জ্ঞানবডতকে ধরে ছ*ড়ে ফেলে দিতেন 
পুকুরের মধ্যে । আকু-পাক করতে করতে ডুবে যাবার ঠিক 
আগে সেজো মামা এসে ধরে ফেলতেন । এইভাবে মান্র কয়েকাদনের 
মধ্যে সাঁতার শেখা হয়ে যায়। 

এসব মনে পড়ে ?ন তো এতাঁদন ! ক্যালকাটা ক্লাবের সুইমং 
পুলে সাতার কাটতে এসে এর আগে কোনোদিন তাঁর গ্রামের 
পুকুরের কথা মনে পড়ৌন। শশীকান্তর সঙ্গে দেখা হবার পর 
থেকেই***। কিন্তু এর মধ্যে এক।দনও তো শশীকান্তর সঙ্গে গল্প 
করা হলো না, কিংবা শোনা হলো না তার গান। 

খাঁনকক্ষণ সাঁতার কেটে ক্লান্ত হয়ে জ্ঞানবত ওপরে উঠে 
বসলেন । একট বিশ্রাম নিয়ে আবার নামবেন । জল খুব ভালো 
লাগছে আজ । 


১১৪ 


হঠাং পুলের ডান পাশের 1দকে চোখ চলে গেল তাঁর, একজন 
নারীর বাহ্‌ ধরে এাঁগয়ে আসছে একজন দীর্ঘ চেহারার পুরুষ । 
রেডিওর সেই পি. সি. বড়ুয়া আর এলা। ওরা কোনো খালি 
টোবিল খদুজছে। 

জ্ঞানব;ত চট করে মুখ ঘাঁরয়ে নিলেন অন্য দিকে । 

সুইমিং পুলের রোলিং ধরে আস্তে আস্তে উঠে এলেন জ্ঞানবুত। 
একটা গভণর দীর্ঘ*বাস পড়লো । 

এলা কিংবা বড়ুয়া তাকে দেখতে পায় বন । জলের ধারে একটা 
টোবলে বসে কী একটা কথায় যেন ওরা দু'জনেই হাসছে । 

জ্কানবত চলে গেলেন পোশাক বদলাবার ঘরে । আগে গা মাথা 
মুছলেন ভালো করে । তারপর দাঁড়ালেন আয়নার সামনে । 
নিজের মুখটা এত অচেনা লাগছে কেন? কেন ?তানি একটু একটু 
কপিছেন? তাঁর ঈষাঁ হয়েছে? এই জানষটা তো তাঁর কোনাদন 
ছিল না। এলাকে তো তিন এাঁড়য়ে ষেতেই চেয়াছিলেন। 

পোশাক পরে নিয়ে বাইরে এসে [তান থমকে দাঁড়ালেন । তাঁর 
এখন চলে যাওরা উচিত। ওরা গল্প করছে করুক। এর মৃধ্যে 
[তিনি নানান লোকের কাছে শুনেছেন ষে এ বড়ুয়ার খুব মেয়ে- 
বাতিক আছে । কোনো সংন্দরী মেয়ে পেলে ছাড়ে না। 

তান হাঁটিতে শুরু করলেন £ কিন্তু একটা প্রবল চুম্বক যেন 
তাঁকে টানছে পেছন থেকে । খুব ইচ্ছে করছে আর একবার ঘাড় 
ঘারয়ে ওদের দেখতে তবু 1তাঁন শল্তুভাবে হটিতে লাগলেন । তার 
1পঠে কার ছোঁয়া লাগতেই [তিনি চমকে উঠে বললেন, কে? 

-_ আপনি আমাদের দেখতে পেয়েও চলে যাচ্ছেন যে 2 4 

এলার মুখখানিতে কী চমৎকার সংস্বান্থ্যের তাজা ভাব। 
কলওকহীন মসৃণ, নত্পাপ মুখ । জ্ঞানবত যেন একটি বৃষ্টিভেজা 
সদ্য ফোটা ফুল দেখছেন । তান কোনো কথা বললেন না। 

--আপাঁন চলে যাচ্ছেন যে? 

জ্ঞানবডত ভাবলেন, এই মেয়েটি প্রায় তাঁর ?নজের মেয়ের 


১২০ 


বয়েসী । 1কন্তু উজ্জাঁয়নীর তুলনায় কত বেশী আভন্ঞ । মুখখানা 
যত নিষ্পাপ দেখায় । মোটেই তত 1ন্পাপ নয়। যার তার সঙ্গে 
প্রকাশ্য জায়গায় মদ খেতে যায়। গাঁয়কা [হিসেবে নাম কেনার 
জন্য পি. স. বড়ুয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে । পুরুষ মানূষদের দিকে 
এমনভাবে তাকায় যাতে সরলতার সঙ্গে মিশে থাকে লাস্য । ক্যাল- 
কাটা ক্লাবে প্রথম আলাপের দন জ্ঞানবঃতর দকেও এলা এইভাবে. 
তাকিয়ে 1ছল। 

অথবা, এসব দোষের নয়। জ্ঞানবডত পুরনো পন্হী? ব্যবসায় 
জগতে তিনি এমনভাবে জাঁড়য়ে আছেন যে পাঁথবী কতটা বদলে 
গেছে, তা তান জানেন না ? 

অনেকাঁকছ: বদলালেও ভালোবাসা, লোভ, দুঃখ, ঈষাঁ এসব 
বদলায় না। জ্ঞানবতর বুকের মধ্যে যে একটা জবালাজবালা ভাব, 
সেটা ঈষাঁ ছাড়া আর কী। 

1তাঁন ঠাণ্ডাভাবে জিজ্ঞেস করলেন, ক খবর £ 

এলা বললো, আপানি আমাদের সঙ্গে একটু বসবেন না? 

আমি একটু সাঁতার কাটতে এসেোছিল:ম । 

_-একটু বসুন। এক্ষুণ চলে যাবেন ! 

- হ্যাঁ, যেতে হবে। 

-আপনি আমায় দেখলেই এাঁড়য়ে ষেতে চানকেন, বলুন তো ? 

- ইয়ে'*তোমার সঙ্গে এখানে দেখা হয়ে যাওয়ার ক কোনো 
কথা ছিল 2 স্মতরাং এাঁড়য়ে যাবার প্রশ্ন ওঠে ক করে ? চাল। 

আর কোনো কথা বলার সুযোগ দিলেন না, এবার বেশ গট গট 
করে বোৌরয়ে গেলেন জ্ঞানবত । এলাকে প্রত্যাখ্যান করতে পেরে 
[তান বেশ তৃপ্তি পেয়েছেন । 

একট আগে তাঁর মনে হচ্ছিল, এলা মেয়েটি তাকে ঠাঁকয়েছে। 
তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে পি. বস. বড়ুয়ার সঙ্গে ভাব 
জাময়েছে, সুইমিং ক্লাবে লাণ্চ খেতে এসেছে । এবার 1তাঁন 
বুঁঝয়ে দিলেন, এ রকম কোনো মেয়ের সঙ্গে বাজে খরচ করার 


১২১ 


মতন সময় তাঁর নেই। 

1কন্তু একট? পরেই তাঁর মনের ভাব বদলে গেল আবার । 

সুইমিং ক্লাবে প্রথমে বড়ুয়ার সঙ্গে এলাকে দেখে তাঁর ঈষা 
হয়োছল, এটা অস্বীকার করতে পারেন না। তারপর এলা তাঁকে 
ডাকতে এলেও [তিনি ওদের সঙ্গে বসতে রাজ হন ীন। এতে তিনি 
তপ্ত পেয়োছলেন। তা হলে এখন আবার কম্ট হচ্ছেকেন? আঁফসে 
কোনো কাজে মন বসছে না। একটু আগে একজন সাপ্লায়ার এসে 
কী বলে গেল তা তান ভাল করে শোনেনই 1?ন। 

এলাকে [তান অপমান করেছেন । এরকম তো তাঁর স্বভাব 
নয়। কারুর সঙ্গেই 1তাঁন রুট ব্যবহার করেন না। [বিশেষত একাট 
যুবতী মেয়ের সঙ্গে এ রকম কেন হলো? 

. সন্ধ্ের পর তার ড্রাইভার ছয়টি চাইলো । দেশ থেকে তার 
কোন আগ্মীয় আসবে । তাকে আনতে হাওড়া স্টেশন যেতে হবে। 
সাহেবকে বাড়ী পেশছে দেবার পর বাক সন্ধ্যেটা ছুটি চায়। 

আফস থেকে ড্রাইভারকে ছেড়ে দিলেন জ্ঞানবত ॥। অনেকাদন 
পর তাঁন নিজে আজ গাঁড় চালাবেন। বুকে ব্যথা হবার পর 
থেকে ডান্তারের উপদেশে তিনি গাঁড় চালানো বন্ধ করে ছিলেন। 

এক, এ তিনি কোথায় যাচ্ছেন ? 1নজের ব্যবহারেই অবাক হয়ে 
যাচ্ছেন জ্ঞানব্রত। মনের কোন গভীর জায়গায় এইসব ইচ্ছে লুকিয়ে 
থাকে ? এঁদকে এলার বাঁড় । এল। একাঁদন খুব অনুরোধ কর ছিল 
তার বাড়তে [কিছুক্ষণ বসবার জন্য। 

প্রথম আলাপে এলা বলেছিল, সে ওয়াকিং গার্লস হোস্টেলে 
থাকে। তারপর সে আলাদা ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করোছিল। এলা 
তো চাকার করে না। এ সব খরচ সে চালায়াক করে? না,না, 
মেয়োটকে কোনো ক্লমেই নম্ট হতে দেওয়া চলেনা । তাঁর মেয়ে 
উজ্জীয়নী ঘাঁদ একটা সংন্দর সুস্থ জীবন পায় তা হলে এলাই বা 
পাবে নাকেন? 

এলার ঘরে গানের আওয়াজ আসছে । যাঁদ ওখানে বড়ুয়া বসে 


১২ 


থাকে ? বড়ুয়ার মতলব ভালো না, এলাকে সাবধান করে দিতে 
হবে । বড়ুয়াকেও বুঝিয়ে দিতে হবে যে, যে কোনো মেয়ের সঙ্গেই 
সে এরকম ব্যবহার করতে পারবে না। 

দরজা খুলে এলা অবাক হয়ে গেল। 

না, আর কেউ নেই, এলা একা একাই বসে গানের রেওয়াজ 
করছিল। এটা এলার 'দাঁদর ফ্ল্যাট । দাঁদ-জামাইবাবু বাইরে 
গেছেন বলে এলা কেয়ার টেকার। 

জ্ঞানন্রত ভেবোছলেন অনেক ছু বলবেন এলাকে। তান 
শুধু বললেন, এসে ব্যাঘাত সংাঁন্ট করলুম । 

-মোটেই না। শুধু ভাবাছ আমার এত সৌভাগ্যের কারণটা 
কী? 

_-তুমি গান গাইছিলে, তাই গাও, আম শুন । 

-আপাঁন একাঁদন কী একটা ফোক সঙ-এর কথা বলাছলেন। 
আম কিন্তু ফোক সঙ জান না। 

তুমি ধা জানো, তাই গাও । 

হারমোনিয়াম [নয়ে এলা খনঃসঙ্ককোচে গান ধরলো । রবান্দ্ু 
সঙ্গীত £ মধুর তোমার শেষ যে না পাই-,। 

এ গানটা জ্ঞানর্রত অনেকবার শুনেছেন । তীব্র ধারণা হয়োছিল, 
রবীন্দ্র সঙ্গীত সব পুরনো হয়ে গেছে । কিন্তু এই গানটা তো 
আবার নতুন করে ভালো লাগলো । এলার গলাটা সেরকম আহামার 
কছ; না হলেও সমশ্রাব্য । চচা করলে ও একিননাম করতে পারবে। 

_-_বাঃ, বেশ ভাল হয়েছে! 

_আম আপনার প্রশংসায় ব,বাস কার না। আপাঁন অন্য- 
মনস্ক হয়ে গিয়োছলেন । 

_না,না। 

-আম ঠিক বুঝেছি। আপনি সেই ফোক সঙটার কথাই 
ভাবাছিলেন নিশ্চয়ই । 1ক সেই গানটা ? 

_-শহরে ষোলজন বোম্বেটে করিয়ে পাগল পারা-*"লালন 


১২৩ 


ফাঁকরের গান। 

--এই গানটার াবশেষত্ব কী? 

_সে রকম কিছুই না। আম ষে গান বাজনার খুব একটা 
ভন্ত, তাও না। তবু, রেডিওতে একদিন ওই গানটা শুনে আম 
যেন কী রকম হয়ে গেলাম । আসলে আমার একটা হারয়ে বাওয়া 
বাল্যকাল আছে । কয়েকটা বছরের কথা আমার ?কছুই মনে পড়ে 
না। এই গানটা শুনে একট একটু মনে পড়লো "কুষ্টিয়ায় থাকবার 
সময় একজন ফাঁকরের মুখে আম এই গানটা শুনতাম***আমার 
দাদা মশাইয়ের কাছে আসতেন সে ফাঁকর*** মনে হয় যেন একট] 
একটু করে সব মনে পড়বে এবার***। অবশ্য এত সব মনে পড়া 
ভালো নয়। 

-কেন ভালো নয়? 

- মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে ইদানীং, জীবনটা যাঁদ আবার নতুন 
করে শুর করা যেত ! 

-_-এ রকম িন্তা আপনার মাথায় কে ঢোকালো ? আপান 
একজন সাকসেসফুল মানুষ, কোনো'দিকেই অভাব নেই । 

_তব; তো মনে হয়। 

- আপনার বাড়তে একজন গায়ককে এনে রেখেছেন, তাই না? 

- হা'**তুমি কী করে জানলে ? 

এলা এবার চোখ 1টপে দুষ্টু মেয়ের মতন হাসলো । তারপর 
বললো, জাঁন'"*খবর রাখতে হয়""*আম আপনার সম্পকে অনেক 
[কছু জান। 

_-আমার তো কোনো গোপন কথা নেই । 

_-সৈই গায়কের সঙ্গে আমার আলাপ কাঁরয়ে দিন না। আ'ম 
তা হলে কয়েকটা ফোক সঙ শিখে নিতে পার । আপাঁন যখন 
এসব গান এত ভালোবাসেন । 

হঠাৎ উৎসাহত হয়ে উঠে জ্ঞানব্রত বললেন, হাঁ নিশ্য়ই দেবো । 
শোনো আম সে কথাটাই তোমাকে বলতে এসোছি। তুমি আজে- 


১২৪ 


বাজে লোকদের সঙ্গে ঘুরো না। তুম মন 'দয়ে গান শেখো। 
আম সব ব্যবস্থা করে দেবো । আম যাঁদ মাসে মাসে তোমাকে 
ধরো হাজার দেড়েক টাকা দই, তাতে তোমার খরচ চলে যাবে 2 

--অথাঁৎ আপাঁন আমাকে রাঁক্ষতা রাখতে চান ? 

কথাটা ঠিক একটা বুলেটের মতই জ্ঞানব্রতর বূকে লাগলো । 
ফ্যাকাশে হয়ে গেল তাঁর মুখ । 

_-তুমি, তুমি আমাকে এই রকম কথা বললে ! 

- আপনার কথার ক এরকম মানে হয় না? আপান শুধু 
শুধু আমাকে প্রত্যেক মাসে অত টাকা দেবেন কেন ? 

_মানুষ ক মানুষকে সাহায্য করে না? 

- এদেশে ক গরীব গায়কের অভাব আছে 2 আপাঁন আমায় 
সাহায্য করতে চাইছেন***আম একটা মেয়ে বলেই তো ? তা ছাড়া 
বৌদ ?ক ভাববেন? 

_বৌদ? 

--আপনার স্রী*শতানি যাঁদ জানতে পারেন যে আমার মতন 
এক মেয়েকে আপান প্রত্যেক মাসে এতগুলো টাকা দিচ্ছেন, তা 
হলে তিনি, এ আম যা বললুম, ঠিক সেই কথাই ভাববেন। 

একটা বিমর্ষ দীর্ঘ*বাস ফেলে জ্ঞানব্রত বললেন, আমার ভুল 
হয়েছে । আমায় ক্ষমা করো । 

1তাঁন উঠে দাঁড়াতেই এলা তাঁর কাছে এসে বললো, আপনার 
মুখ দেখলেই বোঝা যায়, আপাঁন মানুষটা খুবই ভালো । সাত্য- 
কারের ভালো । 

-আঁম তোমায় অপমান করতে চাইনি। 

যেন জ্ঞানব্রতই বয়েসে অনেক ছোট এইভাবে এলা গায়ে হাত 
বলয়ে সান্বনার ভাঙ্গতে বললো, তা আমি ঠিকই বুঝেছি । 
আপাঁন মনে দুঃখ পেলেন নাক ? 

জ্ঞানরত আর ছু না বলে এলার মুখের 1দকে তাঁকয়ে 
রইলেন। 


১৫ 


_-আপাঁন যা ভাবছেন, আমার অবস্থা ততটা খারাপ নয়। 
আমার টাকা পয়সার গছ ব্যবস্থা আছে। আমার বাবা রেখে 
গেছেন । তবে যে যেমন মনে করে, মেয়েদের একটা বয়স হলেই 
বয়ে করে সংসার করা উীচত, সেইটাই সুখী জীবন, আম কিন্তু 
তা মনে কার না। আম গান বাজনা নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে 
চাই। যার সঙ্গে ইচ্ছে হবে মলবো, ইচ্ছে না হলে মলবো না। 

_আম যাই? 

_কেন? হঠাৎ উঠে পড়লেন যে। 

জ্কানব্র৩র একটা হাত 1নয়ে এল নজের গালেছ*ইয়ে বললো, 
বুঝেছি আমার ও কথাটার জন্য আপাঁন আঘাত পেয়েছেন । আম 
1কন্তু মজা করে বলোছি। 

মজা ? কোনো মেয়ে নিজের সম্পর্কে এরকম একটা শব্দ প্রয়োগ 
করে মজা করতে পারে 2 জ্ঞানব্রতর সব ছুই যেন গ্ালয়ে 
যাচ্ছে। 

এরপর 1তাঁন যা করলেন, সেরকম কিছ? করবার কথা একট. 
আগেও তান স্বপ্নেও ভাবেন নি। 

এলা এত কাছে, তার শরশরের উষ্ণতা, তার সানধ্যের ঘাণ 
যেন জ্জনত্রতকে অন্য সব কু ভুলিয়ে দল। তানি দু'হাতে 
জাঁড়য়ে ধরলেন এলাকে। 

এলা একটুও আপাতত করলো না। পাখ যেমন তার বাসায় 
[গয়ে বসে সেইরকমভাবে এলা জ্ঞানত্রতর বুকের আশ্রয়ে 1নশ্চিন্ত 
রইলো । 

জ্কানব্রত যেন অন্য মানুষ । তিনি 1ফসাফস করে জিজ্দেস 
করলেন, তোমায় একটু আদর কার ? 

এলা উচু করলো তার মুখটা । জ্জানত্রত তার ঠোঁটে ঠোঁট 
ছোঁয়াতেই এলা বার করলো তার [জিভ। অথাঁং চুম্বনটা যেন 
দায়সারা ঠকংবা সধাক্ষপ্ত না হয়। 

সেই সময়টাতেও জ্ঞানব্রত এ কথা চন্তা না করে পারলেন না 


১৬ 


যে তাঁর মেয়ে উজ্জায়নীকেও এ রকম একজন বয়স্ক লোক জড়িয়ে 
ধরে চুমু খেতে পারে । উজ্জায়নও কি এলার মতন এত সব 
জানে ! পি. 1স বড়ুয়াকে [তান মনে মনে নন্দ কর ছিলেন, বড়ুয়া 
সুযোগ সন্ধানী । কোনো সুন্দরী মেয়ে দেখলেই"*৭ [তানও 1ক 
নরালায় সুযোগ নিয়ে এলাকে 

তক্ষুণ জ্ঞানব্রত নিজেকে ছাড়িয়ে নলেন। তাঁর মুখ লাল 
হয়ে গেছে। 

এরপর দু'দন মন থেকে সমন্ত অন্য রকম শচন্তা বাদ গদয়ে 
জ্ঞানব্রত শুধ কোম্পানীর কাজে মেতে রইলেন। যেন তিনি 
ীনজেকে শান্ত দতে চান । 

কন্তু তাঁর পুরী যাওয়া হলো না। 

তাঁর কারখানায় দুটি ইউাঁনয়ন। এর মধ্যে যে ইউাঁনয়নাটি 
বেশী শান্তশালী, তারা হঠাৎ বনা মেঘে বন্ত্রপাতের মতন ধর্মঘটের 
নোটিশ দল । এ সময় জ্ঞাতবতর বাইরে যাওয়া চলে না। অবশ্থা 
এখনো হাতের বাইরে চংল যায় ন। আপোষ আলোচনায় মিটিয়ে 
নেওয়া যেতে পারে । 

সুজাতা তৈরণ হয়েই আছে । তাকে নিরাশ করা যায় না। 
জ্ঞানবওত নজেই প্রস্তাব দিলেন, স:জাতা একাই চলে যাক । হোটেল 
তো বুক করাই আছে, কোনো অসবধে হবে না। যদ কয়েক- 
দনের মধ্যে মিটে যায়, তাহলে জ্ঞানবডত চলে যাবেন । 

সুজাতা বললো, তাই যাই । দীপ্ত ফোন করোছিল, ওরাও এই 
শানবারে পুরণ যাচ্ছে । এ একই হোটেলে উঠবে। 

দপ্তর স্বামী মনীশ তালুকদার সুজাতাকে ছেলেবেলা থেকে 
চেনে । জ্ঞানবত পরে জানতে পেরেছিলেন যে বিলেতে এ মনা'শ 
ছিল সুজাতার এক নম্বর প্রোমক। অবশ্য তখন মনীশ ছিল 
মৌমাছি স্বভাবের, 1বয়ের কে মন ছিল না। এই ধনয়ে জ্ঞানত্রত 
কতবার মদ ঠাট্টা করেছেন সুজাতাকে । 

_-বেশ তো; ভালোই হবে তা হলে । ওদের সঙ্গে তুমি বেড়াতে 


১২৭ 


টেড়াতে পারতে । 

সুজাতা চলে যাবার দহদন বাদে এলা টেলিফোন করে জানালো, 
আপনি তো আলাপ কাঁরয়ে দলেন না। আম 'কন্তু 'নজেই 
আলাপ করে 1নয়োছি শশীকান্ত দাসের সঙ্গে । 

জ্কানব্রত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় আলাপ হলো ? 

- রেডিও স্টেশনে | চমৎকার মানুষ । এত সরল আর অনেক 
গানের "ক। 

সহ 

_-উাঁন কলকাতা শহরের কিছুই চেনেন না। কালআ'ম ও'কে 
ভিক্টোরিয়া মেমো রিয়ালের ভেতরটা দোখয়ে আনলম । 

_-ও! 

- আম কিন্তু এ 'শহরে ষোলজন বোম্বেটে গানটার প্রথম 
কয়েক লাইন এর মধ্যে তুলে নিয়োছ। 

-আচ্ছা ঃ 

জ্ঞানব্রত ভেবোছলেন এলার সঙ্গে তান কোনদিন দেখা করবেন 
না। কিন্তু টোলফোনটা ছাড়বার পরই তাঁর মনে হলো, কই এলা 
তো একবারও বললো না, আবার কবে দেখা হবে, [কিংবা আমাদের 
বাড়তে আসবেন ! 

একই সঙ্গে কাজের ব্যস্ততা আর অন্যমনস্কতা । কাজ তো 
করতেই হবে, অথচ প্রত্যেক দন জ্ঞানব্রতরমনে পড়ছে এলার কথা । 
ছুটে যেতে ইচ্ছে করে এলার বাঁড়তে । মেয়েটা ক তাঁকে জাদ; 
করেছে? এতগুলো বছরে জ্ঞান্রতর কখনো পদস্খলন হন নি, 
আর এখন এ একাট মেয়ের জন্য ! সুজাতার কাছে তান অপরাধ 
করছেন। 

পুরীতে দীপ্তির চোখে ধুলো দিয়ে মনীশ কি স:জাতার সঙ্গে 
গোপন ঘানঘ্ঠতা করতে চাইবে না? এ সুযোগ ?ক মনীশ ছাড়বে ? 
দপ্তর চেহারাটা হঠাৎ বাুঁড়য়ে গেছে, সেই তুলনায় সুজাতার 
শরীরের বাঁধান এখনো কত সহন্দর | 


১৮ 


সুজাতা কি আগেই জানতো যে মনীশরা এই সময় পরাতে 
যাবে! সেই জন্যই ওর পুরশীতে যাওয়ার এত উৎসাহ ? 

শশীকান্তর সঙ্গে বেশ কয়েকদিন দেখা হয়নি জ্ঞানব্রতর ! 
একই বাঁড়তে থাকলেও সুযোগ হয় না। দেখা হলো রাস্তায় । 

জ্ঞানব্রত কারখানায় যাঁচ্ছলেন। পাশ ৭দয়ে বোরয়ে গেল 
একটা ট্যাক্সি । সেই ট্যাক্সিতে এলা আর শশবকান্ত । হাতে জঙলন্ত 
1সগারেট, শশণকান্তের চুল পাঁরপাটি ভাবে আঁচ ঢানো, এলার সঙ্গে 
হেসে হেসে কথ। বলছে । সেই হাসি আর চোখের দ্াষ্ট অন্যরকম । 
জ্গানব্রত পাঁরহ্কার দেখতে পেলেন শশী কান্তের চোখে-মুখে এলার 
জাদু । 

তাঁর বুকের মধো দুক দক শব্দ হতে লাগলো । কঠিন হলো 
চোয়াল । শশশীকান্ত তাঁর আশ্রত, সামান্য একটা গ্রাম্য লোক, তার 
এতটা বাড়াবাঁড় ! কোথায় যাচ্ছে এখন % এই 1দকেই এলার বাঁড়। 
শশীকান্তর উচিত ছল না একবার জ্ঞানব্রতর কাছ থেকে অনুমতি 
নেবার ? 

ট্যাক্সটা এখনো চোখের আড়ালে যায় নি, জ্ঞানব্রত তাঁর ড্রাই- 
ভারকে বললেন, সোজা চলো । 

যেমন ভাবেই হোক এলাকে রক্ষ। করতে হবে। যার তার সঙ্গে 
এমন ভাবে এলার মেলামেশা কোনোক্মেই চলতে পারে না। এলার 
ফাঁকা ক্্যাটে এই সময় শশীকান্তকে 1নয়ে যাচ্ছে কেন ? গান শেখার 
জন্য-_এই দুপুরবেলা 2 শশীকান্ত গ্রামের লোক । এলার মতন 
মেয়েদের সঙ্গে ওর মেলামেশার অভ্যেস নেই, মাথা [ঠক রাখতে 
পারবে না! 

একটা চৌরাপ্তার মোড়ে এসে ড্রাইভার 1জজ্জেন করল, এবার 
কোন 1দকে? 

এক মৃহ্‌তে'র জন্য যেন জ্ঞানর্তর রন্তু চলাচল থেমে গেল। 
কোন দিকে কথাটা যেন একেবারে নাঁড়য়ে দিল তাঁর চৈতন্য ॥ এ 
তান ক করছেন? এলাকে শাসন করতে গেলে যাঁদ আবার সে 


অ/স-৯ ১২৯ 


এক্াটা মর্মভেদী কথা ছুড়ে দেয়? সোঁদন এলা বলোছল, সে 
স্বাধীন থালতে চায় । যার সঙ্গে খুশী তার সঙ্গে মিশবে ১ এলা 
তো তাঁর নিজস্ব সম্পান্ত নয়। কারখানায় ইউাঁনয়নের সাথে তাঁর 
একটা গুরুতর বৈঠক বসবার কথা এখন, আর 1তনি ছুটছেন 
একটা মেয়ের পেছনে । 

পুরীতে মনীশ যাঁদ সঃজাতাকে"ন মন্গীশ ঠিক ?নভৃত 
সুযোগ করে নেবে, ও এখনও রীতিমতন প্লেবয় ধরনের । নবাঁভল 
গাঁটিতে 1তাঁন দেখেছেন মনীশ পরস্তীদের [পিঠে হাত রাখে। 
1কন্তু সুক্গ।তাক রাজ হবে ? 1তাঁন যাঁদ গোপনে এলার বাড়ীতে 
[গলে তাকে চুমু খেতে পারেন তা হলে সুজাতাই বা কেন" 
উজ্জীয়ন কাল রাত এগারোগর সময় বাঁড় ফিরেছে । এত রাত 
পর্যন্ত ও কোথায় থাকে, কর সপে মেশে । জ্ঞানব্রতরই মতন অন্য 
কোনো লোক যাঁদ উজ্জ।য়নর মতন একটা অব্প বয়েসী মেয়ের 
এন জয় করতে চায় £ 

জ্ঞানগ্র 5 একবার ভাবলেন । সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে এলাকে 
[নয়ে ন$নভাবে আবার জীবন শুরু করলে হয় না? 

তারপরেই ভাবলেন, না, না। এ ষোলজন বোম্বেটেকে সব 

[শ্ছ লুটেপুটে নিতে দেওয়া হবে না। আটকাতে হবে। মাথা 

দক রাখতে হবে। & 

1তা, কড়। গলায় ড্রাইভারকে ?শলেন, কোন খদকে আবার £ 
রোজ যোঁদকে যাই সোদত্ে যাবো! 

জীবনের পণ্0াশটা বছর শোৌঁররে এসেছেন জ্ঞানবরত । তাঁর সব 
রাস্ত। (নদিম্ট ২য়ে গেছে । এখন আর অন্য কোনো [দিকে ফেরা 
যাবে না।